বর্ষায় এই ২ সংকটে তাৎক্ষণিক যা করতে হবে

বর্ষায় বাংলাদেশ যেমন সুন্দর হয়ে ওঠে, তেমনি জলাবদ্ধতা, বন্যা, বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। এসব জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাতে সময়মতো সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা জানা অত্যন্ত জরুরি।

বর্ষায় নদীনালা, পুকুর বা রাস্তায় জমে থাকা পানিতে শিশুরা ডুবে যেতে পারে
ছবি: প্রথম আলো

বর্ষায় বাংলাদেশ যেমন অপরূপ হয়ে ওঠে, আবার কিছু রোগের প্রকোপও বাড়ে। এই সময়েই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা, বন্যা, হয় বজ্রপাত। বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট হয়ে পড়ে বিপজ্জনক রকমের পিচ্ছিল, সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়, বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা জানা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ অনেক সময় বড় ধরনের বিপদ বা মৃত্যুঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।

পানি থেকে তোলার পরপরই রোগীর শ্বাস বন্ধ থাকলে এভাবে দ্রুত কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস বা সিপিআর শুরু করতে হবে

পানিতে ডুবে গেলে

বর্ষায় নদীনালা, পুকুর বা রাস্তায় জমে থাকা পানিতে শিশুরা ডুবে যেতে পারে। বড়রাও স্রোতের টানে বা ঝরনার পানিতে তলিয়ে যান। পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান।

কী করবেন

  • পানি থেকে তোলার পরপরই রোগীর মুখ ও নাক পরিষ্কার করে শ্বাসনালি সচল করুন।

  • অচেতন কিন্তু শ্বাস নিচ্ছে, এমন রোগীকে একপাশে কাত করে শুইয়ে দিন। এতে পেটের পানি মুখ দিয়ে সহজে বের হয়ে আসবে, শ্বাসনালি পরিষ্কার হবে।

  • আর শ্বাস যদি বন্ধ থাকে, তবে দ্রুত কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস বা সিপিআর শুরু করতে হবে। বুকের মাঝখানে হাত রেখে (হাত সোজা থাকবে) প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার গতিতে চাপ দিতে থাকুন এবং প্রতি ৩০ বার চাপের পর মুখ দিয়ে ২ বার করে শ্বাস দিন।

  • দ্রুত হাসপাতালে নিতে চেষ্টা করুন। কারণ, ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ার কারণে পরে ‘সেকেন্ডারি ড্রাউনিং’-এর ঝুঁকি থাকে।

ভেজা রাস্তায় পা পিছলে পড়ে হাত-পা ভাঙা, মচকে যাওয়া বা আঘাত পাওয়ার ঘটনাও খুব হয়

পিছলে পড়ে যাওয়া

এই সময়ে রাস্তায় পা পিছলে পড়ে হাত-পা ভাঙা, মচকে যাওয়া বা আঘাত পাওয়ার ঘটনাও খুব হয়। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক হতে পারে।

কী করবেন

  • পড়ে যাওয়ার পর রোগীকে হুট করে টেনে তুলে দাঁড় করানোর চেষ্টা করবেন না। আঘাত কোথায় লেগেছে, তা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।

  • যদি হাত বা পা মচকে যায়, তবে ‘রাইস’ (আরআইসিই) পদ্ধতি অনুসরণ করুন। এই আরআইসিই মানে হলো বিশ্রাম (রেস্ট), বরফ দেওয়া (আইস), ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ দিয়ে হালকা পেঁচিয়ে রাখা (কমপ্রেশন) এবং অঙ্গটি একটু উঁচুতে রাখা (ইলিভেশন)।

  • আঘাতের জায়গাটা ভালো করে সাবানপানিতে পরিষ্কার করে নিন, নয়তো পরে ইনফেকশন হতে পারে।

  • যদি সন্দেহ হয় হাড় ভেঙে গেছে, তবে শক্ত কোনো কাঠ বা কার্ডবোর্ড দিয়ে স্থানটি হালকাভাবে ব্যান্ডেজ করে স্পিন্ট করুন। এতে হাড় নড়াচড়া করলেও ক্ষতি কম হবে। ব্যান্ডেজ অবশ্যই হালকাভাবে করতে হবে।

  • মাথায় বা মেরুদণ্ডে আঘাত পেলে রোগীকে যতটা সম্ভব কম নড়াচড়া করিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।