স্টিভেন জনসন সিনড্রোম একধরনের টাইপ ফোর হাইপার সেনসিটিভিটি রিঅ্যাকশন, যা প্রতি দশ লাখ মানুষের মধ্যে এক থেকে ছয়জনের হতে পারে।
এ সিনড্রোমে চোখ, ত্বক ও মুখগহ্বরে ক্ষত তৈরি হয়। অন্ত্র, শ্বাসনালির ভেতরও এমন ক্ষত তৈরি হতে পারে। আক্রান্ত হতে পারে লিভার, কিডনিও। ক্ষত তৈরির মাধ্যমে ত্বক থেকে প্রচুর পানি চলে যাওয়ার কারণে তৈরি হয় পানিশূন্যতা। ত্বকের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সেখানে সংক্রমণ হয়। পরে তা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
সাধারণত কোনো ভাইরাস সংক্রমণ বা কোনো ওষুধ খাওয়ার পর অতি সংবেদনশীলতা থেকে স্টিভেন জনসন সিনড্রোম হয়ে থাকে।
নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক, ইউরিক অ্যাসিড কমানোর ওষুধ, খিঁচুনি প্রতিরোধের ওষুধ, সালফার আছে এমন ওষুধে এ সিনড্রোম হতে পারে।
চিকিৎসা দ্রুততম সময়ে শুরু করতে হবে। শিরাপথে স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড, চোখের ড্রপ এবং আক্রান্ত অঙ্গের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দরকার হয়।
সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে হতে পারে পানিশূন্যতা, সেপসিস, অন্ধত্ব, লিভার/কিডনি/মাল্টি অরগান ফেইলিওর।
সতর্কতা
নিজে থেকে কখনো কোনো ওষুধ খেতে যাবেন না।
কখনো কোনো ওষুধে যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসককে সেটা অবহিত করুন।
একই সঙ্গে ত্বক, চোখ, ঠোঁট ও মুখগহ্বর আক্রান্ত হলে প্রচুর পানি করুন ও দ্রুত চিকিৎসা নিন।
ডা. রোজানা রউফ: সহযোগী কনসালট্যান্ট, মেডিসিন বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল