
যাঁদের হরমোনজনিত (এন্ডোক্রাইন) রোগ আছে, তাঁদের পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখার আগে কিছু বিষয় জানা জরুরি। রোগের ধরন ও নিয়ন্ত্রণের ওপর ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
বেশির ভাগ স্থিতিশীল থাইরয়েড রোগী নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ থাইরয়েড রোগীর ক্ষেত্রে রোজায় ওষুধের বড় পরিবর্তন দরকার হয় না।
থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ সাধারণত খাবার গ্রহণের অন্তত আধা ঘণ্টা আগে খালি পেটে খেতে হয়। তাই রোজায় সাহ্রির আগে সময় মিলিয়ে এ রোগীদের ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে হরমোনের মাত্রা একটু ওঠানামা করতে পারে। কিন্তু বেশির ভাগ সময় গুরুতর সমস্যা হয় না।
এড্রিনাল ইনসাফিসিয়েন্সি (যেমন এডিসনস ডিজিজ) থাকলে রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, দীর্ঘ সময় না খাওয়া ও পানি না পান করলে শরীরে স্টেরয়েডের ঘাটতি তৈরি হয়ে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এমন রোগীরা রোজা রাখতে চাইলে আগে থেকেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। এ ধরনের রোগীদের নিয়মিত স্টেরয়েড ওষুধ খেতে হয়। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে স্টেরয়েডের মাত্রা ও নতুন সময়সূচি ঠিক করে নেবেন। কোনোভাবেই ওষুধ বাদ দেওয়া যাবে না।
পিটুইটারি বা অন্যান্য হরমোন রোগে সিদ্ধান্ত রোগভেদে আলাদা হয়। বিশেষ করে যদি শরীরে পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের সমস্যা থাকে, তাহলে দীর্ঘ সময় পানি না খেলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোজার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানের আগে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করলে জটিলতা অনেক কমানো সম্ভব।
● সাহ্রিতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।
● ইফতারে অতিরিক্ত ভাজা বা মিষ্টি কম খাওয়া।
● ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা।