ওজন বেড়ে যাওয়া নিয়ে অনেকে দুশ্চিন্তায় ভোগেন
ওজন বেড়ে যাওয়া নিয়ে অনেকে দুশ্চিন্তায় ভোগেন

ওজন বেড়ে যাচ্ছে, কী করি

পরামর্শ দিয়েছেন—ল্যাবএইড লিমিটেড (ডায়াগনস্টিক), ঢাকার ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. ফিরোজ আমিন

প্রশ্ন

আমার বয়স ১৮ বছর। সে তুলনায় আমার ওজন অনেক বেশি। আমার ওজন ৬৯ কেজি। নিয়মিত কলেজে যাওয়া-আসার ফলে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ি, ফলে কলেজ থেকে ফিরে ৩-৪ ঘণ্টা না ঘুমালে স্বাভাবিক হতে পারি না। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঘুমাই, তারপরও সারা দিনই অলস লাগে। বাইরের খাবার মোটামুটি খাই। এখন কী করলে ওজন কমাতে পারি, এ বিষয়ে পরামর্শ দিলে ভালো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ঢাকা।

পরামর্শ

ওজন আসলে উচ্চতার ওপর নির্ভর করে। আপনার ওজন স্বাভাবিক নাকি অতিরিক্ত, সঠিকভাবে জানতে হলে প্রথমেই উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ওজন কত হওয়া উচিত, তা নির্ণয় করা প্রয়োজন। যাঁরা ব্যায়াম করেন না এবং দীর্ঘ সময় শুয়ে-বসে থাকেন, তাঁদের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম সম্পাদনে গড়ে মাত্র ৮০০ থেকে ১০০০ ক্যালরি প্রয়োজন হয়। কিন্তু দেখা যায়, শুধু সকালের নাশতা ও বেলা ১১টার হালকা খাবারেই এই পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করা হয়ে যায়। এরপর দুপুরের খাবার, বিকেলের নাশতা এবং রাতের খাবার—সব মিলিয়ে শরীরে জমতে শুরু করে অতিরিক্ত ক্যালরি, যা ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে রাতের খাবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাতের খাবার পরিমাণে কম ও হালকা হওয়া উচিত এবং ঘুমানোর অন্তত চার ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা প্রয়োজন। ব্যায়ামের ক্ষেত্রে প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার স্টেপ অথবা ৪০ থেকে ৫০ মিনিট হাঁটতে হবে। হাঁটার সময় এমন গতি বজায় রাখতে হবে, যেন প্রতি সেকেন্ডে ২টি স্টেপ পড়ে। এতে শরীরের মেটাবলিজম বাড়ে এবং ধীরে ধীরে ওজন কমতে শুরু করে। মাসে ২ থেকে ৩ কেজি ওজন কমানোর লক্ষ্য রাখাই স্বাস্থ্যসম্মত। বর্তমানে যে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা আলস্য অনুভূত হচ্ছে, তার কারণ হতে পারে হাঁটা বা ব্যায়ামের অভ্যাস না থাকা। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস, বিশেষ করে খোলা পরিবেশে কিংবা পার্কে হাঁটলে ধীরে ধীরে এই ক্লান্তি কমে যাবে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, হিমোগ্লোবিন ও লিভারে ফ্যাট আছে কি না, জেনে নিন। সবচেয়ে ভালো হয় একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা

পাঠকের প্রশ্ন পাঠানো যাবে ই–মেইলে, ডাকে এবং প্র অধুনার ফেসবুক পেজের ইনবক্সে।

ই–মেইল ঠিকানা: adhuna@prothomalo.com (সাবজেক্ট হিসেবে লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’) 

ডাক ঠিকানা : প্র অধুনা, প্রথম আলো, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন, ২০–২১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫। (খামের ওপর লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’)

ফেসবুক পেজ: fb.com/Adhuna.PA