হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

হামের সংক্রমণ থামেনি, চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীকে যেসব খাবার দিতে হবে

দেশে হাম পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। এখনো বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ হচ্ছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ; যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়ায়। জ্বর, কাশি, চোখ লাল, শরীরে লালচে র‍্যাশ বা দানা, খেতে না চাওয়া ও দুর্বলতা—এসব উপসর্গ শিশুকে দ্রুত পানিশূন্যতা ও অপুষ্টির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসার পাশাপাশি সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা রোগীর দ্রুত সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সহজপাচ্য, পুষ্টিকর ও উপসর্গভিত্তিক খাবার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

এদিকে চিকেন পক্স বা জলবসন্তও শিশুদের একটি পরিচিত ভাইরাসজনিত রোগ। হাম ও পক্সে আক্রান্ত শিশুদের জ্বর, শরীরে দানা, মুখে ঘা ও দুর্বলতার কারণে খাবার খেতে সমস্যা হয় এবং এরা অপুষ্টিতে ভোগে।

ভাইরাসজনিত রোগে জ্বরের কারণে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে

করণীয়

ভাইরাসজনিত রোগে জ্বরের কারণে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই রোগীকে বারবার পানি ও তরল খাবার দিতে হবে। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ওরস্যালাইন, স্যুপ, ভাতের মাড়, পাতলা খিচুড়ি—এসব খাবার শরীর ঠান্ডা রাখতে ও শক্তি ফেরাতে সাহায্য করে।

অনেক সময় চিকেন পক্সে মুখের ভেতর ঘা হয়। আবার ফ্লু, মাম্পস, টনসিলাইটিস বা ফ্যারিনজাইটিস হলে খাবার গিলতে কষ্ট হয়। তাই এ সময় শক্ত বা ঝাল খাবার এড়ানো উচিত। ঠান্ডা দুধ, দই, কাস্টার্ড, পুডিং, সুজি, কলা, নরম খিচুড়ি—এগুলো গলায় আরাম দেয়, সহজে খাওয়া যায়।

ক্ষুধামান্দ্য হলে অল্প অল্প করে বারবার খাবার দিন। এ ক্ষেত্রে ফলের স্মুদি, দুধ, পুডিং, স্যুপ, দই, ফলের পিউরি ভালো বিকল্প।

দুর্বলতা কাটাতে দরকার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, দুধ, আলু, খিচুড়ি খাদ্যতালিকায় রাখুন।

চিকেন পক্সে ডাবের পানি খাওয়ানো উপকারী

চিকেন পক্সে শরীরে প্রচণ্ড চুলকানি হতে পারে। এ সময় রোগীকে প্রচুর পানি, ডাবের পানি, শসা, তরমুজ, দই খাওয়ানো উপকারী। তবে অতিরিক্ত ঝাল খাবার, ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয় এড়াতে হবে।

ডায়রিয়া বা বমি হলে ওরস্যালাইন, ভাত, কলা, আলু ও স্যুপ দিন। তেল ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে।

পরামর্শ

রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখুন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। অল্প অল্প করে বারবার খাবার দিন। জ্বর বেশি হলে বা পানি কম খেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নখ ছোট রাখুন, যাতে ঘষা না লাগে।

ফারজানা ওয়াহাব, পুষ্টিবিদ, আলোক হাসপাতাল লিমিটেড