এই ৮ ধরনের মাথাব্যথার মধ্যে আপনি কোনটায় ভোগেন? পেছনের কারণ জানুন

কখনো মাথাব্যথা হয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে সব মাথাব্যথা এক রকম নয়। বিভিন্ন কারণে মাথাব্যথা হতে পারে এবং এর ধরন অনুযায়ী উপসর্গ, চিকিৎসা ও সতর্কতার প্রয়োজনও ভিন্ন।

নানা কারণে মাথাব্যথা হতে পারে
মডেল: আককাস মাহমুদ। ছবি: প্রথম আলো

চিকিৎসাবিজ্ঞানে মাথাব্যথাকে সাধারণত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। অন্য কোনো রোগ বা শারীরিক সমস্যার কারণে না হলে সেটি প্রাথমিক মাথাব্যথা আর কোনো রোগ, আঘাত বা অন্য কারণে মাথাব্যথা হলে সেটি মাধ্যমিক মাথাব্যথা। নানা রকম মাথাব্যথা থেকে এখানে রইল ৮টির বর্ণনা।

টেনশনে মাথাব্যথা

এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরনের প্রাথমিক মাথাব্যথা। সাধারণত মাথার দুই পাশে চাপ বা টান ধরার মতো ব্যথা হয়, যেন মাথার চারপাশে শক্ত ব্যান্ড বাঁধা হয়েছে। মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও শরীরে পানির ঘাটতি থেকে এই মাথাব্যথা হতে পারে।

মাইগ্রেন

মাইগ্রেন শুধু মাথাব্যথা নয়, এটি একটি স্নায়বিক সমস্যা। সাধারণত মাথার এক পাশে তীব্রভাবে দপদপ করা ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব হয়। আলো, শব্দ বা গন্ধে অস্বস্তি হতে পারে। কারও কারও মাথাব্যথার আগে চোখে ঝিকিমিকি আলো বা বাঁকা রেখা দেখা, ঝিনঝিন করা কিংবা কথা জড়িয়ে আসার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সারভিকোজেনিক মাথাব্যথা

ঘাড়ের পেশিতে দীর্ঘদিনের টান, স্নায়ুতে চাপ, আর্থ্রাইটিস বা ঘাড়ে আঘাতের কারণে এই মাথাব্যথা হতে পারে। ঘাড়ের সমস্যা থেকে ব্যথা মাথার সামনের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে মূল কারণ হিসেবে ঘাড়ের সমস্যার চিকিৎসা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যাফেইন-সম্পর্কিত মাথাব্যথা

চা–কফি খাওয়ার সঙ্গে অনেকের মাথাব্যথার সম্পর্ক থাকে

অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের অভ্যাস যাঁদের আছে, তাঁরা হঠাৎ পরিমাণ কমিয়ে দিলে বা বন্ধ করলে মাথাব্যথা হতে পারে। সাধারণত ক্যাফেইন বন্ধ করার ১২–২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ সমস্যা শুরু হতে পারে। ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগে সমস্যা ও বমি বমি ভাবও থাকতে পারে।

পরিশ্রমজনিত মাথাব্যথা

দৌড়ানো, লাফানো, ভারী কিছু তোলা, অতিরিক্ত ব্যায়াম এমনকি জোরে কাশি বা হাঁচির পরও এ ধরনের মাথাব্যথা হতে পারে। সাধারণত ব্যথা হঠাৎ শুরু হয় এবং অল্প সময় স্থায়ী হয়। তবে প্রথমবার এমন মাথাব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, কখনো কখনো এর পেছনে গুরুতর কারণ থাকতে পারে।

সাইনাসের কারণে মাথাব্যথা

সাইনুসাইটিসের প্রদাহ বা সংক্রমণ হলে চোখ, কপাল ও গালের আশপাশে চাপ বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া, জ্বর ও মুখে চাপ অনুভূত হওয়ার মতো বিষয়ও থাকতে পারে। সাধারণত সাইনাসের মূল সমস্যার চিকিৎসা করলে মাথাব্যথাও কমে যায়।

অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহারের কারণে মাথাব্যথা

বারবার মাথাব্যথার ওষুধ ব্যবহার করলে উল্টো মাথাব্যথা আরও ঘন ঘন হতে পারে। একে রিবাউন্ড হেডেক বলা হয়। যাঁদের নিয়মিত মাথাব্যথা হয় এবং ঘন ঘন ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করতে হয়, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ক্লাস্টার মাথাব্যথা

এটি তুলনামূলক বিরল, কিন্তু অত্যন্ত তীব্র মাথাব্যথা। সাধারণত এক চোখের আশপাশে জ্বালাপোড়া বা ছুরির আঘাতের মতো তীব্র ব্যথা হয়। চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকতে পারে। এক দিনে একাধিকবার এমন ব্যথা হতে পারে এবং কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে আক্রমণ দেখা দিতে পারে।

সূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে