
সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘাড়ব্যথা, শক্ত ভাব বা নড়াচড়ায় অস্বস্তি—এ সমস্যা অনেকেরই হয়। এ জন্য ঘুমের ভঙ্গি বা বালিশের ভুল ব্যবহার দায়ী হতে পারে। মাথার নিচে দুই-তিনটি বা এর বেশি বালিশ ব্যবহার করলে ঘাড় দীর্ঘ সময় অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকে। এর ফলে এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘাড়ের মেরুদণ্ড বা সার্ভিক্যাল স্পাইন হাড়, ডিস্ক, লিগামেন্ট ও বিভিন্ন পেশির সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল কাঠামো। ঘুমের সময় বালিশ অতিরিক্ত উঁচু হলে মাথা ও ঘাড় সামনের দিকে বা একদিকে অতিরিক্ত বাঁকা হয়ে যেতে পারে।
এতে ঘাড়ের পেশি ও জয়েন্টকে দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হয়। বিশেষ করে কাত হয়ে ঘুমানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সঠিক বালিশ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত মোটা বালিশ মাথাকে শরীরের তুলনায় বেশি ওপরে তুলে দিতে পারে এবং ঘাড়ের স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্ট নষ্ট করতে পারে।
● মাথা ও ঘাড় অতিরিক্ত বাঁকা হয়ে যেতে পারে।
● ঘাড়ের স্থিতিশীলতায় নিয়োজিত পেশিগুলো দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকায় সকালে ব্যথা ও শক্ত ভাব হতে পারে।
● ঘাড় নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে গেলে চাপের বণ্টনও পরিবর্তিত হতে পারে।
● কাত হয়ে ঘুমানোর সময় ঘাড় ঘুরে বা কাত হয়ে থাকলে এক পাশে বেশি চাপ পড়তে পারে।
ব্যথা হলেই জোরে ঘাড় স্ট্রেচ করা বা ফোম রোলার দিয়ে চাপ দেওয়া উচিত নয়। প্রথমে ব্যথামুক্ত সীমার মধ্যে ধীরে ধীরে ঘাড় নাড়াচাড়া করুন এবং বালিশের উচ্চতা ও ঘুমের ভঙ্গি পরিবর্তন করে দেখুন।
কাত হয়ে ঘুমালে বালিশের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত, যাতে কাঁধ ও মাথার মধ্যকার ফাঁকা স্থান পূরণ হয়; কিন্তু মাথাকে অতিরিক্ত ওপরে ঠেলে না দেয়। বালিশ নির্বাচন করতে শরীরের গঠন, কাঁধের প্রস্থ, ঘুমের ভঙ্গি এবং গদির দৃঢ়তা বিবেচনা করা উচিত।
সবার জন্য একই বালিশ উপযুক্ত নয়। দামি বালিশের চেয়ে সঠিক উচ্চতা, পর্যাপ্ত সাপোর্ট এবং ব্যক্তিগত উপযোগিতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি ঘাড়ের ব্যথার সঙ্গে হাত বা আঙুলে ঝিনঝিনি, অবশ ভাব, দুর্বলতা, ব্যথা হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়া বা অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ থাকে, কিংবা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এম ইয়াছিন আলী, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা