জ্যোতিষী চিন্ময় বড়ুয়া
জ্যোতিষী চিন্ময় বড়ুয়া

রাশিফল

বিয়ে কিংবা পার্টনারশিপ ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে কোন রাশির জাতকের

অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনিই আপনার ভাগ্যনিয়ন্ত্রক। গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব জীবনে ভূমিকা রাখলেও আপনার সিদ্ধান্ত ও কর্মই চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করে। সাহস, ধৈর্য ও সঠিক মানসিকতা আপনাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। প্রতি শনিবার ‘এ সপ্তাহের রাশিফল’ লিখছেন জ্যোতিষী চিন্ময় বড়ুয়া

এ সপ্তাহের রাশিফল (৩১ জানুয়ারি–০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)

মেষ রাশি (২১ মার্চ–২০ এপ্রিল)

মেষ রাশি

এ সপ্তাহে আপনার মানসিক জগৎ খুব সক্রিয় থাকবে। আবেগ সহজেই বাইরে প্রকাশ পেতে পারে। পরিবার, বিশেষ করে বাড়ির পরিবেশ, মায়ের স্বাস্থ‍্য বা আবাসন-সংক্রান্ত দায়িত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে, যা কাজের প্রতি মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। কর্মক্ষেত্রে কথা বলার সময় অতিরিক্ত আবেগ বা তাড়াহুড়ো করলে ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে, তাই এ সময় নীরবতা ও কৌশলী আচরণ আপনার জন্য বেশি লাভজনক হবে। সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন সহকর্মীর সঙ্গে পুরোনো কোনো বিষয় আবার আলোচনায় আসতে পারে, যার জন্য আপনাকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। আর্থিক ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি নেওয়ার সময় নয়। আগের কোনো বিনিয়োগ, সঞ্চয় বা খরচের পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনা করা দরকার। হঠাৎ পারিবারিক প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে, তাই অর্থ ব্যবস্থাপনায় সংযম জরুরি। মানসিকভাবে আত্মবিশ্বাসে ওঠানামা থাকলেও এটি সাময়িক। নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ না করে ধীরে এগোলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সপ্তাহের শেষ দিকে আবেগ কিছুটা স্থির হবে, চিন্তাভাবনা পরিষ্কার হবে এবং পারিবারিক ও পেশাগত ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিলবে।

বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল–২১ মে)

বৃষ রাশি

শারীরিক সুস্থতাসহ ছোট ছোট বিষয় নিয়েই মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। ভাইবোন, নিকট আত্মীয় বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথাবার্তায় ভুল–বোঝাবুঝির আশঙ্কা আছে। তাই আবেগের বশে কথা বলা এড়িয়ে চলাই ভালো। কাজের সূত্রে ছোট ভ্রমণ বা দৌড়ঝাঁপ বাড়তে পারে, তবে এতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ক্লান্তি আসতে পারে। আর্থিক দিক থেকে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য অনুভূত হতে পারে। হঠাৎ কিছু খরচ আপনার নিরাপত্তাবোধ নষ্ট করতে পারে। নিজের মূল্যবোধ ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ভেতরে ভেতরে দ্বন্দ্ব চলতে পারে, বিশেষ করে অন্যদের মতামত আপনাকে প্রভাবিত করলে। ব্যবসা কিংবা চাকরিতে কাজের চাপ বাড়বে। কর্মক্ষেত্রে নতুন কিছু শুরু করার চেয়ে চলমান কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়াই এ সময় বেশি উপকারী হবে। মানসিকভাবে কিছুটা অস্থির লাগলেও ধৈর্য ধরে বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখলে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হবে এবং আত্মবিশ্বাসও ফিরে আসবে।

মিথুন রাশি (২২ মে–২১ জুন)

মিথুন রাশি

আপনার মনোযোগ মূলত আর্থিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দিকে কেন্দ্রীভূত থাকবে। আয়সংক্রান্ত কোনো পুরোনো বিষয় বা আটকে থাকা সিদ্ধান্ত আবার সামনে আসতে পারে, যার ফলে দুশ্চিন্তা ও দ্বিধা বাড়তে পারে। কাজের ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা নিয়ে অযথা সন্দেহ তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে যখন প্রত্যাশামতো ফল দ্রুত আসছে না। কথাবার্তায় অতিরিক্ত বিশ্লেষণ বা বারবার মত বদল করলে সহকর্মী ও কাছের মানুষদের সঙ্গে ভুল–বোঝাবুঝি হতে পারে। পারিবারিক বা ব্যক্তিগত দায়িত্বের কারণে খরচ বাড়ার আশঙ্কাও আছে, তাই এ সপ্তাহে বাজেটের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। মানসিকভাবে নিজেকে কিছুটা অস্থির ও চাপগ্রস্ত মনে হলেও ধীরে চলা, বাস্তব চিন্তা ও পুরোনো পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সপ্তাহের শেষ দিকে চিন্তাভাবনা পরিষ্কার হবে এবং অর্থ ও আত্মবিশ্বাস—দুটো ক্ষেত্রেই ধীরে ধীরে স্থিরতা আসবে।

কর্কট রাশি (২২ জুন–২২ জুলাই)

কর্কট রাশি

এ সপ্তাহে আপনার আবেগ খুব গভীর ও সংবেদনশীল থাকবে, ফলে নিজের অনুভূতি ও পরিচয় নিয়ে অনেক প্রশ্ন মনে আসতে পারে। অন্যদের কথায় বা আচরণে আপনি সহজেই আঘাত পেতে পারেন, তাই মানসিক সীমা বজায় রাখা জরুরি। পারিবারিক পরিবেশে দায়িত্ব বাড়তে পারে এবং কাছের মানুষের প্রত্যাশা আপনাকে কিছুটা চাপের মধ্যে ফেলতে পারে। কর্মক্ষেত্রে নিজের অবস্থান প্রমাণ করার প্রয়োজন অনুভূত হতে পারে, তবে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি জটিল করতে পারে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুরোনো কোনো বিষয় আবার সামনে আসতে পারে, যা মনের ভেতরে দ্বন্দ্ব তৈরি করবে। দাম্পত্য সম্পর্কে জটিলতা আসতে পারে, ধৈর্য রাখুন।
শারীরিকভাবে শক্তি ও উৎসাহে ওঠানামা থাকতে পারে, তাই বিশ্রাম ও নিজের যত্ন নেওয়া খুব দরকার। ধীরে ধীরে চিন্তাভাবনা পরিষ্কার হলে এবং নিজের অনুভূতিকে বোঝার সময় দিলে সপ্তাহের শেষ দিকে মানসিক ভারসাম্য ফিরে আসবে এবং আত্মবিশ্বাসও কিছুটা বাড়বে। বিনোয়োগ ও অপ্রয়োজনীয় অর্থব্যয় থেকে বিরত থাকুন।

সিংহ রাশি (২৩ জুলাই–২৩ আগস্ট)

সিংহ রাশি

আপনি নিজেকে কিছুটা অন্তর্মুখী অনুভব করতে পারেন এবং একা থাকা বা নিরিবিলিতে ভাবার প্রবণতা বাড়বে। অতীতের কোনো ঘটনা, অপূর্ণ কাজ বা চাপা অনুভূতি মনে ফিরে এসে মানসিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পর্দার আড়ালে কিছু পরিবর্তন বা আলোচনা চলতে পারে, যার পূর্ণ ফল এখনই চোখে পড়বে না, তাই অযথা উদ্বিগ্ন না হওয়াই ভালো। কর্মক্ষেত্রে ভুল–বোঝাবুঝি বা গোপন বিরোধ থেকে সতর্ক থাকা দরকার, বিশেষ করে যাঁদের ওপর আপনি পুরোপুরি ভরসা করেন না। পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হতে পারে, মায়ের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। শারীরিকভাবে ঘুমের সমস্যা বা মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে। এ সময় নিজের ভেতরের ভয় ও দুশ্চিন্তাকে বোঝার চেষ্টা করলে এবং বিশ্রাম, প্রার্থনা বা ধ্যানের মতো কাজে মন দিলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমবে। সপ্তাহের শেষ দিকে ধীরে ধীরে মানসিক স্বস্তি আসবে এবং পরিস্থিতি আপনার নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করবে।

কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট–২৩ সেপ্টেম্বর)

কন্যা রাশি

কন্যা রাশির জাতকদের জন্য এ সপ্তাহে কর্মক্ষেত্রের চাপ মানসিক শান্তি ও পারিবারিক জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হতে পারে। ভাগ্যের সহায়তা তুলনামূলক দুর্বল থাকায় উচ্চশিক্ষা, আইনগত বিষয় বা ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা ও বিলম্ব দেখা দিতে পারে। দায়িত্ব বাড়লেও তার যথাযথ স্বীকৃতি না–ও মিলতে পারে, তাই এ সময় তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলাই ভালো। ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও বাস্তববাদী মনোভাব বজায় রাখলে সপ্তাহের শেষের দিকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অনুকূলে আসতে পারে।
এ সপ্তাহে বন্ধু, সামাজিক যোগাযোগ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে আপনার ভাবনা বাড়বে। অনেকের বিয়ে কিংবা পার্টনারশিপ ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে।

তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর–২৩ অক্টোবর)

তুলা রাশি

সময়টি মানসিক ওঠানামা ও বাস্তব সিদ্ধান্তের পরীক্ষা নিয়ে আসতে পারে। অনুভূতি কখনো গৃহ ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক, কখনো আত্মসম্মান ও কর্তৃত্ববোধে, আবার কখনো কাজ ও দায়বদ্ধতার দিকে ঝুঁকতে পারে। ফলে মন স্থির রাখা কঠিন হতে পারে। শিক্ষা, ভ্রমণ, আইনি বিষয় বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বিভ্রান্তি ও দেরি দেখা দিতে পারে, তাই পুরোনো সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। অর্থ, সম্পদ ও স্থিতিশীলতাসংক্রান্ত বিষয়ে হঠাৎ পরিবর্তন বা অপ্রত্যাশিত চাপ আসতে পারে আর পেশাগত জীবন ও সামাজিক দায়িত্বে গভীর রূপান্তরের অনুভূতি তৈরি হতে পারে। এ সময় অহং ও জেদ এড়িয়ে বাস্তববাদী ও কূটনৈতিক মনোভাব বজায় রাখলে চাপ সামাল দেওয়া সহজ হবে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর–২২ নভেম্বর)

বৃশ্চিক রাশি

বৃশ্চিক রাশির জাতকদের মানসিক গভীরতা ও বাস্তব জীবনের চাপ একসঙ্গে বাড়তে পারে। অনুভূতি কখনো নিরাপত্তা ও পরিবারকেন্দ্রিক, কখনো আত্মপ্রকাশ ও নেতৃত্বের দিকে, আবার কখনো কাজ ও দায়িত্বের ভারে মনোযোগী হতে পারে, ফলে সিদ্ধান্তে দ্বিধা তৈরি হতে পারে। শিক্ষা, যোগাযোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় পুনর্বিবেচনা জরুরি, কারণ ভুল–বোঝাবুঝি বা বিলম্বের যোগ রয়েছে। অর্থ ও যৌথ সম্পদের বিষয়ে হঠাৎ পরিবর্তন বা অপ্রত্যাশিত চাপ আসতে পারে এবং কর্মজীবনে দায়িত্ব ও ক্ষমতার প্রশ্নে গভীর রূপান্তরের ইঙ্গিত রয়েছে। সংযম, কৌশল ও ধৈর্য বজায় রাখলে চাপ সামলে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করা সম্ভব হবে।

ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর–২১ ডিসেম্বর)

ধনু রাশি

ধনু রাশির জন্য সপ্তাহটি মানসিক দিক থেকে গভীর ও পরিবর্তনশীল অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারে। মন কখনো পরিবার ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে, আবার কখনো নিজের অবস্থান ও আত্মসম্মান নিয়ে সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে এবং ধীরে ধীরে কাজ, দায়িত্ব ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ চলে যেতে পারে। ফলে মানসিকভাবে স্থির থাকা কঠিন হতে পারে। শেখা, যোগাযোগ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও বারবার সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো করে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এ সময় অনুকূল নয়। অর্থ ও স্থিতিশীলতাসংক্রান্ত বিষয়ে হঠাৎ পরিবর্তন বা অপ্রত্যাশিত খরচ আপনাকে সতর্ক হতে বাধ্য করতে পারে। বিশেষ করে যেসব বিষয়কে এত দিন নিরাপদ মনে করতেন, সেগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে। একই সঙ্গে সম্পর্ক ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে গভীর চাপ অনুভূত হতে পারে। অন্যের প্রত্যাশা ও নিজের সীমার মধ্যে ভারসাম্য না রাখলে মানসিক ক্লান্তি বাড়বে। এ সময় ধীরে চলা, বাস্তববাদী পরিকল্পনা করা এবং আবেগের চেয়ে যুক্তিকে প্রাধান্য দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর–২০ জানুয়ারি)

মকর রাশি

মকর রাশির জন্য সময়টি জীবনের দায়িত্ব, লক্ষ্য ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে নাড়া দিচ্ছে। মানসিক মনোযোগ কখনো ঘর, পরিবার ও ভেতরের স্থিতির দিকে যাচ্ছে, আবার কখনো নিজের অবস্থান ও সক্ষমতা প্রমাণের তাগিদ বাড়ছে এবং ধীরে ধীরে কাজ, রুটিন ও বাস্তব দায়িত্বের দিকে মন আটকে পড়ছে। ফলে একধরনের মানসিক ভারী ভাব তৈরি হতে পারে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, শেখা বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বারবার সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। আগে যেটাকে সহজ মনে হয়েছিল, এখন সেটাই জটিল লাগতে পারে। অর্থ ও স্থিতিশীলতাসংক্রান্ত বিষয়ে হঠাৎ পরিবর্তন বা অনিশ্চয়তা আপনাকে সতর্ক হতে বাধ্য করবে, বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যেগুলোকে নিরাপদ ভেবে এসেছেন, সেগুলো নতুন করে ভাবতে হতে পারে। একই সঙ্গে কাজ ও সামাজিক দায়িত্বের চাপ গভীরভাবে অনুভূত হতে পারে। দায়িত্ব এড়ানো যাবে না, কিন্তু তার ভার আপনাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করতে পারে। সময়টি দ্রুত ফল পাওয়ার নয়। বরং ধীরে, পরিকল্পিতভাবে এগোনো, নিজের সীমা বোঝা এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে চললে এই চাপই ভবিষ্যতের জন্য আপনাকে আরও শক্ত ও স্থিতিশীল করে তুলবে।

কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি–১৮ ফেব্রুয়ারি)

কুম্ভ রাশি

সময়টি কুম্ভ রাশির ভেতরের চাপ ও বাস্তব দায়িত্বের ভার একসঙ্গে বহন করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাইরে থেকে আপনাকে স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত মনে হলেও ভেতরে চিন্তা থামছে না, কাজের ছোটখাটো বিষয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়গুলো বারবার মাথায় ঘুরতে পারে। অন্যের সঙ্গে যোগাযোগে আপনি আগের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারেন, ফলে সাধারণ কথাবার্তাও ভুলভাবে বোঝার আশঙ্কা থাকে এবং সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব বা নীরবতা তৈরি হতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস কিছুটা কমে যেতে পারে; বিশেষ করে যেসব বিষয়ে আবেগ জড়িত, সেখানে অতীতের অভিজ্ঞতা বর্তমানকে প্রভাবিত করতে পারে। ঘর ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে অজানা অস্থিরতা কাজ করতে পারে, পাশাপাশি অনেক পরিশ্রম করেও ফল ধীরে আসায় মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে। এ সময় নিজেকে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে এগোনো, বিশ্রাম ও নিয়ম মেনে চলা এবং কথা বলার আগে ভাবার অভ্যাস গড়ে তুললে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।

মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি–২০ মার্চ)

মীন রাশি

মীন রাশির জন্য সময়টি আবেগ, চিন্তা ও বাস্তব জীবনের চাপ একসঙ্গে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দেয়। মন কখনো পরিবার, নিরাপত্তা ও আবেগঘন বিষয়ে আটকে থাকতে পারে, আবার কখনো আত্মসম্মান ও নিজের অবস্থান প্রমাণের তাগিদ বাড়তে পারে। মাঝেমধ্যে কাজকর্ম ও দৈনন্দিন দায়িত্ব নিয়ে অতিরিক্ত খুঁটিনাটি ভাবনার প্রবণতা তৈরি হতে পারে, ফলে মানসিকভাবে স্থির থাকা কঠিন হতে পারে। শিক্ষা, যোগাযোগ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও বারবার মত বদলানোর প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাই এ সময় বড় প্রতিশ্রুতি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। অর্থ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে হঠাৎ পরিবর্তন বা অনিশ্চয়তা আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, বিশেষ করে যেসব বিষয়কে আপনি এত দিন স্থির মনে করতেন, সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কর্মজীবন ও সামাজিক দায়িত্বের ক্ষেত্রে গভীর চাপ অনুভূত হতে পারে, দায়িত্ব বাড়লেও মানসিকভাবে একা একা সব সামলানোর অনুভূতি আসতে পারে। সময়টা আপনাকে বাস্তববাদী হতে, আবেগের সঙ্গে যুক্ত সিদ্ধান্তে ধীর হতে এবং ভেতরের শক্তি গড়ে তুলতে বাধ্য করবে। নিয়মিত রুটিন, স্পষ্ট সীমারেখা ও ধৈর্য বজায় রাখতে পারলে এসব চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যতের জন্য আপনাকে আরও পরিণত ও স্থিতিশীল করে তুলবে।