ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরে উপচে পড়া ভিড়
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরে উপচে পড়া ভিড়

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে চলছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর। মেলায় স্থান পেয়েছে দেশি-বিদেশি ৩৫০টি প্রতিষ্ঠানের স্টল। হল এ ও হল বি—এই দুই মূল হল ছাড়া প্রদর্শনী কেন্দ্রের বাইরেও বসেছে স্টল।

গ্যাস–সংকটের কারণেই কি না কে জানে, প্রথমে গ্যাস ছাড়া রান্নার অনুষঙ্গের খোঁজ নিলাম। সোলাস ব্র্যান্ডের স্টলে ছাড়ে ২ হাজার ৮৮০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে মিলছে ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা। আছে এক মুখ, দুই মুখ, এমনকি তিন মুখের গ্যাসের চুলাও। এক মুখের গ্যাসের চুলা ২ হাজার ৬১০ টাকা, দুই মুখের চুলা ২ হাজার ২৫০ থেকে ৫ হাজার ৫৮০ টাকা আর তিন মুখের চুলার দাম ৭ হাজার ৪৫০ টাকা।

হাতে ফুটিয়ে তোলা নকশায় সিরামিকের বাটি, বিভিন্ন শোপিস, ফুলদানি, দেয়ালঘড়ি ইত্যাদি পাবেন ৩ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকায়

ভিনদেশি স্টলের মধ্যে দৃষ্টিনন্দন সব আলোকবাতির জন্য বরাবরই আলাদাভাবে নজর কাড়ে তুর্কিস্তানের দোকান। ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বাতির দাম। আছে বিভিন্ন রঙের ক্রিস্টাল প্লেট—৬টি ছোট ও ১টি বড় মিলে ৭ পিসের এক সেটের দাম পড়বে ৬ হাজার টাকা। ৬টি বাটি আর নকশা করা গোলাকার টিনের ট্রের সেট এক থেকে দেড় হাজার টাকা। তিন থেকে ছয় হাজার টাকায় মিলবে কাচ আর কাঠের ফ্রেমের ট্রে। হাতে ফুটিয়ে তোলা নকশায় সিরামিকের বাটি, বিভিন্ন শোপিস, ফুলদানি, দেয়ালঘড়ি ইত্যাদি পাবেন ৩ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকায়।

ভিনদেশি স্টলের মধ্যে দৃষ্টিনন্দন সব আলোকবাতির জন্য বরাবরই আলাদাভাবে নজর কাড়ে তুর্কিস্তানের দোকান

ইস্তাম্বুল আর কাশ্মীরি কার্পেটের দোকানে মিলবে সিল্ক, উল আর সিনথেটিক কার্পেট। প্রতি বর্গফুট কার্পেটের দাম ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। ২ ফিট বাই ৩ ফিটের কার্পেটের দাম ৬ হাজার টাকা, ১০ ফিট বাই ১৩ ফিট কার্পেটের দাম পড়বে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

ভারতীয় ও পাকিস্তানি জুতার দোকানগুলোয় শোভা বাড়াচ্ছে নাগরা, বিভিন্ন ধরনের চটি, চপ্পল ও স্যান্ডেল। দাম হাঁকছে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। শিশুদের জন্যও আছে নাগরা জুতা, দাম ৫০০ টাকা। ভারতীয় শীতপোশাকের দোকানে শালের উপস্থিতি চোখে পড়ে বেশি। কাশ্মীরি শাল আছে ২ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা। কম্ফোর্টার পাবেন ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, ফাইবার বালিশ ৫০০ টাকা, বেডশিট ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।

মেলায় ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে ব্লেজারকে ঘিরে থাকে বেশ কয়েকটি দোকান

মেলায় ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে ব্লেজারকে ঘিরে থাকে বেশ কয়েকটি দোকান। নানা রং-বৈচিত্র্যের সঙ্গে আছে চেক ও প্রিন্টের ব্লেজার ও কোটির সংগ্রহ। ব্লেজারের দাম শুরু ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে, কোটি ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে। এ ছাড়া মিলবে ৩৫০ টাকা থেকে বিভিন্ন দামের আরামদায়ক লুঙ্গি।

