
ইফতারের পর অনেকের চা খাওয়ার ইচ্ছা হয়। এই চা-ই হয়ে উঠতে পারে হজমসহায়ক পানীয়। আবার ভুল চায়ে বাধতে পারে বিপত্তিও। কোন চা খাবেন ইফতারের পর? এ সম্পর্কে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ও পুষ্টিবিদ অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান-এর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম।
ইফতারের পর অবসন্নতা পেয়ে বসতে পারে সহজেই। সারা দিনের ক্লান্তি দূর করতে চা দারুণ এক পানীয়। বিশেষ করে আপনার যদি বিকেলে বা সন্ধ্যায় চা খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে ইফতারের পর চা না খেলে খারাপ লাগতে পারে।
ইফতারে ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মসলা দেওয়া খাবার খাওয়ার পর পেটে অস্বস্তি হতে পারে যে কারও। এমন সমস্যা সমাধানে ঘরোয়া টোটকা হিসেবে খেতে পারেন বিশেষ কিছু চা।
মৌরি চা, দারুচিনি চা, পুদিনাপাতার চা, ক্যামোমাইল চা, এমনকি সাদামাটা আদা চা-ও হজমে সহায়তা করতে পারে। প্রশান্তি মিলবে। এ ধরনের একাধিক উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়েও তৈরি করতে পারেন চা। উপকার মিলবে। ভেষজ উপকরণ দিয়ে তৈরি করা চায়ে নানা রকম অ্যান্টি–অক্সিডেন্টও পাবেন। এগুলো দেহের জন্য ইতিবাচক।
তবে দুধ চা খাবেন না। ইফতারের পর তো নয়ই, অন্য সময়ও দুধ চা এড়িয়ে চলা উচিত। দুধ চা হজমসহায়ক নয়, বরং হজমের গন্ডগোলের কারণ হতে পারে।
খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চা খাওয়া ঠিক নয়। চায়ের কারণে খাবারের কিছু পুষ্টি উপাদান দেহে শোষণের ক্ষেত্রে বাধা পেতে পারে। তাই খাবার খাওয়ার অন্তত ঘণ্টাখানেক পর চা খাওয়া উচিত।
যেকোনো চা চিনি ছাড়াই খাওয়ার অভ্যাস করুন। মনে রাখবেন, চিনি মানেই বাড়তি ক্যালরি। চিনির কারণেই বাড়ে নানা রকম স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিনি ছাড়া চা খেতে বেশি কষ্ট হলে একেবারেই সামান্য পরিমাণ মধু দিতে পারেন চায়ে। কৃত্রিম চিনি এড়িয়ে চলুন। গুড়ের চা-ও নিয়মিত না খাওয়াই ভালো।
ইফতারের পর অতিরিক্ত পরিমাণ চা খেতে নেই। তাহলে রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত চা খেলে প্রস্রাব বেশি হয়, তাতে শরীর সহজে পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। আর রাতে ঘুমের মধ্যে প্রস্রাব করতে উঠতে হলে সেটিও ঝক্কির ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
খুব গরম চা না খেয়ে উষ্ণ চা খেতে পারেন। স্বস্তি পাবেন।