পুরুষদের প্রতিদিন প্রায় ২৫ গ্লাস পানি পান করা উচিত
পুরুষদের প্রতিদিন প্রায় ২৫ গ্লাস পানি পান করা উচিত

পানি খাওয়ার কথা মনে থাকে না? সহজ ৯ কৌশল জেনে নিন

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি খাওয়ার কথা মনে থাকে। কিন্তু এরপর? অফিসের কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলেন, একের পর এক ফোনকল, মিটিং, কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘ সময় বসে থাকা—এর মধ্যে কখন যে দুপুর গড়িয়ে যায়, টেরই পান না। হঠাৎ মনে হয়, আজ বোধ হয় ঠিকমতো পানিই খাইনি। পর্যাপ্ত পানি খাওয়া সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ও রক্তচাপ বজায় রাখা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে পানি ভূমিকা রাখে। কিন্তু এসব জানার পরও পর্যাপ্ত পানি খেতে অনেকে ভুলে যান। তবে ৯টি সহজ কৌশল জানলে প্রতিদিন পানি খাওয়ার কথা আর ভুলে যাবেন না।

১. আপনার কতটুকু তরল প্রয়োজন, তা বুঝে নিন

বেশি পানি খাওয়ার আগে নিজের শরীরের কতটুকু তরল প্রয়োজন, তা জেনে নেওয়া জরুরি। প্রতিদিন ১.৮৯ লিটার বা ৮ গ্লাস পানি খাওয়ার একটি প্রচলিত পরামর্শ আছে। তবে এই পরামর্শের পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব মেডিসিন (ন্যাম) পুরুষদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩.৬৯ লিটার (২৫ গ্লাস) এবং নারীদের জন্য প্রায় ২.৬৬ লিটার (সোয়া ১১ গ্লাস) তরল গ্রহণের পরামর্শ দেয়। এর মধ্যে পানি ছাড়াও অন্যান্য পানীয় ও খাবার থেকে পাওয়া তরলও অন্তর্ভুক্ত।

তবে ন্যাম এটা স্বীকার করে, সবার জন্য একই পরিমাণ তরল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া আদর্শ নয়। শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা, কোথায় বসবাস করছেন, আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যের অবস্থা—বিভিন্ন বিষয়ের ওপর শরীরের তরলের প্রয়োজন নির্ভর করে।

বেশির ভাগ মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য যতটুকু পানি খাওয়া দরকার, ততটুকু খেলেই শরীরের প্রয়োজন মিটতে পারে। তবে যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, বাইরে কাজ করেন বা গরম আবহাওয়ায় কাজ করেন, তাঁরা বেশি পানি খেতে পারেন।

২. প্রতিদিনের লক্ষ্য ঠিক করুন

প্রতিদিন কতটুকু পানি খাবেন, তার একটি লক্ষ্য ঠিক করলে নিয়মিত পানি খাওয়ার অভ্যাস সহজ হতে পারে। তবে লক্ষ্যটি হওয়া উচিত ‘স্মার্ট’ (SMART—Specific, Measurable, Attainable, Realistic, Time-bound)। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য, অর্জনযোগ্য, বাস্তবসম্মত ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে। যেমন প্রতিদিন ৯৬০ মিলিলিটার বা প্রায় ৪ গ্লাস পানি খাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করতে পারেন। কতটুকু পানি খেলেন, তা লিখেও রাখতে পারেন, এতে নিজের অগ্রগতি বোঝা যাবে এবং ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হবে।

বাইরে বের হওয়ার সময় পানির বোতল নিতে যেন ভুল না হয়

৩. সঙ্গে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল রাখুন

বাইরে বের হওয়ার সময় মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও চাবির সঙ্গে পানির বোতলও প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকায় রাখুন। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায়, দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় কাছে পানি না থাকলে পর্যাপ্ত তরল পান করা কঠিন হতে পারে।

তাই সঙ্গে একটি পানির বোতল রাখলে প্রয়োজনমতো পানি খাওয়া সহজ হয়। বোতলটি পানি খাওয়ার কথাও মনে করিয়ে দিতে পারে। ডেস্ক বা টেবিলের ওপর রাখা বোতলটি চোখে পড়লেই পানি খাওয়ার কথা মনে হতে পারে।

৪. রিমাইন্ডার ব্যবহার করুন

পানি খাওয়ার কথা মনে রাখতে ফোন, স্মার্টওয়াচ বা অন্য কোনো অ্যাপে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখতে পারেন। যেমন প্রতি ৩০ মিনিট পর কয়েক ঢোঁক পানি খাওয়া কিংবা প্রতি ঘণ্টায় গ্লাসের পানি শেষ করে আবার ভরে নেওয়ার জন্য অ্যালার্ম দিতে পারেন। বিশেষ করে কাজের ব্যস্ততায় যাঁরা পানি খাওয়ার কথা ভুলে যান, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর হতে পারে।

৫. প্রতিবার খাবারের আগে এক গ্লাস পানি খান

প্রতিবার খাবারের আগে এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন

প্রতিবার খাবারের আগে এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। দিনে তিনবার খাবারের আগে পানি খেলে অতিরিক্ত তিন কাপ বা প্রায় ৭২০ মিলিলিটার তরল গ্রহণ করা হবে। কখনো কখনো তৃষ্ণাকে ক্ষুধা মনে হয়। তাই খাবারের আগে এক গ্লাস পানি খেলে সত্যিই ক্ষুধা পেয়েছে, নাকি তৃষ্ণা লেগেছে, তা বোঝা সহজ হবে।

৬. পানিতে অন্য স্বাদ যোগ করুন

পানি খেতে একঘেয়ে লাগলে এতে ফলের স্বাদ যোগ করতে পারেন। যেমন লেবু, শসা, স্ট্রবেরি বা পছন্দের অন্য ফল পানিতে দিতে পারেন। বাজারে পানির স্বাদ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পাউডার বা তরল উপাদানও পাওয়া যায়। তবে এসবে চিনি, কৃত্রিম মিষ্টি বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে। তাই লেবু, শসা বা ফলের মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করাই ভালো।

৭. কর্মস্থলে প্রতি ঘণ্টায় এক গ্লাস পানি

আপনি অফিসে প্রতি ঘণ্টায় এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। অফিসে পৌঁছে গ্লাসে পানি নিন। এরপর প্রতি ঘণ্টার শুরুতে আগের গ্লাসের পানি শেষ করে আবার গ্লাস ভরে নিন। এভাবে পানি খেলে পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে।

৮. সারা দিন অল্প অল্প করে পানি খান

একবারে অনেক পানি না খেয়ে সারা দিন অল্প অল্প করে পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। ডেস্কে বা হাতের কাছে পানির বোতল রাখুন। চোখে পড়লেই কয়েক ঢোঁক পানি খান। এতে নিয়মিত পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে। এভাবে পানি খেলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া কমতে পারে এবং মুখের দুর্গন্ধ কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

ঘুম থেকে উঠে পান করতে হবে এক গ্লাস পানি

৯. ঘুম থেকে উঠে ও ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি

পানি খাওয়ার অভ্যাস বাড়ানোর আরেকটি সহজ উপায় হলো ঘুম থেকে ওঠার পর এক গ্লাস এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে আরেক গ্লাস পানি খাওয়া। সকালে ঠান্ডা পানি খেলে অনেকেরই ঘুম কেটে যায়। আর ঘুমানোর আগে পানি খেলে রাতে মুখ শুকিয়ে যাওয়া ও নিশ্বাসে দুর্গন্ধ হওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।


সূত্র: হেলথলাইন