মেয়েদের পোশাকের মধ্যে থ্রি–পিস ৫৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা

মেয়েদের পোশাকের মধ্যে থ্রি–পিস ৫৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা। ফলের খোসা ও সবজির মতো প্রাকৃতিক উপাদান থেকে নেওয়া রঙে ছোপানো কাপড়ের থ্রি–পিস পাবেন ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায়। একসঙ্গে কয়েকটি সেট কিনলে আছে বিশেষ ছাড়। শাড়ির মধ্যে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ৭৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা। জামদানি ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৬৫ হাজার টাকায়। পাকিস্তানি খাদি কাপড়ের শাড়ি মিলবে ১ হাজার ৭৫০ টাকায়।

সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ছাড় নিয়ে মেলায় উপস্থিত হয়েছে দুরন্ত সাইকেল। মেলায় শিশুপার্কের পাশেই এর অবস্থান। পরিচালক আমির হোসেন জানান, শিশুদের সাইকেলের চাহিদাই মূলত বেশি। শিশুদের সাইকেল বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকায়। বড়দের সাইকেল বিক্রি হচ্ছে ১৪ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার টাকায়। প্যাডেলে তো সাইকেল চলেই, এবার বৈদ্যুতিক চার্জেও চলবে। ৭৬ হাজার টাকার এই ইউরোপিয়ান প্যাডেল অ্যাসিস্ট ইলেকট্রিক সাইকেলের দাম মেলায় ৫৫ হাজার টাকা।

সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ছাড় পাওয়া গেছে দুরন্ত সাইকেলের স্টলে

পাশেই আরএফএলের স্টলে মিলছে শিশুদের বিভিন্ন খেলনাসামগ্রী। আছে স্কুটি ১ হাজার ৬৯০ টাকা, টানেল ১৫ হাজার টাকা, হর্স রাইডার ১ হাজার ৩৫০ টাকা, বিল্ডিং ব্লক ১ হাজার টাকা, ওয়াকার ২ হাজার ৪৭৫ টাকা, রক রাইডার ৩ হাজার ৯৯৫ টাকা। বাইক ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। গাড়ি ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। দোলনা, স্লাইডার ও বাস্কেটবলের সমন্বয় পাবেন ১২ হাজার ৩৫০ টাকায়।

আরএফএলের স্টলে মিলছে শিশুদের বিভিন্ন খেলনাসামগ্রী

গৃহস্থালি পণ্যের মধ্যে অ্যাক্রিলিক ফাইবারের তৈরি রঙিন তৈজসপত্র যে কারও নজর কাড়তে বাধ্য। প্লেট, হাফ প্লেট, কোয়ার্টার প্লেট, স্যুপ–তরকারির বাটি, ফ্রুট বোল, ট্রে থেকে শুরু করে আছে খাতায় দাগ টানার স্কেলও। আকারভেদে প্লেটের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, বাটি ৫০ থেকে ২০০ টাকা, ট্রে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, ফ্রুট বোল ৭০০ টাকা, ভাতের বোল ১ হাজার ৫০০ টাকা।

দেশের ২৮টি জেলখানার বন্দীদের বানানো ৪০০–এর বেশি পণ্য এখানে বিক্রি হচ্ছে

‘বন্দীদের উৎপাদিত পণ্য কিনুন, বন্দী পুনর্বাসনে সহায়তা করুন’—এই স্লোগান নিয়ে এবারও মূল প্রদর্শনী কেন্দ্রের বাইরে বসেছে বাংলাদেশ জেল কারা পণ্যের দোকান। মাদারীপুর জেলা কারাগারের কারারক্ষী হাসান আলী জানান, দেশের ২৮টি জেলখানার বন্দীদের বানানো ৪০০–এর বেশি পণ্য এখানে বিক্রি হচ্ছে। আছে বাঁশ–বেতের মোড়া, কুলা, চালুনি, চেয়ার, ফলের ঝুড়ি, ঢাকনা, ঝাড়ু, নাটাই, ডুগডুগি ও একতারার মতো বাদ্যযন্ত্র।

আছে পাটের ব্যাগ, পাটের দোলনা, টিস্যু বক্স, মাদুর, শোপিস, মেহগনি, কাঁঠাল ও শাল কাঠ থেকে বানানো চামচ, ডাল ঘুঁটনি, হ্যাঙ্গার, টুল, ভর দিয়ে চলার লাঠি, বসার পিঁড়ি, পিঠা বানানোর বেলন, রুটি বানানোর যন্ত্র, বুকশেলফ, ক্যারম বোর্ড, টি টেবিলসহ নানা আসবাবপত্র। লোহার তৈরি আলনা, দোলনা ও জুতার র‍্যাক। পোশাকের মধ্যে আছে শার্ট, টি-শার্ট, কোট, শাল, চাদর, ব্লেজার, ট্রাউজার, লুঙ্গি, গামছা, থ্রি–পিস ও জামদানি শাড়ি। ৪৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকার মধ্যে আছে চামড়ার জুতাও। আছে কুশন কাভার, পাতলা কম্বল, বিছানার চাদর, নকশিকাঁথাসহ সংগ্রহ করার আরও অনেক কিছুই।

পাটের নানা পণ্য

আছে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের স্টল। বিক্রীত পণ্যের অর্থ যাবে জুলাই পুনর্বাসন সহায়তাকেন্দ্রে। আছে জুলাই শহীদদের নাম খোদাই করা কাঠের ক্রেস্ট, জুলাই ক্যালেন্ডার, টুপি, কোট পিন, ঘড়ি, গ্রাফিতির বই, মিমস ও কমিকস বই, পাটের ব্যাগ, পতাকা।

জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের স্টল

শিশুদের বিনোদনের জন্য আছে শিশুপার্ক। টয়ট্রেন, নাগরদোলা, বুট রাইড, হেলিকপ্টার রাইডসহ প্রতিটি রাইডের টিকিটের মূল্য শুরু ১০০ টাকা থেকে।

শিশুপার্কের শেষ মাথায় আছে সরাসরি তুরস্ক থেকে আসা ছয় শেফ দ্বারা পরিচালিত ‘টার্কিশ রেস্তোরাঁ’। মেলায় ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করে ক্লান্ত দেহে ফেরার আগে এখানে এসে নিতে পারেন টার্কিশ কাবাবের স্বাদ। দাম ২০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

শিশুদের বিনোদনের জন্য আছে শিশুপার্ক

মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। সাপ্তাহিক ছুটির দিন—শুক্র ও শনিবার খোলা থাকে রাত ১০টা পর্যন্ত। মেলায় যাতায়াতের জন্য আছে বিআরটিসির দোতলা শাটল বাসের বিরতিহীন বিশেষ সার্ভিস।

তুরস্ক থেকে আসা ছয় শেফ দ্বারা পরিচালিত টার্কিশ রেস্তোরাঁ

খামারবাড়ির নিকটবর্তী টিঅ্যান্ডটি মাঠের সামনে থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত ভাড়া জনপ্রতি ৭০ টাকা আর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ৪০ টাকা। মেলায় প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা। ৪ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।

ভিড় এড়িয়ে অনলাইনে টিকিট কাটার সুযোগও আছে। অনলাইনে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টিকিট কাটতে যেতে হবে ২৪ থেকে ২৮ নম্বর টিকিট কাউন্টারে। আর কোনো প্রকার লাইনে না দাঁড়িয়েই ১০ শতাংশ ছাড়ে টিকিট কাটতে ডাউনলোড করুন DGePay অ্যাপ। এ ক্ষেত্রে মুঠোফোনের ইন্টারনেট ফুরিয়ে গেলেও সমস্যা নেই আছে ফ্রি ওয়াই–ফাই সুবিধা।

তবে আর দেরি কেন, হাতে সময় নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন একদিন।