
বর্ষাকালে ডুবে যাওয়া বা ড্রাউনিং একটি জরুরি ও প্রাণঘাতী স্বাস্থ্য সমস্যা। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের হিসাবে, সারা বিশ্বে প্রতি ঘণ্টায় ১৬টি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। খুব অল্প পানিতে ডুবেও শিশু মারা যেতে পারে। আর পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটে বেলা ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে। পানিতে ডুবলে শিশুর শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যায়। ফুসফুস কাজ করা বন্ধ করে দেয়। হার্ট বন্ধ হয়ে শিশুর মৃত্যু হয়।
পানিতে ডুবলে শিশুর যা হয়
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা অনিয়মিত শ্বাসপ্রশ্বাস।
একটানা কাশি বা অতিরিক্ত কাশি।
বমি হওয়া বা বমি বমি ভাব। মুখে ফেনা বের হওয়া।
ত্বকের রং ফ্যাকাশে। নখ ও ঠোঁট নীলচে হয়ে যায়।
অজ্ঞান হয়ে পড়া বা নিস্তেজ হয়ে যাওয়া।
বুক ধড়ফড় করা, বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা।
তাৎক্ষণিক করণীয়
দিশাহারা না হয়ে আশপাশে থাকা মানুষকে সাহায্যের জন্য ডাকুন। সঙ্গে সঙ্গে পানির বাইরে তুলে আনুন।
গায়ের ভেজা জামাকাপড় পাল্টে শুকনা কাপড় বা চাদর জড়িয়ে দিন।
নাকে হাত দিয়ে দেখুন শ্বাস নিচ্ছে কি না। নাকেমুখে ময়লা-কাদা থাকলে পরিষ্কার করুন।
শ্বাস না থাকলে নাক চেপে ধরে মুখে মুখ লাগিয়ে কৃত্রিম শ্বাস দেবেন। প্রথমে দুবার শ্বাস দেবেন, তারপর ৩০ বার বুকে চাপ দেবেন। হাসপাতালে নেওয়া পর্যন্ত এই কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস চালিয়ে যাবেন।
নিকটস্থ হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে যান।
কখনো পেটে চাপ দেবেন না পানি বের করার জন্য। তাহলে ফুসফুসে পানি চলে যাবে।
ডা. ইমনুল ইসলাম ইমন, অধ্যাপক, শিশু বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়; চেম্বার: আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর ৬, ঢাকা