দুধের সর খেতে পছন্দ করেন অনেকে। সর দিয়ে নানা মুখরোচক খাবার, পানীয় এবং খাদ্য উপকরণও তৈরি করা হয়, যেসব হরহামেশাই খান অনেকে। সুস্বাদু হলেও দুধের সর কি আদতে স্বাস্থ্যকর? রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফ হোসেন খান এবং টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান এবং পুষ্টিবিদ, অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান–এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম।
দুধের সরে থাকে—
স্যাচুরেটেড ফ্যাট
কোলিন
ক্যালসিয়াম
ফসফরাস
ভিটামিন এ
ভিটামিন ই
ভিটামিন কে
খানিকটা আমিষ ও শর্করাও থাকে এতে। বুঝতেই পারছেন, পুষ্টিগুণে দুধের সর দারুণ।
তবে মূল বিপত্তিটা স্যাচুরেটেড ফ্যাট নিয়েই। দুধের সরে ক্যালরির মাত্রাটাও বেশি। মাত্র এক টেবিল চামচ দুধের সর থেকেই আপনি ৫০ কিলোক্যালরির একটু বেশি পেয়ে যাবেন।
স্যাচুরেটেড ফ্যাট অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। তবে একজন সুস্থ ব্যক্তি রোজ এক-দুই চা–চামচ দুধের সর খেলে ক্ষতি নেই। এর বেশি না খাওয়াই ভালো।
কালেভদ্রে পরিমাণটা একটু বেশিও হতে পারে, তাতে ক্ষতি নেই। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি কায়িক শ্রমের গুরুত্বও ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এসব সমস্যা থাকলে দুধের সর এড়িয়ে চলুন—
হৃদ্রোগ (হৃৎপিণ্ডের ধমনিতে ‘ব্লক’)
উচ্চ রক্তচাপ
ডায়াবেটিস
ফ্যাটি লিভার ডিজিজ
রক্তে ‘টোটাল কোলেস্টেরল’ বা ‘এলডিএল কোলেস্টেরল’–র মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি
আগে কখনো স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলেও তাঁদের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য
অনেকে আবার দুধের সর না খেলেও সর দিয়ে তৈরি নানা খাবার বা পানীয় খান। ঘি, মাখন, ননি—সবই আদতে দুধের সর। ঘি বা মাখন দিয়ে মুখরোচক নানা খাবারই তৈরি হয়। যেমন হোয়াইট সস দিয়ে তৈরি মুখরোচক পাস্তা খান অনেকেই।
স্যুপের ক্রিমেও থাকতে পারে দুধের সর। সরভাজা বা সরপুরিয়াসহ নানা মিষ্টান্নও খান অনেকে, যা দুধের সর দিয়ে তৈরি হয়। মালাই চপ, মালাই আইসক্রিম বা মালাই কোফতা—এসবেও আছে দুধের সর। মালাই–চা আর ঘোলের মতো পানীয়ও তৈরি হয় দুধের সর দিয়ে।
বুঝতেই পারছেন, সরাসরি দুধের সর না খেলেও এ ধরনের খাবারে থাকা দুধের সর আপনার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই একজন সুস্থ ব্যক্তিরও এই ধরনের খাবার গ্রহণ করা উচিত পরিমিত পরিমাণে। আর যেসব সমস্যা থাকলে দুধের সর খাওয়া উচিত নয়, সেসব ক্ষেত্রে এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে পারলেই ভালো।