আমি ভীষণ ক্লান্ত’– কথাটি অনেক সময়ই মানুষের মানসিক অবসাদের প্রকাশ করে
আমি ভীষণ ক্লান্ত’– কথাটি অনেক সময়ই মানুষের মানসিক অবসাদের প্রকাশ করে

কাজের মাঝে ছোট্ট ৫ মিনিটের বিরতিও কেন গুরুত্বপূর্ণ

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিস, কাজ, দায়িত্ব বা পড়ালেখার চাপে কাটে আমাদের প্রতিদিন। কাজের ভিড়ে আমরা প্রায় বুঝতেই পারি না, কখন আমাদের মনটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। অনেকেই এমন সময় ভাবেন, মানসিক শান্তি পেতে হলে হয়তো দীর্ঘ সময়ের মেডিটেশন, একটা লম্বা ভ্রমণ বা জটিল কোনো রুটিন দরকার। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কখনো কখনো মাত্র পাঁচ মিনিটের একটি ছোট বিরতিই আপনার মনকে হালকা করে দিতে পারে।

ছোট অভ্যাসের শক্তি

আচরণবিজ্ঞানী বি জে ফগ তাঁর আলোচিত বই ‘টাইনি হ্যাবিটস’-এ বলেন, কোনো নতুন অভ্যাস গড়ে উঠতে তিনটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করে—কাজের অনুপ্রেরণা, সক্ষমতা ও একটি সংকেত বা সিগন্যাল।

আমরা সাধারণত মনে করি, শক্তিশালী অনুপ্রেরণা থাকলেই বুঝি কাজের স্পৃহা জাগে, নতুন অভ্যাস তৈরি হয়। কিন্তু বাস্তবে এই উদ্যম প্রতিদিন একই রকম থাকে না। ব্যস্ততা, ক্লান্তি কিংবা মানসিক চাপ খুব সহজেই সেটিকে কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, যদি কোনো কাজ এতটাই সহজ হয় যে ক্লান্ত দিনেও করা যায়, তখন সেটি করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

এ কারণেই ছোট অভ্যাস, যেগুলো করতে খুব বেশি সময় বা শক্তি লাগে না, দীর্ঘ মেয়াদে তা অনেক বেশি স্থায়ী হয়। তাই একইভাবে ৫ মিনিটের ছোট বিরতিও আপনার কাজের হারানো স্পৃহা জাগিয়ে তুলতে পারে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ও মেডিটেশন করুন

অস্থিরতা কমানোর ছোট্ট পদ্ধতি

যদি কখনো মনে হয় যে মনটা অস্থির হয়ে যাচ্ছে, তখন একটি ছোট অনুশীলন চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

প্রথমে ধীরে ধীরে চার সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিন, দুই সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর ছয় সেকেন্ডে শ্বাস ছাড়ুন। শ্বাস ছাড়ার সময় কাঁধকে নমনীয় অবস্থানে রাখুন। এই পদ্ধতি তিনবার করুন।

দ্বিতীয়বার শ্বাস নেওয়ার সময় এমন একটি বিষয় মনে করুন, যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ।

তৃতীয়বার শ্বাস নেওয়ার সময় এমন একটি ছোট বিষয় ভাবুন, যার জন্য আপনি আজ অপেক্ষা করছেন; হতে পারে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গ, একটি ফোনকল কিংবা দিনের শেষে একটু বিশ্রাম।

এই তিনটি নিশ্বাসের কৌশলই অনেক সময় মনকে নতুন করে স্থির হতে সাহায্য করে।

নিজের জন্য পাঁচ মিনিট

আমাদের সমাজে অনেক মানুষ, বিশেষ করে নারীরা নিজেদের জন্য সময় পান না একদমই। নিজের জন্য সময় নিতে গেলে তাঁরা প্রায়ই অপরাধবোধ অনুভব করেন। পরিবার, কাজ ও দায়িত্বের ফাঁকে নিজের যত্ন নেওয়াও যেন অনেক সময় বিলাসিতা মনে হয়।

নিজের জন্য পাঁচ মিনিটের এই ছোট বিরতি প্রয়োজন

কিন্তু বাস্তবতা হলো, নিজের মানসিক সুস্থতার জন্য মন ও শরীরের যত্ন নেওয়া কোনো স্বার্থপরতা নয়। বরং এটি আমাদের আরও ধৈর্যশীল, মনোযোগী ও স্থির করে তোলে। পরিবারের আর সবাইকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

পাঁচ মিনিটের এই ছোট বিরতি হয়তো জীবনের সব সমস্যার সমাধান করবে না। কিন্তু প্রতিদিনের ব্যস্ততার ভেতর এই বিরতি মনকে একটু শান্ত, একটু পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। কখনো নতুন করে শুরু করার জন্য হয়তো এতটুকুই যথেষ্ট।

সূত্র: মিডিয়াম