ডেঙ্গু জ্বর হলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে। তবে সবারই যে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হবে, তা নয়। বাড়িতে থেকেও কিছু রোগীর চিকিৎসা সম্ভব। এ বিষয়ে ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফ হোসেন খান-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম।
ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হবে কি না, কত দিন পরপর রক্ত পরীক্ষা বা ফলোআপ করাতে হবে—এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন চিকিৎসক। যদি কোনো জটিলতা না থাকে কিংবা নিকট ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে, তাহলে বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন চিকিৎসক। তবে কোন কোন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে, স্বজনদের জানতে হবে।
পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন। চোখকেও বিশ্রাম দিন। সব সময় মশারি ব্যবহার করুন।
সহজপাচ্য খাবার খান।
পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করুন, বিশেষত লবণসমৃদ্ধ তরল। বয়স বা শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োজন আলাদা। কিছু ক্ষেত্রে লবণাক্ত তরল গ্রহণে নিষেধাজ্ঞাও থাকে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রয়োজনে ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় কাউকে সঙ্গে রাখুন।
জ্বর মেপে তারিখ ও সময়সহ লিখে রাখুন।
জ্বর থাকলে কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মোছা যায়। প্রয়োজনে কারও সাহায্য নিয়ে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে, কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় গোসলও করা যাবে।
জ্বর বা ব্যথা থাকলে প্যারাসিটামল সেবন করুন।
প্রস্রাবের পরিমাণ ও রং খেয়াল রাখুন। অন্যান্য বিপদচিহ্নের ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন।
আগে থেকে অ্যাসপিরিন বা রক্ত পাতলা করার অন্যান্য ওষুধ সেবন করলে তা চিকিৎসককে জানান।
জ্বর কমে যাওয়ার পরও বিপদ হতে পারে, তাই চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলুন।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত তরল গ্রহণ করবেন না।
বাড়িতে শিরাপথে স্যালাইন গ্রহণ করবেন না।
ব্যথানাশক (আইবুপ্রফেন, ন্যাপ্রোক্সেনসহ অন্যান্য নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ), স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন না।
নির্ধারিত ডোজের চেয়ে বেশি প্যারাসিটামিল সেবন করবেন না।
প্লেটলেটের মাত্রা নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। চিকিৎসক একজন রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করে, রক্তের নানান কিছুর মাত্রা দেখে এবং প্রয়োজনে অন্যান্য পরীক্ষা করিয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
পেঁপেপাতার রস বা অন্যান্য ঘরোয়া টোটকা এড়িয়ে চলুন।