বয়স বাড়লে কিছু রোগ বা সমস্যা অবধারিতভাবেই এসে হাজির হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এতটা উন্নতির পরও বার্ধক্যজনিত সমস্যাগুলো প্রায়ই বেশ ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অসংক্রামক রোগ
কিছু রোগ আছে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বি বাড়া ইত্যাদি। এসবের সঙ্গে চলে আসে হৃদ্রোগ, হার্ট ফেলিউর, কিডনির রোগ ও স্ট্রোক। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূত্রাশয়ের ধারণক্ষমতা ও প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে থাকে। এর সঙ্গে পুরুষদের প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড বেড়ে জটিলতা আরও বাড়তে পারে। বয়সের সঙ্গে বাড়ে নানা ক্যানসারের ঝুঁকিও।
বাত ও হাড়ের ক্ষয়রোগ
বয়স মানেই যেন বাতের ব্যথা-বেদনা। ঘনত্ব কমে দেখা দেয় হাড়ের ক্ষয়রোগ। হাড় দুর্বল হয়ে সামান্য আঘাত বা বিনা আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়। হাঁটাচলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। মাংসপেশি শুকিয়ে যেতে থাকে।
স্মৃতিজনিত সমস্যা
বয়সজনিত আরেকটি সমস্যা বিশ্বব্যাপী বেশি আলোচিত হচ্ছে। তা হলো ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার-জাতীয় রোগ। এ সমস্যায় মূলত স্মৃতিশক্তি কমে যেতে থাকে। মনোযোগের অভাব, বিভ্রান্তি বা বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া আছে পারকিনসনস রোগ, যার কারণে হাঁটাচলা, নড়াচড়া বা লেখালেখিসহ দৈনন্দিন কাজে বেশ ব্যাঘাত ঘটে।
চোখ-কান, দাঁত ও হজমের সমস্যা
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চোখে ছানি পড়তে পারে, দৃষ্টিশক্তি কমতে পারে। কমে যেতে পারে শ্রবণশক্তি। হতে পারে দাঁত বা মাড়ির নানা জটিলতা। কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যা বয়স্ক মানুষদের একটা সাধারণ সমস্যা। খাবারের রুচি কমে যেতে পারে। বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণ ঠান্ডাও নিউমোনিয়ার মতো জটিল হতে পারে। প্রস্রাবে ঘন ঘন সংক্রমণ হতে পারে।
কীভাবে মোকাবিলা করবেন
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে যেকোনো সমস্যা প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা যায়। ফলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সহজে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বয়স চল্লিশের পর নিয়মিত রক্তচাপ মাপা, রক্তের শর্করা, চর্বি পরীক্ষাসহ রুটিন পরীক্ষাগুলো জরুরি। কারও দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে তাঁকে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ, ওষুধ সেবন ও অন্যান্য নিয়ম মেনে চলতে হবে।
ডা. শাহনুর শারমিন, অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