এক রাতে ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেসের ফলোয়ার কত বেড়েছে, জানলে অবাক হবেন

ভিভা এসপানিয়া (স্পেন দীর্ঘজীবী হোক)!—কাল রাতে যখন মাঠে বিশ্বকাপজয়ী লামিনে ইয়ামালরা এই স্লোগান দিচ্ছেন, তখন মাঠে ছুটে এলেন ইনেস গার্সিয়া সান্তোস। ২১ বছরের তরুণী, পেশায় মডেল ও ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার। সারা বিশ্বের ক্যামেরার সামনে তিনি এই তো লামিনের কোকড়া চুলে বিলি কেটে দিচ্ছেন, আবার কখনো লামিনের দিকে ছুড়ে মারছেন টিস্যু। তবে কাল রাতে মাঠে বিশ্ব তাঁর আরেক পরিচয় ভালোভাবে জানল, তিনি ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামালের প্রেমিকা। আর এই ইনেসকেই বিশ্বকাপে করা প্রথম গোলটি উৎসর্গ করেছিলেন ইয়ামাল।

স্পেন বিশ্বকাপ জেতার পর ইনেস গার্সিয়া সান্তোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লামিনে ইয়ামালের উদ্দেশে লেখেন, ‘তুমি পেরেছ। অভিনন্দন, আমার ভালোবাসা। অভিনন্দন, আমার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!’
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
২১ বছর বয়সী ইনেস গার্সিয়া সান্তোস স্পেনের সেভিলের বাসিন্দা এবং ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল-বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী ছাড়িয়ে গেছে ২৪ লাখ।
২০২৪ সালে পরিচয় ইয়ামাল ও ইনেসের। লামিনই ইনস্টাগ্রামে ডিএম করেছিলেন ইনেসকে।
২০২৬ সালের মে মাসে বার্সেলোনার একটি উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে তাঁরা প্রথমবার প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা দেন।
বিশ্বকাপজুড়ে ইনেসকে গ্যালারিতে বসে ইয়ামালকে সমর্থন করতে দেখা গেছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ের ম্যাচে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল। ম্যাচ শেষে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘গোলটি আমার মা, আমার প্রেমিকা, আমার বন্ধুরা আর মাতারোবাসী (স্পেনের কাতালোনিয়া শহরের একটি এলাকা, যেখানে ইয়ামাল বেড়ে উঠেছেন)—সবার উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’
শুরুতে ফ্যাশন, পোশাক, ত্বকের যত্ন, ভ্রমণ ও দৈনন্দিন জীবন নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেই জনপ্রিয়তা পান ইনেস।
ইয়ামালের সঙ্গে সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।
ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের আগপর্যন্ত ইনেসের ফলোয়ার ছিল ১০ লাখ। ইয়ামালরা বিশ্বকাপ জয়ের পর রাতারাতি তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখে। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে ইনেসের অনুসারী বেড়ে গেছে ১৪ লাখ!
২০২৬ সালের এপ্রিলে গ্রিসে একসঙ্গে ছুটি কাটানোর সময় হাত ধরাধরি করে হাঁটার ছবি প্রকাশের পর ইয়ামাল ও ইনেসের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। পরে বার্সেলোনায় ব্যাড বানির কনসার্টেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়।
একই বছরের মে মাসে বার্সেলোনার ঘরোয়া তিনটি শিরোপা জয়ের উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে ইয়ামাল ও ইনেস প্রথমবার প্রকাশ্যে একসঙ্গে উপস্থিত হন।
অনুষ্ঠানে তাঁরা একসঙ্গে আসেন, হাত ধরে বের হন এবং বার্সেলোনার অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রামেও তাঁদের ছবি প্রকাশিত হয়।
উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরেও তাঁরা একসঙ্গে ভ্রমণ করেছেন। নিউইয়র্কে গভীর রাতে একটি হালাল ফুড কার্টে তাঁদের একসঙ্গে খাবার খাওয়ার ছবিও প্রকাশিত হয়।
বিশ্বকাপ ফাইনালেও তিনি মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে স্পেনের শিরোপা জয় উদ্‌যাপন করেন।
ইয়ামাল ও ইনেসের এই বন্ধুত্বপূর্ণ, খুনসুটিময় প্রেমের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ইতিমধ্যে স্পেনের বিশ্বকাপ উদ্‌যাপনের মুহূর্তের একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠেছেন ইনেস গার্সিয়া সান্তোস।

সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস