স্ত্রীর ক্যানসারের সংবাদ পেয়ে কেন সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন আয়ুষ্মান খুরানা
জীবনযাপন ডেস্ক
বলিউড অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানা ও তাহিরা কশ্যপের পরিচয় ভারতের চণ্ডীগড়ে, দ্বাদশ শ্রেণিতে। তাঁরা একই শিক্ষকের ব্যাচে পদার্থবিজ্ঞান পড়তেন। সেখান থেকে এই দুজনের রসায়নের শুরুআয়ুষ্মান তখন নিজেকে নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগতেন। নিজেকে তাহিরার যোগ্য ভাবতেন না। চশমা পরতেন। দাঁতে ব্রেস লাগানো ছিল। তাহিরার ‘ক্রাশ’ আছে শুনে ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েছিলেন। যদিও তত দিনে আয়ুষ্মান বা তাহিরার কোনো কথাই হয়নিএকদিন বন্ধুবান্ধব নিয়ে পারিবারিক ডিনারে আয়ুষ্মান গান গাইলে তাহিরা তাঁর গান, রসবোধ ও ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হন, সেখান থেকেই দুজনের বন্ধুত্বের শুরু১৯ বছর বয়সে আয়ুষ্মান ও তাহিরা দুজনেই চণ্ডীগড়ের থিয়েটার গ্রুপ ‘মঞ্চ মন্ত্রা’য় যোগ দেন। মঞ্চ মন্ত্রার প্রথম প্রযোজিত নাটকটি লিখেছিলেন তাহিরা। এখান থেকেই বন্ধুত্ব প্রেমে গড়ায়আট বছরের প্রেম, তারপর বিয়ে। আয়ুষ্মানের তাঁর জীবনের প্রথম ক্রাশ আর প্রথম প্রেমকেই জীবনসঙ্গী বানিয়েছেন। প্রায় আট বছর প্রেমের পর ২০০৮ সালের ১ নভেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়আয়ুষ্মান তাহিরাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন সিনেমার মতো করে। হীরার আংটি, লাল গোলাপ, গান আর ক্যান্ডেল লাইট ডিনার—বাদ যায়নি কিছুইআয়ুষ্মান ও তাহিরা দম্পতির দুই সন্তান। তাঁদের ছেলে বিরাজবীর খুরানার জন্ম ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি। মেয়ে বরুষ্কা খুরানার জন্ম ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিলআয়ুষ্মান নিজেকে বেশ ‘ঢিলেঢালা বাবা’ বলে মনে করেন। বছরের প্রায় ছয় মাস শুটিংয়ে কাটে বলে সন্তানদের সঙ্গে কড়া হওয়ার সুযোগ কম পান। মজা করে নিজেকে ‘গুড কপ’ আর তাহিরাকে ‘ব্যাড কপ’ বলেনমেয়ের প্রতি একটু বেশিই দুর্বল আয়ুষ্মান। যতটুকু সময় পান, সন্তানদের সঙ্গে হেসে, খেলে, আনন্দ করে কাটিয়ে দিতে চানআয়ুষ্মানের বাবা বাঁশি বাজাতেন, দাদি গান গাইতেন। ফলে সংগীত তাঁর রক্তে। স্কুলে থাকতে আয়ুষ্মান ‘গ্র্যাভিটি’ নামের ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে নিজের ব্যান্ড ‘আয়ুষ্মান ভাবা’ নিয়ে লাইভ কনসার্টও করেনকবিতা লেখার ঝোঁক আয়ুষ্মানের ছোটবেলা থেকেই। হিন্দি-উর্দুতে কবিতা লেখেন। এখনো একটি নিজস্ব ডায়েরি সঙ্গে রাখেন, যখন যা মনে হয়, লিখে ফেলেনমজার বিষয়, আয়ুষ্মানের অনেক কবিতা হৃদয় ভাঙার। তবে বাস্তবে প্রেমের কারণে তাঁর হৃদয় কখনো ভাঙেনি বলেই জানে সবাইবই, গিটার আর ক্রিকেট—এসবই আয়ুষ্মানের শখ। গিটার বাজানো তাঁর স্ট্রেস কমানোর উপায়। আর ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আলাদা টানপ্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ মিনিট করে মেডিটেশন করেন আয়ুষ্মান। তাহিরার উৎসাহেই এই অভ্যাসে বেশি মনোযোগী হয়েছেন২০১৮ সালে তাহিরার যেদিন স্তন ক্যানসার ধরা পড়েছিল, সেদিন ছিল ১৪ সেপ্টেম্বর, আয়ুষ্মানের জন্মদিনসেদিন হাসপাতালে সেই ভয়াবহ খবর পাওয়ার পরও তাঁরা বাড়ি ফিরে বসে থাকেননি। বরং ঠিক করেছিলেন, মন খারাপ করে বসে না থেকে সিনেমা দেখতে যাবেন। তাঁরা ‘মানমারজিয়া’ দেখতে গিয়েছিলেন এবং সেদিনই ম্যাসটেকটমির (এক বা উভয় স্তন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কেটে ফেলে দেওয়ার অস্ত্রোপচার) তারিখও ঠিক করেন। কেমোথেরাপিও নেন
বিজ্ঞাপন
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তাহিরা ক্যানসারমুক্ত হওয়ার পর আয়ুষ্মান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমরা দুজন মিলে ঠিক করেছিলাম, আমরা এই রোগের কাছে হার মানব না। আর মন খারাপ না করে নিজেদের সব ইতিবাচক শক্তি দিয়ে এর বিরুদ্ধে লড়ব।’সেলিব্রিটি নেট ওর্থের তথ্য অনুসারে, আয়ুষ্মানের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮০ কোটি থেকে ১০০ কোটি রুপিক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ‘ভিকি ডোনার’, ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’, ‘আর্টিকেল ১৫’, ‘বালা’র মতো সিনেমায় তিনি এমন সব চরিত্র বেছে নিয়েছেন, যেখানে পুরুষের দুর্বলতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব বা হীনম্মন্যতা, শরীর নিয়ে সামাজিক ট্যাবুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছেবলিউডে তিনি ‘আউটকামার’ হয়েও ‘সেফ গেম’ খেলেননি। কোনো ফর্মুলায় নিজেকে আটকাননি। এটিই বলিউডের রাস্তায় তাঁর স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছেশাহরুখ খানকে অনুসরণ করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। ভেবেছিলেন, সেভাবেই অভিনেতা হবেনসাংবাদিকতায় পড়াশোনা শেষে আয়ুষ্মান রেডিও জকি হিসেবে কাজ শুরু করেন। এমটিভির জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘রোডিস’–এর দ্বিতীয় সিজনের বিজয়ী হন। এরপর একে একে এমটিভির বিভিন্ন শো হোস্ট করা শুরু করেন। ডাক পান বলিউডে