গর্ভধারণের পূর্বেই দম্পতির এমন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, যা প্রজনন স্বাস্থ্যের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে
গর্ভধারণের পূর্বেই দম্পতির এমন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, যা প্রজনন স্বাস্থ্যের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে

গর্ভধারণের কত মাস আগে, কোন ধরনের পুষ্টি উপাদানগুলোর দিকে নজর দেবেন

অনেকেই জানেন না যে গর্ভধারণের ছয় মাস থেকে এক বছর আগ থেকেই বিশেষ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রি-কনসেপশন পুষ্টি শুধু মায়ের স্বাস্থ্যই নয়, ভবিষ্যৎ শিশুর সারা জীবনের স্বাস্থ্য গঠনের ভিত্তি তৈরি করে। এমনকি গবেষণা প্রমাণ করছে—সঠিক পুষ্টি ফার্টিলিটি বা সন্তান ধারণক্ষমতা বাড়ায় ৪০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত।

প্রি-কনসেপশন পুষ্টি বলতে বোঝায় গর্ভধারণের পূর্বেই এমন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, যা প্রজনন স্বাস্থ্যের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। শুধু নারী নয়, পুরুষের পুষ্টিও এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর গুণগত মান নির্ভর করে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজের ওপর। হরমোনের ভারসাম্যের জন্য দরকার সঠিক চর্বি ও আমিষ। জিনের স্বাভাবিক এক্সপ্রেশনের জন্য প্রয়োজন ফোলেট, ভিটামিন বি১২–এর মতো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট।

গর্ভধারণের আগ থেকেই বিশেষ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ

এক গবেষণায় (ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ, ২০২২) দেখা গেছে, যেসব দম্পতি তিন-ছয় মাস প্রি-কনসেপশন পুষ্টি মেনে চলেছেন, তাঁদের গর্ভধারণের সক্ষমতা ৩৫ শতাংশ বেশি এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি ২৮ শতাংশ কম।

এখন জেনে নিন গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার সময় কোন ধরনের পুষ্টি উপাদানগুলোর দিকে নজর দেবেন। 

ফলিক অ্যাসিড: নিউরাল টিউব ডিফেক্ট প্রতিরোধ করে, ডিএনএ সংশ্লেষণে সাহায্য করে। সবুজ শাক (পালং, লালশাক), মটরশুঁটি, কমলা, ডিম, গরুর কলিজা ইত্যাদিতে থাকে। দৈনিক চাহিদা: ৪০০-৮০০ মাইক্রোগ্রাম।

আয়রন: রক্ত উৎপাদন, ডিম্বস্ফোটন নিয়ন্ত্রণ করে। আয়রনের উৎস কচুশাক, ডালিম, মাংস, মসুর ডাল, তিল ইত্যাদি। ভিটামিন সি যুক্ত খাবার (আমলকী, লেবু) সঙ্গে খেলে আয়রনের শোষণ বাড়ে।

ওমেগা-৩ ও ফ্যাটি অ্যাসিড: হরমোনের ভারসাম্য, ডিম্বাণুর গুণগত মান উন্নয়ন করে। এটি সামুদ্রিক মাছ (ইলিশ, স্যামন), আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড, চিয়াসিড ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।

ভিটামিন ডি: প্রজনন হরমোন উৎপাদন, ইমিউন সিস্টেম রেগুলেশনে কাজ করে। বাংলাদেশে শহুরে নারীদের ৬০ শতাংশ ভিটামিন ডি ঘাটতিতে ভুগছেন। ভিটামিন ডি সূর্যালোক, ডিমের কুসুম, দুধে পাবেন।

অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট (ভিটামিন ই, সি, সেলেনিয়াম): শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর ক্ষতি রোধ করে। আমলকী, বেরি, বাদাম, রসুন, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদিতে পাবেন।

জিঙ্ক: শুক্রাণুর গুণগত মান, ডিম্বস্ফোটন চক্র ঠিক রাখে। গরুর মাংস, কুমড়ার বিচি, ছোলা, দুগ্ধজাত পণ্যতে পাবেন। 

কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হবে

পুরুষের ফার্টিলিটির জন্য অত্যন্ত জরুরি জিঙ্ক, যা শুক্রাণুর গতিশীলতা বাড়ায়। ভিটামিন সি শুক্রাণুর ডিএনএ সুরক্ষা করে। সেলেনিয়াম শুক্রাণু উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। পুরুষদের জন্য বিশেষ ফার্টিলিটি খাবার  হচ্ছে কুমড়ার বিচি, তিল, সামুদ্রিক মাছ, রসুন, ডিম ইত্যাদি।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

ট্রান্স ফ্যাট (বেকারির পণ্য, ফাস্ট ফুড), তরল চিনি, অতিরিক্ত ক্যাফেইন, প্রক্রিয়াজাত মাংস ইত্যাদি।