বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন মানুষের কাছে নিজেদের চাওয়া জানানোর জন্য বিড়াল একটি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে আছে শত রকমের ডাক বা শব্দ। কখনো ওরা ‘ম্যাও’ ডেকে বলে, ‘তুমি বাসায় ফিরে এসেছ বলে ভালো লাগছে।’ আবার কখনো সেই ম্যাওয়ের মানে, ‘খাবার দাও।’ এ ছাড়া লেজ নাড়িয়ে, চোখ পিটপিট করে বা গায়ে গা ঘষে নানান কথা বলে যায় ওরা। এ সম্পর্কে একটু ধারণা থাকলে পোষা বিড়ালটির সঙ্গে আপনার সম্পর্ক হতে পারে আরও গভীর।

বিড়াল সব সময় ‘ম্যাও ম্যাও’ করলেও সব ‘ম্যাও’ কিন্তু এক নয়। বিড়ালভেদে ডাক কিছুটা ভিন্ন হলেও কীভাবে ম্যাও ডাকছে সেটি খেয়াল করে এর অর্থ বোঝা যায়। বাইরে থেকে ফিরলে বিড়াল ছোট্ট ম্যাও ডেকে আপনাকে অভিবাদন জানায়। আর লম্বা সময় পর বাসায় ফিরলে পরপর ম্যাও ডাকতে থাকে। এর মাধ্যমে সে বোঝায় আপনাকে পেয়ে সে খুব খুশি।
মাঝারি স্বরে ম্যাও ডাকতে শুনলে বিড়ালকে খাবার বা পানি দিন। কারণ, এটিই তার ক্ষুধা জানানোর ভাষা। আর দীর্ঘ স্বরে ডাকা মানে ওর দাবি জোরালো। এখনই প্রয়োজনটা মেটাতে হবে। ডাকের মাধ্যমে অভিযোগও জানায় বিড়াল। এ জন্য নিচু স্বরে ম্যাও ডাকে। কোনো কিছু নিয়ে বিরক্তি প্রকাশেও এমন স্বরে ডাকতে পারে।
লেজের নাড়াচাড়া করেও মনের কথা জানায় বিড়াল। এর সঙ্গে খেয়াল করতে হবে ওর ডাক। দুটি মিলিয়ে সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার বিড়ালটি কী বোঝাতে চাইছে।
মাথা বাঁকানো লম্বা লেজ উঠিয়ে বিড়াল জানায় সে খুশি। উত্তেজিত বা অস্থির থাকলে লেজটি কাঁপতে থাকে। অনেক সময় লেজের লোমগুলো খাড়া হয়ে ফুলে থাকে। কোনো কিছুকে হুমকি মনে করলে ওরা এমনটি করে। কখনো আবার এটি আপনার সঙ্গে খেলতে চাওয়ারও ইঙ্গিত।
বিড়াল আক্রমণাত্মক হলে লেজ অনেকটা ইংরেজি ‘এন’ অক্ষরের মতো বাঁকিয়ে ফেলে। লেজ নিচু করে শরীরের নিচে গুটিয়ে রাখলে বুঝবেন সে ভয়ে পেয়েছে। আর বিড়ালটি যদি আপনার পায়ের চারপাশে লেজ জড়িয়ে রাখে, তাহলে বুঝবেন ভালোবাসা প্রকাশ করছে।
বিড়ালের চোখের দিকে তাকিয়ে বন্ধুত্ব বাড়ানো যায়। এ জন্য তাকিয়ে ধীরে পলক ফেলুন। সে আদর নিতে এগিয়ে আসবে। তবে পলক না ফেলে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকবেন না। এটিকে বিড়াল আক্রমণাত্মক আচরণ মনে করে। এতে বিড়াল অস্বস্তি বোধ করে। তবে বিড়াল আপনার চোখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকলে বিষয়টি উল্টো। এর মাধ্যমে আপনার ওপর বিড়ালের আস্থা প্রকাশ পায়। চোখে চোখ রেখে সে বলে, তোমার চারপাশে থাকতে আমার ভালো লাগে। আর স্নেহ প্রকাশে ওরা ধীরে ধীরে চোখের পলক ফেলে। বিড়াল যদি চোখের মণি বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে, তাহলে এর অর্থ তিন রকম—খেলতে চাইছে, উত্তেজিত অথবা ভয় পেয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে আছে। এ ক্ষেত্রে ওর অন্য সব আচরণ খেয়াল করে ঠিকঠাক অর্থ বের করতে হবে।
বিড়ালের আচরণ থেকেও নানা অর্থ করা যায়। আচরণের মাধ্যমেও বিড়াল আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করে। গায়ে গা ঘষে জানায়, আপনি তার খুব আপন। বিড়াল নিজের নাক আপনার নাকে ছোঁয়ালে সেটিও ভালোবাসার প্রকাশ। বন্ধু হতে চাইলে মাথা দিয়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে সেটি জানিয়ে দেবে ওরা।
বিড়ালকে কখনো কখনো শরীরের বিভিন্ন অংশ চাটতে দেখা যায়। আপনাকে তাদের নিজের পরিবারের সদস্য মনে করলে তারা এমনটি করে। মূলত মা বিড়াল নিজের সন্তানকে এভাবে পরিষ্কার করে।
অনেক বিড়াল আবার মাথার চুল খেতে চেষ্টা করে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটির মাধ্যমে ওরা আপনাকে ‘গ্রুম’ বা পরিপাটি করতে চায়। হালকা কামড় দেওয়ার চেষ্টা করলে বিড়াল থেকে দূরে থাকুন। এর অর্থ, ‘আমাকে কিছুক্ষণ একা থাকতে দাও।’
সূত্র: উইকি হাউ