রোজায় আমাদের খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের সময়, ব্যায়ামের রুটিনে পরিবর্তন আসে বলে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন
রোজায় আমাদের খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের সময়, ব্যায়ামের রুটিনে পরিবর্তন আসে বলে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন

রোজায় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কী করবেন

রোজায় আমাদের খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের সময়, ব্যায়ামের রুটিনের কিছুটা পরিবর্তন আসে। অনেকেই এ সময় কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। আবার ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার ফলে অনেকেই বদহজমসহ নানা রকম পেটের সমস্যায় ভোগেন। তাই জেনে রাখুন রোজায় পেট ভালো রাখার উপায়।

সাহ্‌রি বা ইফতারে ওটস খেতে পারেন

আঁশজাতীয় খাবার খান

সাহ্‌রি ও ইফতারে অবশ্যই আঁশজাতীয় খাবার খেতে হবে। খাবারের তালিকায় রাখুন লাউ, ঢ্যাঁড়সের মতো সবজি; পেঁপে, আপেল ও কলার মতো ফল; লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, ওটস; বিভিন্ন রকমের ডাল ও ছোলা। খেজুরে প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকে, তাই ইফতার ও সাহ্‌রিতে অন্তত একটা করে খেজুর রাখুন।

পর্যাপ্ত পানি খান

কোষ্ঠকাঠিন্যের একটা বড় কারণ পানি কম খাওয়া। তাই নিজেকে আর্দ্র রাখুন। ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত কমপক্ষে আট গ্লাস পানি খান। অতিরিক্ত চা, কফি, কোমলপানীয় পরিহার করতে হবে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিন

ঘরে তৈরি হালকা খাবার খান। যেকোনো ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, চিনি এড়িয়ে চলুন।

রাতে হালকা ব্যায়াম, স্ট্রেচিং করতে পারেন

অতিরিক্ত তেল–মসলা এড়িয়ে চলুন

ইফতারে অতিরিক্ত মসলা ও ডুবো তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন, এসব খেলে পেটের সমস্যা হয়, ওজনও বাড়ে। রান্নায় কম তেল ব্যবহার করতে হবে, খাবার না ভেজে সেদ্ধ বা ভাপানো ভালো।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

রোজায় সকালে শরীরচর্চা করা সম্ভব হয় না, তবে রাতে হালকা ব্যায়াম, স্ট্রেচিং, ধীরলয়ে হাঁটতেই পারেন।

সাহ্‌রিতে খাওয়া শেষে মিনিট বিশেক পর হালকা গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে খেতে পারেন

আরও কিছু বিষয়

প্রাকৃতিক খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়ম করে একই সময়ে টয়লেটে যাওয়া—এ রকম অভ্যাস ভালো থাকতে সাহায্য করবে। ইফতারে পানিতে ইসবগুলের ভুসি, চিয়া সিড, সাহ্‌রিতে খাওয়া শেষে মিনিট বিশেক পর হালকা গরম পানিতে লেবু, গরম দুধ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে।

ডা. আফলাতুন আকতার জাহান, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা