সম্পর্কের সবচেয়ে বড় স্বস্তি সেখানেই, যেখানে আপনি নিজেকে বদলে গ্রহণযোগ্য হওয়ার চেষ্টা না করে নিজের মতো করেই নিরাপদ বোধ করেন
সম্পর্কের সবচেয়ে বড় স্বস্তি সেখানেই, যেখানে আপনি নিজেকে বদলে গ্রহণযোগ্য হওয়ার চেষ্টা না করে নিজের মতো করেই নিরাপদ বোধ করেন

সম্পর্কে ‘কম্প্যাটিবিলিটি টেস্ট’ করবেন কীভাবে? মিলিয়ে নিন ৫ বৈশিষ্ট্য

সম্পর্কে ‘কম্প্যাটিবিলিটি’ থাকা বা ‘একে অপরের জন্য মানানসই হওয়া’ খুবই জনপ্রিয় একটা শব্দ। হয়তো দুজনই মানুষ হিসেবে দুর্দান্ত, কিন্তু একজন আরেকজনের জন্য সঠিক না–ও হতে পারেন। এখানেই আসে ‘ইমোশনাল কম্প্যাটিবিলিটি’র খেল! কীভাবে বুঝবেন সামনের মানুষটা আপনার জন্য জুতসই? মিলিয়ে নিন লক্ষণগুলো।

১. কঠিন কথাও বলতে পারেন আরামসে

অর্থ, পরিবার, ঈর্ষা, ব্যক্তিগত সীমারেখা কিংবা ভবিষ্যৎ—সম্পর্কে অস্বস্তিকর বিষয় আসবেই। আবেগগতভাবে মানানসই সঙ্গীর সঙ্গে এসব কথা বলতে প্রতিটি বাক্য আগে থেকে মেপে নিতে হয় না। দরকার পড়ে না দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতির।

আপনি বলতে পারেন, ‘তোমার অমুক ব্যাপারে আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছি।’ আর আশা করতে পারেন, অন্তত আপনার কথাটা সঙ্গী বোঝার চেষ্টা করছেন, মূল্যায়ন করছেন।

দুজনের রাগ প্রকাশের ধরন আলাদা হতে পারে

২. প্রতিটি অনুভূতি নতুন করে বোঝাতে হয় না

সঙ্গী আপনার মনের কথা পড়তে পারবেন—এমন প্রত্যাশা অবাস্তব। কিন্তু তিনি আপনার স্বাভাবিক আচরণের পরিবর্তন লক্ষ করেন কি না, কখন আপনার আশ্বাস দরকার আর কখন একটু একা থাকতে চান—এসব বোঝার চেষ্টা করেন কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ ‘মাইন্ড রিডিং’ নয়, বরং মনোযোগ দিয়ে শোনা ও খেয়াল রাখা। আর খানিকটা বুঝে নেওয়াও বটে।

৩. মতভেদ হয়, কিন্তু তা সম্পর্ককে অনিরাপদ করে না

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুজনের রাগ প্রকাশের ধরন আলাদা হতে পারে। একজন হয়তো সঙ্গে সঙ্গে কথা বলতে চান, অন্যজন হয়তো কিছুটা সময় নিয়ে শান্ত হতে চান। পার্থক্য থাকবেই।

তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ঝগড়ার সময় অপমান, হুমকি বা ইচ্ছাকৃত আঘাতের বদলে দুজন কি পরে আবার আলোচনায় ফিরতে পারেন? দুজনেই যেকোনো ছোট্ট থেকে ক্ষুদ্র, বড় থেকে আরও বড় সমাধানে আন্তরিক কি না?

কারও ভালোবাসা প্রকাশের ধরন কথায়, কারও কাজে

৪. একে অপরের কাছে দুর্বল হতে পারেন

ভয়, অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা কিংবা খারাপ দিন—এসব লুকিয়ে সব সময় ‘আমি ঠিক আছি’ বলতে হয় না। নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে পারেন অকপটে। যদি বিচার বা অপমানের ভয় না থাকে, সেটি আবেগগত নিরাপত্তার বড় লক্ষণ।

৫. আবেগগত প্রয়োজন নিয়ে দর–কষাকষি করতে হয় না

সঙ্গীকে সমর্থন দিন, সময় দিন

কারও ভালোবাসা প্রকাশের ধরন কথায়, কারও কাজে। কেউ বেশি যোগাযোগ চান, কেউ ব্যক্তিগত পরিসর। প্রয়োজন এক না হলেও সমস্যা নেই। আসল বিষয় হলো, দুজনেই কি একে অপরের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে মাঝামাঝি জায়গায় আসার চেষ্টা করেন? প্রয়োজনের সময় সঙ্গীকে মানসিকভাবে সমর্থন করার তাগিদ অনুভব করেন? প্রচেষ্টা থাকে?

সম্পর্কের সবচেয়ে বড় স্বস্তি সেখানেই, যেখানে আপনি নিজেকে বদলে গ্রহণযোগ্য হওয়ার চেষ্টা না করে নিজের মতো করেই নিরাপদ বোধ করেন।

সূত্র: নিউজ উইক