প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক ডায়াবেটিক রোগী পবিত্র হজ পালন করেন। তাঁদের অনেকেই টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাঁরা সরাসরি ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল। টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগীদের অনেকেও ইনসুলিন নেন। হজের সময় ভিনদেশের তপ্ত আবহাওয়া এবং বদলে যাওয়া জীবনপদ্ধতির কারণে ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।
হজের সময় অনেক হাঁটতে হয়। এ ছাড়া পরিবেশে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ইনসুলিন দ্রুত রক্তে মিশে যায়। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
উষ্ণ আবহাওয়ায় শরীরে ইনসুলিন সঞ্চিত থাকে কম। ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া হাজিদের অনেকে এ সময় খেজুরসহ নানা মিষ্টিজাতীয় ফল খান। নানাবিধ কারণে ডায়াবেটিকের রোগীরা সময়মতো ইনসুলিন গ্রহণ করেন না। ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে অনেকে ইনসুলিন নেওয়া ছেড়ে দেন। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধিজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
● ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ইনসুলিন সংরক্ষণ করতে হবে।
● হোটেলের ফ্রিজ হতে পারে ইনসুলিন সংরক্ষণের ভালো জায়গা।
● রোদ থেকে ইনসুলিন দূরে রাখতে হবে।
● গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ইনসুলিন রাখা যাবে না।
● উড়োজাহাজে যাত্রার সময় হাতের লাগেজে ইনসুলিন রাখা উচিত।
● উড়োজাহাজে ইনসুলিন বিমানবালাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। উড়োজাহাজের নির্ধারিত ফ্রিজে তাঁরা সংরক্ষণ করবেন।
● উড়োজাহাজে মূল লাগেজে ইনসুলিন রাখা হলে বাইরে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
● হোটেলের বাইরে বের হলে বিশেষ ধরনের ঠান্ডা ব্যাগের ভেতরে ইনসুলিন রাখতে হবে।
● রক্ত পরীক্ষা করার স্ট্রিপ ও ডায়াবেটিস পর্যবেক্ষণ করার মেশিন যাতে সরাসরি রোদের সংস্পর্শে না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
যাঁরা ইনসুলিন নিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁদের ইনসুলিনের মাত্রা কমানো বা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য নিচের বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
● রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
● গ্লুকোজের মাত্রা অনুযায়ী ইনসুলিনের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
● ইনসুলিন নিয়ে যাঁদের ডায়াবেটিস আগে থেকেই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাঁদের গ্লুকোজের পরিমাণ দেখে প্রয়োজনে ইনসুলিনের মাত্রা কমাতে হবে।
● তাওয়াফ, সাঈ করার পাশাপাশি জামারাতে পাথর নিক্ষেপের দিনগুলোতে বেশি হাঁটলে ইনসুলিন কম লাগতে পারে।
● টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীদের গ্লুকোজের মাত্রা প্রতি লিটারে ১৫ মিলি মোলের বেশি হলে রক্ত বা প্রস্রাবের মধ্যে কিটোন নামে রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে কি না, তা অবশ্যই দেখতে হবে।
● হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে শর্করাসমৃদ্ধ পানীয়, দুধ, ফলের রস অথবা চিনির শরবত পান করতে হবে। এ সময় খেজুর খাওয়া যেতে পারে।
● রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সব সময় বেশি থাকলে কিংবা প্রস্রাব অথবা রক্তে কিটোনের উপস্থিতির ফলে ডায়রিয়া, বমি ইত্যাদি দেখা দিলে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সিএমএইচ, ঢাকা