ক্যানসার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপির কথা শুনলে অনেক রোগী ভয় পান
ক্যানসার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপির কথা শুনলে অনেক রোগী ভয় পান

রেডিওথেরাপি কীভাবে কাজ করে, এতে কেন ভয়ের কিছু নেই

আজ ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব রেডিওথেরাপি সচেতনতা দিবস। এর মূল বার্তা ‘ওয়ান ভয়েস ফর রেডিওথেরাপি’ (রেডিওথেরাপির পক্ষে সমস্বরে আওয়াজ)। 

ক্যানসার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপির কথা শুনলে অনেক রোগী ভয় পান। কেউ মনে করেন, এতে শরীর পুড়ে যায় বা অসহনীয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। আবার অনেকের ধারণা, এটি শুধু ক্যানসারের শেষ পর্যায়ে দেওয়া হয়। বাস্তবে এসব অধিকাংশই ভুল বা পুরোনো তথ্যনির্ভর। 

রেডিওথেরাপি কীভাবে কাজ করে

রেডিওথেরাপিতে উচ্চ শক্তির রশ্মির সাহায্যে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা হয়। চিকিৎসার সময় সাধারণত রোগী কোনো ব্যথা, গরম বা বিদ্যুৎপ্রবাহ অনুভব করেন না। পুরো প্রক্রিয়া অনেকটা সিটি স্ক্যানের মতো।

এটি শুধু রোগের শেষ পর্যায়ে দেওয়া হয় না। কখনো অস্ত্রোপচারের আগে টিউমার ছোট করতে, কখনো অস্ত্রোপচারের পর থেকে যাওয়া ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে আবার কখনো কেমোথেরাপির সঙ্গে অনুষঙ্গ হিসেবে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়।

অ্যাডভান্সড ক্যানসারে ব্যথা, রক্তক্ষরণ বা অন্য উপসর্গ কমাতেও এটি কার্যকর।

আধুনিক রেডিওথেরাপি কতটা উন্নত

বর্তমানে সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা পেট-সিটির তথ্য ব্যবহার করে টিউমারের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

আইএমআরটি, ভিম্যাট, আইজিআরটি ও এসবিআরটির মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে টিউমারের আকৃতি অনুযায়ী নির্ভুলভাবে রেডিয়েশন দেওয়া সম্ভব।

এর লক্ষ্য হলো টিউমারে প্রয়োজনীয় রেডিয়েশনের মাত্রা পৌঁছে দিয়ে আশপাশের হৃদ্​যন্ত্র, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, কিডনি, অন্ত্র বা লালাগ্রন্থির মতো স্বাভাবিক অঙ্গ যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখা।

তবে শরীরের কোন অংশে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, রেডিয়েশনের মাত্রা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নির্ভর করে। অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই সাময়িক ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 

চিকিৎসা চলাকালে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রেডিওথেরাপি বন্ধ করবেন না। অপ্রয়োজনীয় বিরতি চিকিৎসার কার্যকারিতা কমাতে পারে। পর্যাপ্ত পানি, প্রোটিন ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন। মাছ, মাংস, ডিম বা দুধ বন্ধ করবেন না।

চিকিৎসার স্থানের ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখুন। ঘষাঘষি, গরম সেঁক, সুগন্ধি বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ক্রিম ব্যবহার করবেন না। শরীরে দেওয়া চিকিৎসার চিহ্ন নিজে মুছবেন বা নতুন করে আঁকবেন না।

সামর্থ্য অনুযায়ী হালকা হাঁটাচলা ও স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যান। ক্লান্ত লাগলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। ধূমপান, জর্দা, গুলসহ সব ধরনের তামাক বর্জন করুন।

জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, খেতে না পারা, তীব্র ডায়রিয়া, রক্তক্ষরণ বা গুরুতর ত্বকের সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান।

সাধারণ এক্সটার্নাল বিম রেডিওথেরাপির পর রোগীর শরীর তেজস্ক্রিয় হয়ে যায় না। রোগী পরিবারের সদস্য ও শিশুদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারেন। 

ডা. আরমান রেজা চৌধুরী, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, রেডিয়েশন অনকোলজি, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা