স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংসে দুটি ভোকাল কর্ড থাকে, যার কম্পনের মাধ্যমে আমরা কথা বলি
স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংসে দুটি ভোকাল কর্ড থাকে, যার কম্পনের মাধ্যমে আমরা কথা বলি

কণ্ঠনালিতে ক্যানসার কেন হয়, কীভাবে বুঝবেন

স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংসে দুটি ভোকাল কর্ড থাকে, যার কম্পনের মাধ্যমে আমরা কথা বলি। ল্যারিংস বা ভোকাল কর্ড আক্রান্ত হলে গলাব্যথা, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কণ্ঠনালিতে জন্মগত সমস্যা, প্রদাহ, পলিপ, টিউমার বা ক্যানসার হতে পারে। 

কণ্ঠনালির ক্যানসারের অন্যতম কারণ ধূমপান। এ ছাড়া মদ্যপান, জর্দা, সাদাপাতা, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া, কণ্ঠনালির অতি ব্যবহার ইত্যাদিও ক্যানসারের অন্যতম কারণ। 

উপসর্গ

কণ্ঠস্বরের আকস্মিক পরিবর্তন, যা ভালো হচ্ছে না বা ১৫ দিনের বেশি স্থায়ী হচ্ছে, শ্বাসকষ্ট, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, ঢোক গিলতে অসুবিধা, গলা ফুলে যাওয়া বা গলার গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া। আক্রান্ত রোগীর কান ব্যথাও হতে পারে। কারণ, একই নার্ভ কান ও কণ্ঠনালির সঙ্গে সংযুক্ত। 

চিকিৎসা কী

প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ নির্ণয় করা গেলে প্রায় সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু রোগ শনাক্ত হতে দেরি হলে খুব বেশি সুফল পাওয়া যায় না। যদি কারও দুই সপ্তাহের বেশি গলার স্বর পরিবর্তন বা ভাঙা থাকে বা এই স্বর পরিবর্তন ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, তবে অবশ্যই নাক, কান ও গলা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ফাইবার অপটিক ভিডিও ল্যারেংগসকপির মাধ্যমে সহজে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। হিস্টোপ্যাথলজি করলে ক্যানসার শনাক্ত করা যায়। 

রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি ও অপারেশনের মাধ্যমে কণ্ঠনালির ক্যানসারের চিকিৎসা করা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হলে রেডিওথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করানো হয়। শেষ পর্যায়ে এলে অপারেশন করতে হয়। অপারেশনের পর কথা বলার জন্য আলাদা ব্যবস্থা নিতে হয়। যেমন কৃত্রিম স্বরযন্ত্রের সংযোজন অথবা খাদ্যনালির মাধ্যমে কথা বলা, যা বিশেষ ব্যায়ামে শেখানো হয়।


অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী, ইএনটি বিভাগ, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকা