অনেক সময় খেলাধুলা করতে গিয়ে, পড়ে গিয়ে বা সরাসরি কোনো আঘাত লাগার পর দেখা যায়, জায়গাটা ফুলে শক্ত গাঁটের মতো হয়ে গেছে
অনেক সময় খেলাধুলা করতে গিয়ে, পড়ে গিয়ে বা সরাসরি কোনো আঘাত লাগার পর দেখা যায়, জায়গাটা ফুলে শক্ত গাঁটের মতো হয়ে গেছে

মায়োসাইটিস অসিফিকান্স কী, কেন হয় ও করণীয়

অনেক সময় খেলাধুলা করতে গিয়ে, পড়ে গিয়ে বা সরাসরি কোনো আঘাত লাগার পর দেখা যায়, জায়গাটা ফুলে শক্ত গাঁটের মতো হয়ে গেছে। প্রথমে মনে হয় সাধারণ আঘাত বা মাংসপেশির টান। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আঘাতের কয়েক সপ্তাহ পর ওই পেশিতে ধীরে ধীরে হাড়ের মতো শক্ত কিছু একটা তৈরি হতে শুরু করে। এই অবস্থাকে বলা হয় মায়োসাইটিস অসিফিকান্স।

কেন এমন হয়

জোরে আঘাত লাগলে পেশির ভেতর রক্ত জমে যায়। সাধারণত এই জমাট রক্ত শরীর নিজে থেকেই শুষে নেয়। কিন্তু যদি ওই জায়গায় বারবার চাপ, জোরে মালিশ অথবা খুব তাড়াতাড়ি ভারী ব্যায়াম শুরু করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠার বদলে সেখানে অস্বাভাবিক ক্যালসিয়াম জমে হাড়ের মতো শক্ত টিস্যু তৈরি হতে পারে। এটা বেশি হয় ঊরুর সামনের পেশি (খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে খুব দেখা যায়) ও বাহুর ওপরের অংশে।

লক্ষণ ও করণীয়

আঘাতের দুই–তিন সপ্তাহ পর সাধারণত জায়গাটা শক্ত হয়ে যায় ও ফুলে থাকে। সেখানে চাপ দিলে ব্যথা হয়। হাত–পা ভাঁজ বা সোজা করতে কষ্ট হতে পারে। ভেতরে শক্ত গাঁটের মতো অনুভূতি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ব্যথা কিছুটা কমলেও শক্ত গাঁটটা রয়ে যায়।

আঘাতের পর প্রথম দিকের সঠিক যত্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আঘাতের পরে বিশ্রাম দিতে হবে। প্রথম কয়েক দিন বরফ সেঁক দিন। হালকা ও ব্যথাহীন নড়াচড়া চালু রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথার ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।

তবে জোরে জোরে মালিশ করা যাবে না। গরম সেঁক দেবেন না। জোর করে স্ট্রেচিং করা যাবে না। দ্রুত ভারী ব্যায়াম শুরু করবেন না। এতে ভেতরে আবার রক্তপাত ও হাড়ের জমাট আরও বাড়তে পারে।

চিকিৎসা

ধীরে ধীরে হালকা স্ট্রেচিং ও পেশি শক্ত করার ব্যায়াম করতে পারেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিয়মিত ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন করলে অস্ত্রোপচার ছাড়াই ভালো হয়ে যায়। খুব কম ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।

যদি এক বছর পরও শক্ত অংশটিতে খুব বেশি ব্যথা বা নড়াচড়ায় মারাত্মক বাধা তৈরি হয়, তখন অস্ত্রোপচার করে সারানো যায়। খুব দ্রুত অস্ত্রোপচার করলে আবার ফিরে আসার ঝুঁকি থাকে।

আঘাতের পর ব্যথা এবং ফোলা কমার বদলে বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাজে যেতে হবে। জায়গাটা অস্বাভাবিক শক্ত এবং হাত বা পা স্বাভাবিকভাবে নাড়াতে না পারলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

শেষ কথা

আঘাত লাগার পর ধৈর্য ধরে ধাপে ধাপে ব্যথা অনুযায়ী একজন অর্থোপেডিক এবং একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞের অধীনে চিকিৎসা আর ব্যায়ামই নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

ডা. সাকিব আল নাহিয়ান, সহকারী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা