কেউ কেউ বলেন, দই খেয়ে পানি খেতে নেই। আবার অনেকে দইয়ের সঙ্গে পানি মিশিয়ে মজাদার পানীয়ও তৈরি করেন। আদতে দইয়ের সঙ্গে পানি খাওয়া কি ক্ষতিকর? এ বিষয়ে ঢাকার ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফ হোসেন খান এবং টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম।

হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাধারণত যেকোনো খাবার খাওয়ার ১৫-২০ মিনিট পরে বা ১৫-২০ মিনিট আগে পানি বা অন্যান্য তরল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ইফতারে অল্প সময়ের মধ্যে খাবার ও পানি খাওয়া হয় বলে তখন এই দুয়ের মধ্যে ব্যবধান ঠিক রাখাটা মুশকিল হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে দই পুষ্টিকর খাবার, সহজপাচ্যও বটে। ইফতারে স্বাস্থ্যকর পদ হিসেবে দই-চিড়ার মতো খাবার রাখা খুব ভালো অভ্যাস। সে সময় কি দই খাওয়ার আগে-পরে পানি খেলে খুব বেশি ক্ষতি হয়? জেনে নেওয়া যাক।
দইয়ে থাকে প্রোবায়োটিক। প্রোবায়োটিক হলো উপকারী জীবাণু। কেউ কেউ ধারণা করেন, দইয়ের সঙ্গে পানি খাওয়া হলে দই স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত হজম হয়ে যায়। অর্থাৎ, দই পর্যাপ্ত সময় পেটে থাকে না। তাই এই প্রোবায়োটিক সঠিকভাবে আমাদের অন্ত্রের উপকারে না-ও আসতে পারে।
তবে এর পুরোটাই ধারণামাত্র। এ ধরনের কোনো বিষয় গবেষণায় প্রমাণিত নয়। অর্থাৎ, আপনি দইয়ের সঙ্গে পানি খেলে আদতে দইয়ের কোনো উপকার থেকে বঞ্চিত হবেন না। এ ছাড়া দইয়ের সঙ্গে পানি খেলে সাধারণত অন্য কোনো সমস্যাও হয় না।
তার মানে আপনি চাইলে দই খাওয়ার পরপরই পানি খেতে পারেন। কিংবা দইয়ের সঙ্গে পানি মিশিয়ে পানীয় তৈরি করেও খেতে পারেন।
দই খাওয়ার পরপরই পানি খেলে অধিকাংশ মানুষের কোনো সমস্যা হবে না। কেবল যাঁদের হজমের সমস্যা খুব বেশি, তাঁদের জন্য দই ও তরল খাবারের মধ্যে ১৫-২০ মিনিট ব্যবধান রাখা প্রয়োজন। তবে তাঁদের ক্ষেত্রেও দই আর পানি ভালোভাবে মিশিয়ে পানীয় তৈরি করে খেতে বাধা নেই।
দই ছাড়া অন্যান্য খাবার খাওয়ার পর অবশ্যই ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করে তরল গ্রহণ করা উচিত। আগে পানি বা তরল খাবার খেয়ে পরে খাবার খেতে চাইলেও এ ব্যবধান বজায় রাখা উচিত। ইফতারের সময় এই ব্যবধান বজায় রাখতে আপনি মাগরিবের নামাজের আগে এবং পরের সময়টাকে ভাগ করে নিতে পারেন।
তবে ইফতার কিংবা সারা দিনের অন্য কোনো বেলায় যদি আপনি ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল বা মসলা দেওয়া অন্যান্য খাবার খান, তাহলে কিন্তু হজমের সমস্যায় পড়তে পারেন খুব সহজে।
এ ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় দই থাকলে সেটির জন্য হজমের সমস্যা হচ্ছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং অতিরিক্ত তেল ও মসলায় রান্না করা খাবারের পরিমাণ কমিয়ে আনার দিকে মনোযোগী হোন।