
বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের আয়োজনে ২০ জুন বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজিত হয় ‘ক্রাফটস ভিলেজেস আজীবন সম্মাননা’। প্রতিবছরই কারুশিল্প পরিষদ একজন কারুশিল্পীকে এই সম্মাননা দেয়। এ বছর আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় প্রতিমাশিল্পী হরিপদ পালকে। ছয় দশকের বেশি সময় মাটি, মানুষ ও শিল্পকে একসূত্রে গেঁথে কাজ করছেন হরিপদ পাল। জানালেন নিজের শিল্পকর্ম, কর্মজীবন, অনুভূতি ও ভাবনা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুশফিকা হাসান
আপনি ছয় দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিমা গড়ছেন। শুরুটা হয়েছিল কীভাবে?
এটা আমাদের বংশানুক্রমিক কাজ। ছোটবেলা থেকেই এই কাজের প্রতি নেশা, তারপর পেশা হয়ে গেল। আমার দাদু করেছেন, বাবা করেছেন, কাকা করেছেন। দেখতে দেখতেই মনের মধ্যে আগ্রহ জন্মে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে যাই। শিল্পকর্মই আমার নেশা। শিল্পের মাধ্যমে মানুষের মনে অনুভূতি সৃষ্টি করতে চাই।
প্রতিমা গড়েন কোথায়?
কাজ শুরু করি নরসিংদীতে। এখন পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে আমার স্টুডিও। কালীমন্দির ট্রাস্টের মাধ্যমে আমাকে জায়গা দেওয়া হয়। সেখানেই আমার স্টুডিও গড়ে তুলেছি।
আপনার তৈরি প্রথম প্রতিমার কথা মনে আছে?
হ্যাঁ, মনে আছে। নরসিংদীর উত্তরকান্দাপাড়া বিপিণ দাসের বাড়িতে মা মনসার একটি পূজা হয়েছিল দুটি অংশে। সেখানেই প্রথম প্রতিমা গড়েছিলাম পূজার জন্য।
অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি কেমন ছিল?
অনেক ভালো, দুর্দান্ত নাম করেছিলাম প্রতিমা গড়ে।
হাতের স্পর্শে শিল্প গড়ে তোলেন, কিন্তু এখন তো আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে সবখানেই। প্রতিমাশিল্পেও কি কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন?
এখনো হাত দিয়েই প্রতিমা গড়ে তুলি। আধুনিকতার ছোঁয়া বলতে স্প্রে কালার। এটা আগে কেউ ব্যবহার করত না। দেখতে যেহেতু ভালো লাগে, তাই এটা কাজে লাগাতে শুরু করি।
নকশার ভাবনাগুলো আপনার মাথায় কীভাবে আসে?
আশপাশ থেকে ধারণা নিই, অনুপ্রাণিত হই। অনেক সময় গ্রাহকেরা এসেও ডিজাইন দেখান।
আজকে আজীবন সম্মাননাটা পাওয়ার পর আপনার অনুভূতি কেমন?
খুব ভালো লাগছে। এ কাজের মাধ্যমে শিল্পকর্মকে যেন আরও উন্নত করতে পারি—এটাই আশা।
এই পেশা বেছে নেওয়ায় মানুষের আগ্রহ কেমন?
শিল্পকর্মে জোর করে কিছু করা যায় না। ভেতর থেকে আগ্রহ বোধ করলে, এই শিল্পের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলে তবেই পরবর্তী প্রজন্মকে উৎসাহী করে তোলা যাবে।
আপনার ভবিষ্যৎ ভাবনা কী?
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ কাজই করে যেতে চাই। এটা করেই জীবন পার করে দিতে চাই। লাভ–লোকসান নিয়ে কোনো দিন ভাবিনি। ভাবতেও চাই না কখনো।