তিসির বীজ ওজন কমাতে তো বটেই, রক্তের কোলেস্টেরল এবং সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক। দুইভাবে গ্রহণ করা যায় এই বীজ—গোটা ও গুঁড়া হিসেবে। সবচেয়ে বেশি উপকার কোনটায়? টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম।

তিসিবীজে আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। আরও আছে কিছুটা আমিষ ও শর্করা। অবশ্য উদ্ভিজ্জ উৎস হওয়ায় এতে আমাদের দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব অ্যামাইনো অ্যাসিড নেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতে ক্যালরির মাত্রা খুব কম। এতে আছে কিছুটা আঁশও।
এক টেবিল চামচ তিসির বীজ থেকে আপনি পাবেন—
মাত্র ৫৫ ক্যালরি
আমিষ মিলবে দুই গ্রামের কাছাকাছি
আঁশ পাবেন প্রায় তিন গ্রাম
একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির রোজ ৩০ গ্রামের মতো আঁশ প্রয়োজন। এর একটা অংশ আসতে পারে তিসির বীজ থেকে। আপনি যখন পর্যাপ্ত আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাবেন, তখন ওজন নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটাই সহজ হবে।
সাধারণত যে সাদা আটার রুটি আমরা খাই, তাতে আঁশের পরিমাণ খুব কম। অথচ খাবারে যদি পর্যাপ্ত আঁশ থাকে, তাহলে খাবার হজম হতে সময় বেশি লাগে। তাই—
হুট করে ক্ষুধা লাগে না।
রক্তের সুগার চট করে বেড়েও যায় না।
পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করলে খাবার হজম হয় ঠিকঠাক।
কোষ্টকাঠিন্য এড়ানো সহজ হয়।
রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে আঁশ।
তিসির বীজে আঁশ তো আছেই, আরও আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। অর্থাৎ, রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতেও এটি সরাসরি সাহায্য করে। বুঝতেই পারছেন, হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এই বীজ।
এর আমিষও বেশ কাজে আসে। যেসব খাবার থেকে অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়, সেসবের সঙ্গে যোগ করা হলে তিসির বীজের আমিষের গুণগত মান আরও বাড়ে।
তিসির বীজের বাইরের আবরণ বেশ শক্ত। তাই গোটা তিসির বীজ সহজপাচ্য নয়। অর্থাৎ, গুঁড়া করে খেলে বীজের ভেতরের সব পুষ্টি উপাদান সহজে দেহের কাজে লাগে।
গুঁড়া করা তিসির বীজ অনায়াসেই আপনি যোগ করে নিতে পারেন রোজকার খাদ্যতালিকায়। তবে অভ্যাস না থাকলে কম পরিমাণ দিয়েই শুরু করুন। পরে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়াতে পারবেন।
রুটির জন্য আটা মাখানোর সময় সঙ্গে যোগ করতে পারেন তিসিবীজের গুঁড়া।
টক দই কিংবা ওটসের সঙ্গে তিসিবীজের গুঁড়া যোগ করা যায়।
সালাদ, স্যুপ, স্মুদি, মিল্কশেক প্রভৃতি তৈরির সময়ও দেওয়া যায় এই বীজের গুঁড়া।
কুকি, মাফিন প্রভৃতি তৈরির সময়ও তাতে যোগ করতে পারেন।
যাঁরা ডিম খান না, তাঁদের জন্য এ ধরনের পদে ডিমের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে তিসিবীজের গুঁড়া।
ভাপে তৈরি খাবারের ওপরও ছড়িয়ে দিতে পারেন।
পানি বা ফলের রসে মিশিয়েও খাওয়া যায়। তবে তা খুব একটা সুস্বাদু নয়।