ভালো থাকুন

শীতে জয়েন্টের ব্যথা বাড়ে কেন

শীতে স্বাভাবিক জনজীবনে ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে প্রবীণ ও শিশুরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বেশি। এর সঙ্গে আছেন বাতব্যথার রোগীরা। শীতকালে তাঁরাও বেশি সমস্যায় পড়েন। শীতকাল এলে অনেকের অস্থিসন্ধির ব্যথা বেড়ে যায়। বিশেষ করে হাঁটু, কোমর, ঘাড়, কাঁধ ও হাত-পায়ের ছোট জয়েন্টে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, বাত রোগ, পুরোনো আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে শীতকালে অস্থিসন্ধির ব্যথা ও জড়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এর পেছনে পরিবেশগত পরিবর্তন ও জীবনযাপনের কিছু পদ্ধতিগত পরিবর্তন দায়ী।

শীতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে শরীরের রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়। এর ফলে জয়েন্ট ও আশপাশের মাংসপেশিতে রক্তসঞ্চালন কমে যায়, যা ব্যথা ও অস্বস্তি বাড়ায়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় অস্থিসন্ধির ভেতর সিনোভিয়াল তরল কিছুটা ঘন হয়ে যায়, ফলে জয়েন্টের স্বাভাবিক মসৃণ নড়াচড়া ব্যাহত হয়। এ ছাড়া শীতে মানুষ তুলনামূলক কম হাঁটাচলা ও ব্যায়াম করেন, যার কারণে অস্থিসন্ধি শক্ত হয়ে যায় এবং ব্যথা আরও বাড়ে। বাতাসের আর্দ্রতা ও বায়ুচাপের পরিবর্তনও অনেক ক্ষেত্রে জয়েন্টের ব্যথা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

শীতকালে সতর্কতা

শীতকালে অস্থিসন্ধির ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সঠিক চিকিৎসা ও যত্ন অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত; জয়েন্ট ও শরীর উষ্ণ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। গরম কাপড় ব্যবহার করা, হাঁটু বা কোমরে উষ্ণ বেল্ট পরা ও ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা উপকারী। ব্যথাযুক্ত জয়েন্টে নিয়মিত গরম সেঁক দিলে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং ব্যথা কমে।

নির্দিষ্ট ব্যায়াম

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শীতে জয়েন্টের ব্যথা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। আলট্রাসাউন্ড থেরাপি, শর্টওয়েভ ডায়াথার্মি, ইন্টারফেরেনশিয়াল থেরাপি (আইএফটি), ট্রান্সকিউটেনিয়াস ইলেকট্রিক্যাল নার্ভ স্টিমুলেশন (টিইএনএস) ও নির্দিষ্ট জয়েন্টভিত্তিক ব্যায়াম জয়েন্টের জড়তা কমিয়ে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত স্ট্রেচিং ও হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম অস্থিসন্ধির চারপাশের মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে এবং ব্যথা কমায়।

ওষুধ

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যাথানাশক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ বা প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট (যেমন ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি) নেওয়া যেতে পারে। তবে নিজে নিজে ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। কিছু ক্ষেত্রে জয়েন্টে ইনজেকশন বা বিশেষ চিকিৎসাও প্রয়োজন হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাস

খাদ্যাভ্যাস অস্থিসন্ধির স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শাকসবজি, ফল ও বাদাম নিয়মিত খাওয়া উচিত। পর্যাপ্ত পানি পান করলে জয়েন্টের লুব্রিকেশন বজায় থাকে। অতিরিক্ত ওজন অস্থিসন্ধির ওপর চাপ বাড়ায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

  • এম ইয়াছিন আলী, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা