ভালো থাকুন

কনুইব্যথার কারণ ও চিকিৎসা

কনুইব্যথা বা এলবো পেইন একটি সাধারণ ও পরিচিত সমস্যা। নানা কারণে কনুইয়ে ব্যথা হতে পারে। এসব কারণ এবং এ সমস্যার চিকিৎসা সম্পর্কে আসুন জেনে নেওয়া যাক:

  • চোট বা আঘাত: পড়ে যাওয়া, সরাসরি আঘাত লাগা থেকে হাড় ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে কনুইয়ে।

  • টেন্ডিনাইটিস: এটি প্রদাহজনিত সমস্যা। এটি নানা রূপে দেখা দিতে পারে, যেমন টেনিস এলবো। এটি কনুইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার ও বেশি পরিশ্রম বা কুনইয়ের বাইরের পেশির ওপর চাপ পড়ার কারণে হয়। আবার গল্ফার এলবো হয় কনুইয়ের ভেতরের দিকের পেশিতে বেশি চাপ পড়ার কারণে।

  • আর্থ্রাইটিস: অস্থিসন্ধির প্রদাহজনিত রোগ, বিশেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস কনুইকেও আক্রান্ত করতে পারে।

  • বার্সাইটিস: কনুইয়ের জয়েন্টের বারসা বা তরলভরা থলি ফুলে গেলে বা প্রদাহ হলে বুঝতে হবে বার্সাইটিস হয়েছে।

  • স্নায়ুর সমস্যা: হাতের পেছনের দিকের আলনা স্নায়ুর ওপর চাপ পড়লে কনুইসহ হাতে ব্যথা বা অসাড়তা হতে পারে।

  • ফ্র্যাকচার বা হাড় ভেঙে যাওয়া: আঘাতের কারণে হাড় ভেঙে গিয়েও কনুইয়ে ব্যথা হয়।

লক্ষণ

কনুইয়ের ব্যথা মৃদু থেকে তীব্র হতে পারে এবং নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। পুরো হাতেও ছড়াতে পারে এটি।

  • কনুইয়ের চারপাশ ফুলে যেতে পারে।

  • কনুই বাঁকানো বা সোজা করতে কষ্ট হয়।

  • অসাড়তা বা ঝিনঝিন অনুভূতি। বিশেষ করে স্নায়ুর সমস্যায় এ রকম মনে হয়।

চিকিৎসা

  • প্রাথমিক চিকিৎসা (আরআইসিই পদ্ধতি): কনুইকে বিশ্রাম দিন এবং ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন। ব্যথার স্থানে ১৫ থেকে ২০ মিনিট বরফ দিন, দিনে ৩ থেকে ৪ বার। ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ দিয়ে কনুইয়ে হালকা পেঁচিয়ে রাখুন। হাত উঁচু করে রাখুন, যাতে ফোলা ভাব কমে।

  • ওষুধ: ব্যথা কমাতে সেবন করা যায় প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেনজাতীয় ব্যথানাশক। আর্থ্রাইটিস থাকলে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে কর্টিকোস্টেরয়েড সেবন করা যায়।

  • ফিজিওথেরাপি: মাংসপেশি ও স্নায়ুর ব্যথা কমানোর পাশপাশি কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ফিজিওথেরাপি খুবই কার্যকর।

  • ইনজেকশন: টেনিস বা গল্ফার এলবোতে কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে।

  • অস্ত্রোপচার: যদি হাড় ভেঙে যায়, স্নায়ুর চাপে সমস্যা হয় বা আর্থ্রাইটিস গুরুতর হয়, তবে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

সতর্কতা ও প্রতিরোধ

  • অতিরিক্ত ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন।

  • কাজের সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখুন।

  • পেশির শক্তি বাড়াতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

  • ক্রীড়া বা অন্যান্য কাজের আগে হালকা অনুশীলন বা ওয়ার্মআপ করুন।

ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা কোনো জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

এম ইয়াছিন আলী, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা