বন্ধুদের সঙ্গে লেখক
বন্ধুদের সঙ্গে লেখক

বিদেশি বন্ধুরা তেহারি মুখে দিয়ে বলছিল, ‘দিস ইজ টু স্পাইসি!’

ঈদে সবারই যে ‘স্বপ্ন বাড়ি ফেরে’, তা তো নয়। অনেকেই দেশ থেকে হাজারো মাইল দূরের কোনো ভিনদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদ উদ্‌যাপন করেন। বাড়ির জন্য মন কাঁদে ঠিক। তবে ভিন্ন পরিবেশে, নানা দেশের সহপাঠী–বন্ধুদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপনেরও কিন্তু একটা আলাদা আনন্দ আছে। সে আনন্দের কথাই লিখে জানিয়েছেন মাইশা নুসরাত

দেশে থাকলে হয়তো পরিবারের সদস্যদের ডাকে ঘুম ভাঙত। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসত সেমাইয়ের গন্ধ। ফোনের পর ফোনে ভরে যেত সকালটা। কিন্তু এখানে, ঈদের সকালটা যেন একটু বেশিই চুপচাপ।

আগের রাতেই ঠিক করেছিলাম, যত দূরেই থাকি, ঈদের আমেজটা নিজের মতো করে তৈরি করব। তাই টুকটাক রান্না করলাম। রান্নাঘরে মসলার ঘ্রাণটা যখন নাকে এসে লাগল, হঠাৎ মনে হচ্ছিল যেন কিছুটা হলেও বাংলাদেশকে এখানে নিয়ে আসতে পেরেছি। তবে শেষ পর্যন্ত তেহারিটা একটু বেশিই ঝাল হয়ে গিয়েছিল! আমার বিদেশি বন্ধুরা সেই তেহারি মুখে দিয়ে বলছিল, ‘দিস ইজ টু স্পাইসি!’

ঈদের নতুন জামা পরেই গিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেটা সায়েন্স ক্লাসে। মনে হচ্ছিল, কিছু না করার চেয়ে এটা হয়তো ভালো। ক্লাসেও কয়েকজনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার সময় আরেকটা পরিবারের মতোই মনে হয়েছে। ক্লাস শেষে বাসায় ফিরে ভিডিও কলে পরিবারের সঙ্গে কথা বললাম। দেশে তখন ঈদের আগের রাত। মা রান্নাঘরে ব্যস্ত। স্ক্রিনের ওপাশে সেই চেনা দৃশ্য, আর এপাশে আমার নিঃশব্দ ঘর। কথা বলতে বলতেই বুঝতে পারলাম, মনটা কেমন ভারী হয়ে আসছে। যেন খুব কাছের কিছু, হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়, তবু পাচ্ছি না।

মনটা অন্যদিকে নিতে বিকেলে পাকিস্তানি বন্ধুদের ফোন করলাম। ঠিক করলাম, বাইরে বেরোব। আলমারি থেকে বের করলাম বাংলাদেশ থেকে আনা আমার প্রিয় কুর্তি। জামাটা পরার একটা উপলক্ষ তো পাওয়া গেল!

এখানে মন্তে দেই কাপুচিনির ওপরে দাঁড়িয়ে পুরো তুরিন শহরটা দেখা যায়। সূর্য ডুবতে থাকা আলোয় আমরা একসঙ্গে ছবি তুললাম, হাসলাম, গল্প করলাম। সন্ধ্যায় একটা রেস্তোরাঁয় গেলাম। আমি অর্ডার করলাম বিরিয়ানি। প্রথম গ্রাসেই মনে হলো স্বাদটা কত পরিচিত, কত কাছের!

দিনের শেষে বুঝলাম, এই ঈদটা হয়তো অন্য সব ঈদের মতো ছিল না, ছিল না পরিবারের ভালোবাসা, ব্যস্ততা। কিন্তু ছিল নতুন মানুষ, নতুন অভিজ্ঞতা, আর কিছু ছোট ছোট মুহূর্ত; যা আজীবন মনে থাকবে।