আমরা যখন কাউকে প্রথম দেখি, চোখে পড়ে তার হাসি, কথা বলার ধরন, স্টাইল। কিন্তু সত্যিটা হলো, আকর্ষণের একটা বড় অংশ কাজ করে অবচেতনে, যা আমরা বুঝতেই পারি না। প্রথম দেখায় সম্পর্ক তৈরি হওয়ার গোপন উপাদান সম্পর্ক তৈরিতে কলকাঠি নাড়তে পারে। আর সেটি হলো পারফিউমের ঘ্রাণ, শরীরের নিজস্ব গন্ধ বা এ দুইয়ের মিশ্রণ।
আপনি হয়তো বুঝতে পারেন না, কিন্তু কারও পারফিউমের পছন্দ ও শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ আপনার ভালো লাগা বা না–লাগার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। কৃত্রিম ঘ্রাণ বা পারফিউমের সঙ্গে শরীরের প্রাকৃতিক গন্ধ ও ত্বকের রসয়ানে তৈরি করে একধরনের নীরব আকর্ষণ অথবা বিকর্ষণ।
বিজ্ঞান অনুযায়ী, আমাদের শরীর থেকে নির্গত হয় কিছু রাসায়নিক সংকেত (ফেরোমোনের মতো)। অন্য মানুষের মস্তিষ্কে আকর্ষণ বা বিশেষ অনুভূতি তৈরি করতে পারে। এটি বিশেষ ‘বায়োলজিক্যাল ম্যাচিং’ হিসেবে কাজ করে। যেখানে শরীর নিজেই বলে, ‘এই মানুষটা আমার সঙ্গে মানানসই।’ মনোবিজ্ঞান বলে, আপনার যদি অপর মানুষটির গায়ের নিজস্ব গন্ধ ভালো লাগে, তাহলে সেই মানুষটি আপনার সঠিক সঙ্গী হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
শুধু প্রথম আকর্ষণ নয়, গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিয় মানুষের গন্ধ মানসিক শান্তি দেয়। মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। সম্পর্কের বন্ধন শক্তিশালী করে। অর্থাৎ গন্ধ শুধু ‘স্পার্ক’ তৈরি করে না, সেই সঙ্গে বন্ধনও গভীর করে।
হ্যাঁ। পারফিউম আপনার বিপরীত মানুষটির প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে পারে। কিন্তু এটি আপনার স্বাভাবিক গন্ধকে ঢেকে না দিয়ে বরং শরীরের নিজস্ব গন্ধের সঙ্গে সমন্বয় করলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
প্রেম শুধু চোখে দেখা বা কথায় গড়া নয়। এর ভেতরে কাজ করে শরীর, মস্তিষ্ক আর অনুভূতির জটিল খেলা। সেই খেলায় গন্ধ বা ঘ্রাণ একটি নীরব অথচ শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। অনেক সময় আমরা ভাবি, কেন যেন মানুষটাকে ভালো লাগছে না! এর পেছনে ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হিসেবে লুকিয়ে থাকতে পারে এই অদৃশ্য ঘ্রাণ-সংকেত। অনেক সময় একজনকে ভালো লাগার পেছনে শুধু চেহারা বা কথা নয়, অদৃশ্য ‘গন্ধের কেমিস্ট্রি’ই অনেক সময় সম্পর্কের আসল জাদু তৈরি করে।
সূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড