এমবডি একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য ও ওজন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম, যা কেবল ‘ওজন কমানো’র বদলে গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিকে সুস্থ রাখার ধারণায়
এমবডি একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য ও ওজন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম, যা কেবল ‘ওজন কমানো’র বদলে গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিকে সুস্থ রাখার ধারণায়

কেবল ওজন কমানো নয়, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার নতুন উদ্যোগ ‘এমবডি’

দীর্ঘদিন ধরেই ওজন কমানো নিয়ে যেকোনো আলোচনায় উঠে আসে ডায়েট চার্ট, ক্যালরির হিসাব আর ব্যায়ামের কঠোর নিয়মকানুনের মতো বিষয়–আশয়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, শরীরের ওজন শুধু খাবার বা ব্যায়ামের ফল নয়, এর সঙ্গে যুক্ত মানসিক স্বাস্থ্য, হরমোন, ঘুম, জেনেটিকস ও সামাজিক পরিবেশ। এই বাস্তবতা সামনে রেখেই জনপ্রিয় মার্কিন স্বাস্থ্যতথ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবএমডি চালু করেছে তাদের নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ ‘এমবডি’।

কী এই এমবডি?

এটি একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য ও ওজন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম, যা কেবল ‘ওজন কমানো’র বদলে গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিকে সুস্থ রাখার ধারণায়। এখানে শরীর, মন ও আবেগ—তিনটির সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। এমবডির মূল দর্শন হলো, সুস্থতা কোনো একদিনের লক্ষ্য নয়, এটি একটি ধারাবাহিক, মানবিক ও বাস্তবসম্মত যাত্রা।

কেন এমবডি আলাদা?

অনেক ওজননিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি যেখানে ইচ্ছাশক্তির ঘাটতিকে দোষ দেয়, এমবডি সেখানে বলছে, ওজন ও স্বাস্থ্য অনেক জটিল বিষয়ের সম্মিলিত ফল। হরমোনের তারতম্য, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব বা দীর্ঘদিনের অভ্যাস—সবই এতে ভূমিকা রাখে। এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে অপরাধবোধ থেকে মুক্ত করে এবং নিজের শরীরকে বোঝার সুযোগ দেয়।

কী কী থাকছে এমবডিতে?

এমবডি প্ল্যাটফর্মে আছে—

  • বিশেষজ্ঞদের দ্বারা যাচাই করা কনটেন্ট: পুষ্টিবিদ, চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী ও ফিটনেস–বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তৈরি তথ্য।

  • সহজ ও ধাপে ধাপে শেখার ব্যবস্থা: জটিল চিকিৎসা তথ্যকে সহজ ভাষায়, ছোট ছোট অংশে উপস্থাপন।

  • ওয়ার্কশপ ও অনলাইন কোর্স: ‘দ্য হেলদি হ্যাবিটস প্রজেক্ট’ নামের ছয় পর্বের একটি কোর্সে ঘুম, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা ও মানসিক দক্ষতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

  • কমিউনিটি সাপোর্ট: একই অভিজ্ঞতার মানুষের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ, যেখানে বিচার নয়, সমর্থনই মুখ্য।

  • নিয়মিত নিউজলেটার: ব্যবহারকারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক টিপস ও তথ্য।

ওজনের বাইরে সুস্থতার সংজ্ঞা

এমবডি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সুস্থতা শুধু ওজনের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। মানসিক প্রশান্তি, ভালো ঘুম, শক্তিশালী অভ্যাস এবং নিজের শরীরের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।