নেহা ধুপিয়া কীভাবে ১২ মাসে ২৩ কেজি ওজন কমালেন? নিজেই জানালেন বিস্তারিত

দুই সন্তানের মা বলিউড তারকা নেহা ধুপিয়া সম্প্রতি দ্য হলিউড টাইমস ইন্ডিয়ায় তাঁর প্রসবপরবর্তী ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। গত এক বছরে তিনি প্রায় ২৩ কেজি ওজন কমিয়েছেন। এই শারীরিক পরিবর্তন শুধু তাঁর স্বাস্থ্যের ওপরই ইতিবাচক প্রভাব ফেলেনি; বরং তাঁর মানসিক সুস্থতা ও পেশাগত জীবনেও পরিবর্তন এনেছে।

নেহা জানিয়েছেন, প্রতিবার গর্ভাবস্থায় তাঁর ওজন প্রায় ২৩–২৫ কেজি পর্যন্ত ওজন বেড়েছিল।
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

৪৫ বছর বয়সী নেহা জানিয়েছেন, প্রতিবার গর্ভাবস্থায় তাঁর ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ খানিকটা বেড়ে যেত। সাধারণত প্রসবের পর প্রায় ১৭ কেজি পর্যন্ত ওজন বাড়তে পারে। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে প্রতিবার প্রায় ২৩–২৫ কেজি পর্যন্ত ওজন বেড়েছিল।

মেয়ে মেহরের জন্মের পর করোনাকালে লকডাউনের সময় নেহা বাড়িতে থেকে খাবারের ক্যালরি কমিয়ে ওজন কিছুটা কমাতে পেরেছিলেন। কিন্তু এর পরপরই আবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। ফলে প্রায় চার বছর তাঁর ওজন বারবার ওঠানামার মধ্যে ছিল। তবে সন্তান জন্মের পর নিজের চেহারা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত ছিলেন না।

দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পরও নেহা সঙ্গে সঙ্গে ওজন কমানোর দিকে মন দেননি

দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পরও নেহা সঙ্গে সঙ্গে ওজন কমানোর দিকে মন দেননি। নেহা জানান, তিনি তাঁর দুই সন্তানকেই এক বছর করে বুকের দুধ খাইয়েছেন। এ সময় তাঁর ক্ষুধা বেশি লাগলেও শরীরে শক্তির মাত্রা কম থাকত। তাই তখন সন্তানদের যত্নই ছিল তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।

ওজন কমানোর পর কাজের সুযোগও বেড়েছে

নেহার কাছে এই পরিবর্তন শুধু শারীরিক নয়, পেশাগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ

নেহার কাছে এই পরিবর্তন শুধু শারীরিক নয়, পেশাগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, ওজন কমানোর পর নিজেকে অনেক হালকা, ঝরঝরে আর আত্মবিশ্বাসী মনে করছেন। পোশাক পরার ক্ষেত্রেও এখন তিনি আগের চেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আলমারিতে বছরের পর বছর বন্দী থাকা পুরোনো সব পোশাকই আবার নতুন করে পরতে পারছেন।

কীভাবে ১ বছরে ২৩ কেজি ওজন কমালেন

ওজন কমানোয় নেহার পদ্ধতিটি কোনো কঠোর বা চরম ডায়েটের ওপর নির্ভরশীল ছিল না

নেহার পদ্ধতিটি কোনো কঠোর বা চরম ডায়েটের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। খাবারের ক্ষেত্রে সচেতন হয়েছেন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করেছেন। চিনি, ভাজাপোড়া খাবার ও গ্লুটেন বাদ দিয়েছেন।

এ ছাড়া নেহা দৌড়াতে ভালোবাসেন। পাশাপাশি মাঝেমধ্যে জিমেও যান। তবে খুব কঠোর কোনো ওয়ার্কআউট রুটিন অনুসরণ করেন না।

নেহা দৌড়াতে ভালোবাসেন, পাশাপাশি মাঝেমধ্যে জিমেও যান

খুব কম ক্যালরির ডায়েট করেন না। নেহা সন্ধ্যা ৭টার দিকে সন্তানদের সঙ্গে রাতের খাবার খান এবং পরদিন বেলা ১১টার দিকে স্বামীর সঙ্গে নাশতা করেন। তবে এই সময়সূচি মূলত তাঁর জীবনযাপনের স্বাভাবিক অংশ। ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করার জন্য নয়।

মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়েছে

নেহার মতে, ওজন কমানোর সবচেয়ে বড় সুফল শুধু আয়নায় নিজের পরিবর্তন দেখা নয়; বরং মানসিকভাবে আরও ভালো আর নির্ভার অনুভব করা

নেহার মতে, ওজন কমানোর সবচেয়ে বড় সুফল শুধু আয়নায় নিজের পরিবর্তন দেখা নয়; বরং মানসিকভাবে আরও ভালো আর নির্ভার অনুভব করা।

এখন নেহা নিজেকে অনেক বেশি সুস্থ আর আত্মবিশ্বাসী মনে করেন। মায়েদের উদ্দেশে নেহা বলেন, ‘প্রসবপরবর্তী ওজন ঝরানো নিয়ে তাড়াহুড়া করবেন না। নিজেকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করবেন না। সন্তান জন্মের পর শরীরকে ধকল সামলে আস্তেধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় দিন। এ ক্ষেত্রে নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া সবচেয়ে জরুরি। বিশেষ করে যখন সমাজ ও চারপাশের মানুষের কাছ থেকে শরীর ও চেহারা নিয়ে নানা ধরনের চাপ আসে।’

বলিউডে আর কারা সন্তান জন্মের পর উল্লেখযোগ্য ওজন কমিয়েছেন?

স্বামী রাজ কুন্দ্র ও ছেলে ভিয়ানের সঙ্গে শিল্পা শেঠি

ছেলে ভিয়ান জন্মের সময় শিল্পা শেঠির ওজন প্রায় ৩২ কেজি বেড়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি প্রায় ৩ মাসে ২১ কেজি কমিয়েছিলেন। তাঁর পদ্ধতির মধ্যে ছিল যোগব্যায়াম, শরীরচর্চা ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ।

দুই সন্তানের সঙ্গে সোনম কাপুর ও আনন্দ আহুজা

ছেলে বায়ুর জন্মের পর সোনম কাপুর প্রায় ২০ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছিলেন, তখন ১৬ মাসে ২০ কেজি ওজন ঝরিয়েছিলেন।

তবে…

স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে নেহা

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকে ১ বছরে ২৩ কেজি কমানোকে ‘টার্গেট’ হিসেবে অনুসরণ করা উচিত নয়। প্রসবের পর প্রত্যেক নারীর শরীর, হরমোন, স্তন্যদান, ঘুম, স্বাস্থ্য ও মেটাবলিজম আলাদা। একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ও নিরাপদে ওজন কমানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: দ্য হলিউড টাইমস ইন্ডিয়া