গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে নানা জৈবিক ও হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাব পড়ে রক্তচাপের ওপরও। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বেড়ে যায়, যা গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ নামে পরিচিত। এটিকে অবহেলা করলে মা ও শিশুর জন্য মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
হরমোনজনিত পরিবর্তন : গর্ভাবস্থায় শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যায়। এসব হরমোন রক্তনালির দেয়ালে প্রভাব ফেলে, ফলে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ বাড়তে পারে।
প্লাসেন্টার (গর্ভফুল) সমস্যা : গর্ভফুল শিশুর জন্য অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। যদি এটি ঠিকভাবে তৈরি না হয় বা রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক না থাকে, তাহলে মায়ের শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। এটি প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার অন্যতম কারণ।
রক্তনালির অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া : গর্ভাবস্থায় রক্তনালিগুলো সাধারণত প্রসারিত হওয়ার কথা। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে রক্তনালি ঠিকভাবে প্রসারিত না হয়ে উল্টো সংকুচিত হয়, ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।
জেনেটিক বা পারিবারিক কারণ : পরিবারে কারও গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলে অন্যদের ক্ষেত্রেও এ ঝুঁকি বেশি থাকে।
পূর্ববর্তী রোগের প্রভাব : আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা থাকলে গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি হয়।
স্থূলতা ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন : অতিরিক্ত ওজন, কম শারীরিক পরিশ্রম, বেশি লবণযুক্ত খাবার গ্রহণ ইত্যাদি রক্তচাপ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
প্রথম গর্ভধারণ বা একাধিক গর্ভধারণ : প্রথমবার মা হওয়া বা একসঙ্গে একাধিক সন্তান (যেমন যমজ) গর্ভে থাকলে শরীরে চাপ বেশি পড়ে, যা রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
অনেক সময় এ সমস্যা নীরবে থাকে। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, হাত-পা বা মুখ ফুলে যাওয়া, বমি বা বমি বমি ভাব ও শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি অন্যতম।
গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি। কম লবণযুক্ত খাবার খেতে হবে। প্রচুর শাকসবজি ও ফল খেতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমিয়ে শান্ত পরিবেশে থাকতে হবে। প্রতিদিন হালকা হাঁটা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম উপকারী। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা ঝুঁকি কমায়। গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বৃদ্ধি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও তা অবহেলা করার মতো নয়।
ডা. সাইফ হোসেন খান, সহকারী অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি, ঢাকা