শুতে গেলেই হাঁচি, নাক বন্ধ বা শ্বাসকষ্ট বাড়লে সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার বিছানাতেই
শুতে গেলেই হাঁচি, নাক বন্ধ বা শ্বাসকষ্ট বাড়লে সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার বিছানাতেই

বিছানায় শুতে গেলেই হাঁচি, নাক বন্ধ বা শ্বাসকষ্ট? অ্যালার্জিমুক্ত থাকার পরামর্শগুলো মানুন

চোখ চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া, বারবার হাঁচি—এ রকম সমস্যা হলে অনেকেই ভাবেন, বাইরে বেরোলেই বুঝি অ্যালার্জি বাড়ছে। কিন্তু জানেন কি, অনেক সময় অ্যালার্জির উৎস লুকিয়ে থাকে আপনার নিজের শোবার ঘরেই! ঘুমের জায়গা বলেই আমরা ধরে নিই, শোবার ঘরটা নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে বিছানা, বালিশ, তোশক বা ম্যাট্রেসেই থাকতে পারে অ্যালার্জির আসল কারণ। তাই ভালো ঘুম চাইলে শোবার ঘরটা অ্যালার্জিমুক্ত রাখা খুব জরুরি।

বালিশ–চাদরেই কি অ্যালার্জি হচ্ছে

অনেকেরই প্রশ্ন, বালিশ, লেপ, কম্বল বা তোশকের কারণে কি অ্যালার্জি হতে পারে? সাধারণত বালিশ বা চাদরের উপাদানে সরাসরি অ্যালার্জি খুব একটা হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে পালক, সিনথেটিক ফাইবার বা কাপড়ে ব্যবহৃত রং থেকেও সমস্যা হতে পারে।

বুঝবেন কীভাবে

লক্ষণ কখন শুরু হচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত। যদি দেখেন—

  • বিছানায় শুতে গেলেই হাঁচি, নাক বন্ধ বা শ্বাসকষ্ট বাড়ছে।

  • আর দিনের বেলা উঠলে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

তাহলে সন্দেহটা আপনার বিছানার দিকেই যেতে পারে।

অ্যালার্জির কারণ খুঁজে বের করবেন যেভাবে

  • একজন বিশেষজ্ঞ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে যেভাবে সমস্যার উৎস ধরতে পেরেছিলেন—
    তিনি প্রথমে লক্ষ করলেন, ঠিক কবে থেকে ঘুমের সমস্যা শুরু হয়েছে। নতুন বালিশ আনার পর থেকেই যে সমস্যা, সেটা পরিষ্কার বোঝা গেল।

  • অন্য উৎসগুলো বাদ দিলেন—নতুন ডিটারজেন্ট, পারফিউম বা ঘরের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

  • কয়েক রাত বালিশ ছাড়াই ঘুমালেন। অবাক করা ব্যাপার, লক্ষণ অনেকটাই কমে গেল।

  • শেষে বালিশগুলো পুরোপুরি শোবার ঘর থেকে সরিয়ে ফেললেন।

লেপ–তোশকে জমে থাকে ধুলা, মৃত ত্বকের কণা, ঘাম

বালিশ নয়, তোশকই কি আসল দোষী

অনেক সময় অ্যালার্জির মূল উৎস হয় তোশক বা ম্যাট্রেস। এসবে জমে থাকে ধুলা, মৃত ত্বকের কণা, ঘাম। আর সেখানেই বাসা বাঁধে ডাস্ট মাইট, একধরনের অণুজীব।

চোখে দেখা যায় না, কিন্তু এরা প্রায় সবার ঘরেই থাকে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে অ্যালার্জি থাকলে এই ডাস্ট মাইট সমস্যার কারণ হতে পারে।

ডাস্ট মাইট থেকে কী হতে পারে

  • নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক চুলকানো।

  • নাক বন্ধ হয়ে থাকা।

  • কাশি, গলা খুসখুস।

  • ঘুমের সমস্যা বা রাতে বারবার জেগে ওঠা।

একটু সচেতন হলেই শোবার ঘর হয়ে উঠতে পারে সত্যিকারের আরাম আর স্বস্তির জায়গা

ডাস্ট মাইট কমাতে কী করবেন

শোবার ঘর পরিষ্কার রাখার জন্য কিছু অভ্যাস গড়ে তুলুন—

  • সপ্তাহে অন্তত একবার চাদর, বালিশের কভার ধুয়ে ফেলুন।

  • শোবার ঘরে কার্পেট থাকলে নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করুন।

  • তোশক, ম্যাট্রেস ও বালিশে ডাস্ট মাইট–প্রতিরোধী কভার ব্যবহার করতে পারেন।

  • ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন, এতে ডাস্ট মাইটের পাশাপাশি ছত্রাক বা ফাঙ্গাসও কমে।

ভালো ঘুম মানেই শুধু নরম বিছানা নয়, পরিচ্ছন্ন আর অ্যালার্জিমুক্ত পরিবেশও। একটু সচেতন হলেই শোবার ঘর হয়ে উঠতে পারে সত্যিকারের আরাম আর স্বস্তির জায়গা।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক