প্রবীনদের হাত–পা কাঁপাতে পারে নানা কারণে
প্রবীনদের হাত–পা কাঁপাতে পারে নানা কারণে

হাত কাঁপা মানেই কি পারকিনসনস

হাত কাঁপলে আমাদের মনে প্রথম যে রোগটির নাম আসে, তা হলো ‘পারকিনসনস ডিজিজ’। হাত কাঁপাকে এই জটিল স্নায়বিক রোগের প্রধান ও একমাত্র লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, বিশেষ করে বয়স বাড়লে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে হাত কাঁপার অসংখ্য কারণ আছে এবং কাঁপুনি মাত্রই পারকিনসনস নয়। কাঁপুনি বা ‘ট্রেমর’ আসলে কী এবং কখন এটি চিন্তার কারণ হতে পারে, তা জানা জরুরি।

হাত কাঁপার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ‘এসেনশিয়াল ট্রেমর’। এটি সাধারণত বংশগত হতে পারে। পারকিনসনের সঙ্গে এর মূল পার্থক্য হলো, এসেনশিয়াল ট্রেমর সাধারণত কোনো কাজ করার সময় পরিলক্ষিত হয়। যেমন: গ্লাসে পানি ঢালা, চামচ দিয়ে খাওয়া বা লিখতে যাওয়ার সময় হাত কাঁপা। অন্যদিকে পারকিনসনস রোগের কাঁপুনিকে বলা হয় ‘রেস্টিং ট্রেমর’। অর্থাৎ হাত যখন স্থির বা বিশ্রামে থাকে, তখন এটি বেশি কাঁপে, কিন্তু কোনো কাজ শুরু করলে বা ফিজিওথেরাপির সময় কাঁপুনি খানিকটা কমে যায়।

পারকিনসনের অন্যান্য উপসর্গ

কেবল হাত কাঁপা দিয়েই পারকিনসনস শনাক্ত করা যায় না। এই রোগের সঙ্গে আরও কিছু স্নায়বিক পরিবর্তন ঘটে থাকে, যেমন:

ধীরগতি: হাঁটাচলা বা দৈনন্দিন কাজ খুব ধীর হয়ে যাওয়া।

মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া: হাত-পা নাড়াতে কষ্ট হওয়া বা আড়ষ্টতা বোধ করা।

ভারসাম্যহীনতা: সোজা হয়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে সমস্যা হওয়া এবং বারবার পড়ে যাওয়ার প্রবণতা।

হাতের লেখার পরিবর্তন: লেখার অক্ষরগুলো ছোট হয়ে আসা।

হাত কাঁপার আরও কিছু কারণ: পারকিনসনস ছাড়াও আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের নানা কারণে হাত কাঁপতে পারে, যেমন

অতিরিক্ত ক্যাফেইন: খুব বেশি চা বা কফি পানের ফলে স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে হাত কাঁপতে পারে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা ভয়ের সময় শরীরে অ্যাড্রেনালিন হরমোন বেড়ে যায়, যা কাঁপুনি তৈরি করে।

থাইরয়েড সমস্যা: হাইপার-থাইরয়েডিজম বা থাইরয়েড হরমোনের আধিক্য থাকলে হাত কাঁপার সমস্যা হয়।

রক্তে শর্করা কমে যাওয়া: রক্তে সুগারের মাত্রা কমে গেলে শরীর কাঁপতে শুরু করে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু নির্দিষ্ট মানসিক রোগের ওষুধ বা অ্যাজমার ইনহেলারের কারণেও সাময়িক কাঁপুনি হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি দেখেন কাঁপুনি আপনার দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করছে, বিশ্রামের সময়ও হাত কাঁপছে, কথা জড়িয়ে যাচ্ছে কিংবা হাঁটাচলায় ভারসাম্য রাখতে পারছেন না, তখন দেরি না করে একজন নিউরোলজিস্ট বা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

হাত কাঁপা কোনো রোগ নয়, বরং এটি বড় কোনো সমস্যার উপসর্গ মাত্র। তাই সঠিক রোগনির্ণয় ছাড়া অহেতুক আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজনভেদে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অধিকাংশ কাঁপুনিই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ডা. হিমেল বিশ্বাস, ক্লিনিক্যাল স্ট্যাফ, নিউরোলজি বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা