৫ বছর প্রেমের পর ৩২ বছরের দাম্পত্য, যৌথ জীবনের রহস্য জানালেন জিদানের স্ত্রী ভেরোনিক

ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন ৫৪ বছর বয়সী ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। মাঠের সাফল্যের মতোই তাঁর ব্যক্তিজীবনও অনন্য। গত জুনে স্ত্রী ভেরোনিক জিদানের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের ৩২ বছর পূর্ণ করেছেন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকা এই দম্পতির দীর্ঘ সম্পর্কের গল্পও কম চমকপ্রদ নয়।

২০২৪ সালের জুনে বিয়ের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন জিনেদিন জিদান ও ভেরোনিক। ওই অনুষ্ঠানে আবারও বিয়ের শপথ নেন তাঁরা। এ বছর তাঁদের দাম্পত্য জীবনের বয়স দাঁড়াল ৩২ বছরে
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
ভেরোনিকের পুরো নাম ভেরোনিক ফার্নান্দেজ লেন্তিস্কো। ১৯৭০ সালে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের রোদেজ শহরে তাঁর জন্ম। মা–বাবা দুজনই স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চল থেকে ফ্রান্সে অভিবাসী হয়েছিলেন। তাই ফরাসি হলেও স্প্যানিশ সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর সংযোগ গভীর
বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন ভেরোনিক। কিন্তু নাচের প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে কান শহরের ইউরোপের অন্যতম সেরা নাচের স্কুল রোসেলা হাইটাওয়ার ড্যান্স স্কুলে ভর্তি হন। সেখানেই ১৯৮৯ সালে জিদানের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়
প্রথম দেখাতেই ভালো লেগেছিল ভেরোনিককে। কিন্তু লাজুক স্বভাবের কারণে অনেক দিন কথা বলতে পারেননি জিদান। কয়েক মাস পর সাহস করে শুধু ‘হ্যালো’ বলেই শুরু হয়েছিল তাঁদের আলাপ, প্রেম
প্রায় পাঁচ বছর প্রেম করার পর ১৯৯৪ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। বিশ্বকাপ, ব্যালন ডি’অর কিংবা বিশ্বজোড়া খ্যাতি—সবকিছুর আগেই গড়ে উঠেছিল তাঁদের সম্পর্কের ভিত। ভেরোনিক নিজের নৃত্যজীবনের স্বপ্ন পাশে রেখে সংসার ও জিদানের ক্যারিয়ারকে অগ্রাধিকার দেন
এই দম্পতির চার ছেলে—এনজো, লুকা, থিও ও ইলিয়াজ। চারজনই পেশাদার ফুটবলার। বড় ছেলে এনজো অবসর নিলেও অন্য তিন ছেলে এখনো পেশাদার ফুটবলার। লুকা এবার জিদানের পিতৃভূমি আলজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন
জিদানের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও ভেরোনিকের প্রভাব ছিল। জিদান নিজেও একাধিকবার বলেছেন, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোয়ও ভেরোনিক তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন
২০১৩ সালে স্ত্রীর জন্মশহর রোদেজে সফরে গিয়ে আর্থিক সংকটে থাকা স্থানীয় ক্লাব রোদেজ অ্যাভেরোঁ এফসি-কে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন জিদান ও ভেরোনিক। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ক্লাবের বিভিন্ন আয়োজনে উপস্থিত থেকেও সমর্থন জানান তাঁরা
খ্যাতির শীর্ষে থাকলেও ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আড়ালে রেখেছেন তাঁরা। ভেরোনিকের কোনো ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট নেই। পরিবার ও সন্তানদের নিয়েই তাঁর ব্যস্ততা বেশি। ইতিমধ্যে নাতি-নাতনির মুখও দেখেছেন জিদান–ভেরোনিক
দীর্ঘ সুখী দাম্পত্যের রহস্য কী? স্প্যানিশ সাময়িকী ‘হোলা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভেরোনিকের সহজ উত্তর, ‘ভালোবাসা। আমরা একে অপরকে ভালোবাসি, এটাই সব। আমরা সারাজীবন একসঙ্গে থাকতে চাই’

সূত্র: হোলা, ইকোনমিক টাইমস ও দ্য আইরিশ সান