এ সময় চিকেন পক্স বা জলবসন্তের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়
এ সময় চিকেন পক্স বা জলবসন্তের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়

চিকেন পক্স বা জলবসন্ত নিয়ে ৮ প্রশ্ন ও উত্তর

শীত প্রায় শেষ, বসন্ত আসছে। এ সময় চিকেন পক্স বা জলবসন্তের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এ বিষয়ে ৮ প্রশ্ন ও উত্তর জেনে রাখুন।

১. কীভাবে হয়?

ভ্যারিসেলা জোস্টার ভাইরাস দিয়ে জলবসন্ত বা চিকেন পক্স হয়, যা অত্যন্ত ছোঁয়াচে।

২. কাদের হয়?

এটি সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে বড়রাও আক্রান্ত হতে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, যেমন অন্তঃসত্ত্বা নারী; ক্যানসার আক্রান্ত বা কেমোথেরাপি পাচ্ছেন, এমন রোগী; অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে চিকেন পক্স হলে জটিলতা বাড়তে পারে।

৩. কীভাবে ছড়ায়?

ভ্যারিসেলা জোস্টার অত্যন্ত ছোঁয়াচে। ড্রপলেট ইনফেকশন বা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি–কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়। আবার আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বাসনকোসনের মাধ্যমেও অপর ব্যক্তি আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি শরীরে জীবাণু প্রবেশ থেকে শুরু করে খোসা ঝরে যাওয়া পর্যন্ত এ রোগ ছড়াতে থাকে।

জ্বর, গায়ে ব্যথা, দুর্বল লাগা, গা ম্যাজম্যাজ করা—এমন কিছু উপসর্গ দিয়ে শুরু হয় চিকেন পক্স

৪. উপসর্গ কী?

জ্বর, গায়ে ব্যথা, দুর্বল লাগা, গা ম্যাজম্যাজ করা—এমন কিছু উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়; এরপর গায়ে পানিপূর্ণ ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এসব পুরো শরীরে হতে পারে, চুলকানি থাকে। ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার ৭ থেকে ১০ দিনের মাথায় উপসর্গ দেখা যায়।

৫. চিকিৎসা কী?

চিকেন পক্স সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তবে কিছু ব্যবস্থা নিতে হয়। যেমন—

  • আইসোলেশন: যেহেতু ছোঁয়াচে অসুখ, তাই রোগীকে আলাদা রাখতে হবে। শিশুদের কোনোভাবেই স্কুলে পাঠানো যাবে না বা অন্য শিশুর সংস্পর্শে যেতে দেওয়া যাবে না।

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার: বাসায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে ও পুষ্টিকর খাবার, পানি, স্যুপ, ফল ও ফলের রস খেতে হবে। প্রোটিন ও ভিটামিন সি এই সময় বেশ উপকারী। ত্বকে চুলকানি থাকে বলে অ্যালার্জি হয়, এমন খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।

  • জ্বর ও ব্যথা: জ্বর ও ব্যথা থাকলে প্যারাসিটামল–জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। কোনোভাবেই অ্যাসপিরিন খাওয়া যাবে না।

  • চুলকানি কমাতে: চুলকানি কমানোর জন্য পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। প্রতিদিন হালকা গরম পানিতে গোসল করতে হবে। সুতির পরিষ্কার জামা ব্যবহার করতে হবে। অ্যান্টিহিস্টামিন–জাতীয় ওষুধ চুলকানি কমাতে ভালো কাজ করে। হাতের নখ অবশ্যই ছোট রাখতে হবে।

ফলের রস খেতে পারে

৬. অ্যান্টিভাইরাল কাদের দেব?

সাধারণত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দরকার হয় না। উচ্চঝুঁকির রোগী, মানে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে লাগতে পারে।

৭. কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে?

চিকেন পক্সে অনেকের জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন নিউমোনিয়া, তীব্র মাথাব্যথা, অতিরিক্ত বমি, ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন। এ রকম ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

চিকেন পক্সের টিকা পাওয়া যায়

৮. টিকা নেওয়া কি উচিত?

চিকেন পক্সে একবার আক্রান্ত হলে শরীরে ন্যাচারাল ইমিউনিটি তৈরি হয় বা একবার হলে আর হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। আবার চিকেন পক্সের টিকা পাওয়া যায়। তাই টিকা নেওয়া ভালো।