
রমজান মুসলমানদের জন্য সংযম, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির মাস। তবে যাঁরা ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন বা চিকিৎসা শেষ করে এখন ফলোআপে আছেন, তাঁদের রোজা রাখা নিয়ে কিছু বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ইসলামে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য শর্তসাপেক্ষে রোজা না রাখার সুযোগ রয়েছে। তাই শরীরের অবস্থা বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
১. যাঁদের কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি বা ইমিউনোথেরাপি চলছে—এ সময় তাঁদের শরীর দুর্বল থাকে। বমি বমিভাব, ডায়রিয়া, মুখে ঘা, ক্ষুধামান্দ্য, পানিশূন্যতা, রক্তশূন্যতা বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে-না পান করে থাকা পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
কখন রোজা না রাখা ভালো: কেমোর দিন ও পরের দু-তিন দিন, যদি দুর্বলতা বেশি থাকে। জ্বর, তীব্র বমি/ডায়রিয়া, মাথা ঘোরা বা প্রস্রাব কমে গেলে। হিমোগ্লোবিন খুব কম বা নিউট্রোফিল কম থাকলে।
রোজা থাকলে করণীয়: অনকোলজিস্টের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত ধীরে ধীরে পর্যাপ্ত পানি পান করুন (অন্য রোগ না থাকলে ২-৩ লিটার)। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল), জটিল শর্করা (ভাত/রুটি/ওটস), ফল ও শাকসবজি রাখুন। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, অতি মিষ্টি, খুব ঝাল খাবার এড়িয়ে চলুন। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ওষুধের সময়সূচি সাহ্রি-ইফতারের সঙ্গে সামঞ্জস্য করুন।
২. রেডিওথেরাপি—মাথা-গলা, খাদ্যনালি বা পেটের ক্যানসারে রেডিওথেরাপির সময় খেতে কষ্ট, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, গলাব্যথা, ওজন কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে অপুষ্টি দ্রুত বাড়ে। দ্রুত ওজন কমলে বা খেতে কষ্ট হলে রোজা স্থগিত রাখুন। তবে এ ধরনের অনেক রোগী শারীরিকভাবে স্থিতিশীল থাকেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁদের রোজা রাখা সম্ভব।
৩. চিকিৎসা সম্পন্ন, এখন ফলোআপে আছেন—এমন রোগীর সামগ্রিক অবস্থা ভালো থাকলে রোজা রাখা সাধারণত নিরাপদ। তবু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ফলোআপ তারিখ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা রমজানের কারণে পিছিয়ে দেবেন না।