গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ১৬-২২ শতাংশ কোনো না কোনো মাত্রার দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগে আক্রান্ত, যাঁদের একটি বড় অংশই তা জানেন না
গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ১৬-২২ শতাংশ কোনো না কোনো মাত্রার দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগে আক্রান্ত, যাঁদের একটি বড় অংশই তা জানেন না

বাংলাদেশে কিডনির রোগ বাড়ছে কেন? সবচেয়ে কার্যকর সমাধান জেনে রাখুন

আজ ১২ মার্চ বিশ্ব কিডনি দিবস। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ১৬-২২ শতাংশ কোনো না কোনো মাত্রার দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগে আক্রান্ত, যাঁদের একটি বড় অংশই তা জানেন না। আসুন এই দিনে জেনে নিই কীভাবে আমরা কিডনি সুস্থ রাখতে পারি।

কিডনি-স্বাস্থ্য এখন একটি জাতীয়, বৈশ্বিক ও পরিবেশগত জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। বিশ্বে প্রতি ১০ জনে একজন মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগে (ক্রনিক কিডনি ডিজিজ) আক্রান্ত। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ১৬-২২ শতাংশ কোনো না কোনো মাত্রার দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগে আক্রান্ত, যাঁদের একটি বড় অংশই তা জানেন না।

কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না। ফলে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে, যখন কিডনি প্রায় অকার্যকর। তখন রোগীর সামনে একটাই পথ খোলা থাকে: ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন।

বাংলাদেশে বর্তমানে ৪০-৫০ হাজার রোগীর ডায়ালাইসিস প্রয়োজন, অথচ নিয়মিত ডায়ালাইসিসের সুযোগ পাচ্ছেন এর অর্ধেকের কম।

বাংলাদেশে কিডনির রোগ কেন বাড়ছে?

বাংলাদেশে কিডনির রোগ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বড় কারণ। বর্তমানে দেশের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং দেশে প্রায় ২৫ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক লোক উচ্চ রক্তচাপের রোগী। তাঁদের অধিকাংশ মানুষই জানেন না যে তাঁরা এসব ব্যাধি পুষে বেড়াচ্ছেন। 

আগেভাগে শনাক্তকরণই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান

কিডনির রোগ আগেভাগে শনাক্ত করা গেলে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। রক্তচাপ মাপা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন পরীক্ষা, রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও রক্তে শর্করা—এই সাধারণ ও কম খরচের পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমেই ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের শনাক্ত করা যায়।

বাংলাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে যদি নিয়মিত কিডনির স্ক্রিনিং যুক্ত করা যায়, তাহলে হাজার হাজার মানুষকে ডায়ালাইসিসের ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মাতৃস্বাস্থ্য ও অসংক্রামক রোগ কর্মসূচির সঙ্গে কিডনি পরীক্ষা যুক্ত করা হলে খরচ কমবে এবং কার্যকারিতা বাড়বে।

আমাদের করণীয়

● কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালকের তীব্র গরমে, প্রখর রোদে কাজের ফাঁকে নিরাপদ পানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা বা কৃষক শেড নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যসচেতন করা। 

● কিডনির রোগ প্রতিরোধ ও আগেভাগে শনাক্তকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

● ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিয়মিত স্ক্রিনিং চালু করা।

● কিডনি সুস্থ রাখার ‘৮টি সোনালি নিয়ম’ সর্বস্তরে প্রচার করা; যেমন পর্যাপ্ত পানি পান, রক্তচাপ ও সুগার নিয়ন্ত্রণ, লবণ ও অতিরিক্ত চিনি বর্জন, ধূমপান ও মদ্য পান ত্যাগ, সুষম খাদ্য গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ, ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণে সতর্কতা, নিয়মিত কিডনির স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ, প্রফেসর অব নেফ্রোলজি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি