পেটে পানি জমার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ যক্ষ্মা বা টিবি
পেটে পানি জমার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ যক্ষ্মা বা টিবি

ভালো থাকুন

কী কী কারণে পেটে পানি জমে জানেন

পেটে পানি জমা একটি গুরুতর উপসর্গ। বিভিন্ন কারণে পেটে পানি জমতে ও পেট ফুলে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর নাম অ্যাসাইটিস। আসলে কী কারণে পেটে পানি জমে?

যকৃতের রোগ

লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের একটি অন্যতম লক্ষণ হলো পেটে পানি জমা। হেপাটাইটিস বি ও সির সংক্রমণ থেকে সাধারণত লিভার সিরোসিস হয়। মদ্যপান ও ফ্যাটি লিভারও সিরোসিসের কারণ। দীর্ঘদিনের সিরোসিস একসময় ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। আবার সিরোসিস ছাড়াও লিভার ক্যানসার হতে পারে। ক্যানসার লিভার থেকে হতে পারে বা অন্য কোনো অঙ্গের ক্যানসার লিভারে ছড়িয়ে পড়ে লিভারে আক্রমণ করতে পারে। দুই ক্ষেত্রেই পানি জমে পেটে। সাধারণত পাকস্থলী, অন্ত্র, ডিম্বাশয় বা অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার লিভারে ছড়ায়।

যক্ষ্মা

পেটে পানি জমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ যক্ষ্মা বা টিবি। আমাদের ধারণা যে যক্ষ্মা শুধু ফুসফুসে হয়। আসলে যক্ষ্মা যেকোনো অঙ্গে হতে পারে। অন্ত্র বা পেটের মধ্যকার কোনো যক্ষ্মা পেটের আবরণ পেরিটোনিয়ামে ছড়িয়ে একে আক্রান্ত করে ও পেটে পানি জমে। যক্ষ্মা হলে মৃদু জ্বর, অরুচি, ওজন হ্রাস ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়।

হৃদ্‌রোগ

হৃদ্‌রোগ বিশেষত রাইট হার্ট ফেইলিউর হলে শরীরে পানি জমে। এতে পা ফোলার পাশাপাশি পেটেও পানি জমতে পারে। সঙ্গে থাকে শ্বাসকষ্ট।

কিডনির রোগ

কিডনির অকার্যকারিতায় সারা শরীরে যেমন পানি জমে, তেমনি পেটেও পানি জমতে পারে। এর সঙ্গে মুখ ফোলা, পা ফোলা, অরুচি, রক্তস্বল্পতা ইত্যাদি দেখা দেয়।

অ্যালবুমিনের অভাব

শরীরে প্রোটিন বা অ্যালবুমিনের অভাবে পেটে পানি জমা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষত শিশুদের মারাত্মক অপুষ্টিজনিত রোগে পেট ফুলতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন ও যা করবেন

পেট ভারী মনে হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, অস্বস্তি ইত্যাদি হলে পেটের একটা আলট্রাসনোগ্রাফি করলেই অ্যাসাইটিস ধরা পড়ে। মূল বিষয় হলো কারণ অনুসন্ধান করা। লিভার ও কিডনির পরীক্ষা, হার্টের পরীক্ষা, রক্তের অ্যালবুমিন, পেটের আলট্রাসনোগ্রামের পাশাপাশি সিটি স্ক্যান ও অন্য পরীক্ষার দরকার পড়তে পারে। পেটের পানি সুচের মাধ্যমে বের করে তা পরীক্ষা করে কারণ বোঝা সম্ভব।

পেটে পানি আসার কারণ শনাক্ত করে তার চিকিৎসা করতে হবে। যক্ষ্মা হলে সম্পূর্ণ চিকিৎসায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তবে সিরোসিস, ক্যানসার, কিডনি ও হার্ট ফেইলিউর পুরোপুরি সারানো সম্ভব নয়। পানি বেশি জমে গেলে বের করে দিতে হবে। এতে রোগী কিছুটা আরাম পাবেন। মূল রোগের চিকিৎসা করলে সমস্যা অনেকটা কমে আসবে।