
‘তাঁদের একটি স্বপ্ন ছিল এবং ছিল সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সাহস। সেই স্বপ্ন বিত্তশালী বা বিখ্যাত হওয়ার স্বপ্ন নয়। বরং মানবজাতিকে একটি কিছু উপহার দেওয়ার স্বপ্ন। মানবজাতিকে ওড়ার জন্য ডানা দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা’, কথাগুলো বলেছেন ফার্স্ট ফ্লাইট সোসাইটির সদস্য সিন ডি টাকার। এই ‘তাঁরা’ কারা? ঠিক ধরেছেন, রাইট ভ্রাতৃদ্বয়। মানুষের আকাশে ওড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের গোড়ার দিকের দুই দিকপাল।
অরভিল আর উইলবার—পিঠাপিঠি দুই ভাই। স্বভাবে বিপরীতমুখী, কিন্তু স্বপ্ন অভিন্ন। বড় ভাই উইলবার গম্ভীর, ধীরস্থির। আর ছোট অরভিল প্রাণবন্ত, চঞ্চল। তাঁদের কাজের ক্ষেত্রেও আছে ভিন্নতা। বড় ভাই পরিকল্পনা করেন, দিকনির্দেশনা দেন। আর সেগুলো বাস্তবায়ন করেন ছোট ভাই।
শিশুকালেই দুই ভাইয়ের মনে আকাশজয়ের নেশা দানা বেঁধেছিল। জানা যায়, বাবার দেওয়া খেলনা হেলিকপ্টার তাঁদের মনে বুনে দিয়েছিল স্বপ্নের বীজ। অবশ্য কর্মজীবন শুরু করেছিলেন পত্রিকার ব্যবসা দিয়ে। ব্যবসা সফল হয়নি। এরপর দুই ভাই ‘দ্য রাইট সাইকেল কোম্পানি’ নামে বাইসাইকেলের ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে ভাড়া দেওয়া বা যন্ত্রাংশ বেচাকেনায় সীমাবদ্ধ থাকলেও শিগগিরই তাঁরা নতুন নতুন নকশায় সাইকেল তৈরি করতে শুরু করেন। ২০ বছর এই ব্যবসা করে আয়রোজগারও করলেন বেশ। এরপর শুরু হলো আসল স্বপ্নের পথে যাত্রা। ১৮৯৯ সাল থেকে শুরু হলো গবেষণা। ১৯০০ সালে তৈরি করলেন প্রথম গ্লাইডার (একধরনের উড়োযান)। ১৯০১-১৯০৩ নিরলসভাবে চলতে থাকে প্রচেষ্টা। ১৯০৩ সালের ডিসেম্বরে আসে সাফল্য।
১৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টা। উত্তর ক্যারোলাইনার কিটি হকসংলগ্ন কিল ডেভিল হিল। ফ্লায়ারের পাটাতনে চড়ে বসলেন অরভিল। ইঞ্জিন চালু হলো। ঠিক ১০টা ৩৫ মিনিট। অরভিলকে বুকে নিয়ে শূন্যে উড়াল দিল ফ্লায়ার। মাত্র ১২ সেকেন্ড। অতিক্রান্ত দূরত্ব ১২০ ফুট। তাতে কী! এই ১২ সেকেন্ডই পৃথিবীর গতিপথকে চিরতরে বদলে দিল।
আজ সেই ১৭ ডিসেম্বর। রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রতি সম্মান জানাতে প্রতিবছর দিনটি ‘রাইট ব্রাদার্স ডে’ হিসেবে পালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার ১৯৫৯ সালে দিবসটি ঘোষণা করেন।
ডেজ অব দ্য ইয়ার অবলম্বনে