
জামদানির দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই কিনতে পারেন না। তবে চাইলে ঈদের সময় জামদানি কিনতে পারবেন কিস্তিতে।
ইতিহাসের পাতায় কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র থেকে ইবনে বতুতার ভ্রমণবৃত্তান্ত—বাংলার সূক্ষ্ম বস্ত্রের উল্লেখ বারবার এসেছে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মসলিন যেমন খ্যাতি পেয়েছিল, তেমনি তার উত্তরসূরি হিসেবে নান্দনিক নকশার রাজকীয় শাড়ি জামদানি আজও নিজস্ব মর্যাদা ধরে রেখেছে।
শীতলক্ষ্যার তীরবর্তী রূপগঞ্জ এবং নোয়াপাড়া আজও জামদানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র—এই তিন নদ-নদীর মধ্যবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলে উৎপন্ন হতো বিশেষ মানের তুলা, যা দিয়ে তৈরি হতো মসলিন ও জামদানি বস্ত্র।
শাড়িপ্রেমীদের আলমারিতে একটি জামদানি থাকবে না, এ যেন ভাবাই যায় না। তবে দাম শুনে অনেকেই কিনতে দ্বিধায় পড়েন। মূলত সুতার সূক্ষ্মতা ও কাজের ঘনত্বের মানের ওপর জামদানির দাম নির্ধারিত হয়।
এর সঙ্গে যুক্ত থাকে সুতার উৎপাদন খরচ, মূল্যবৃদ্ধি, দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ বয়নপ্রক্রিয়া এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক বিষয়। ফলে সাধ থাকলেও অনেক সময় হাতে বোনা মিহি জমাট কাজের একটি জামদানি কেনা হয়ে ওঠে না।
বাজারে ৬০/৮০ কাউন্ট (আঁচলে ৮০ কাউন্ট, জমিনে ৬০ কাউন্ট) বা শুধু ৬০ কাউন্টের জামদানি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। তবে ৮০/৮৪ কাউন্টের শাড়িগুলোর দাম বেশ চড়া।
কাউন্ট প্রসঙ্গে কথা হয় ‘রাজনুর জামদানি’র স্বত্বাধিকারী রাজনের সঙ্গে। তিনি জানান, ৬০/৮০ কাউন্টের জামদানি তুলনামূলক মোটা সুতার। এরপর আসে পিওর ৮০ কাউন্ট, যার দাম ১০ হাজার টাকার ওপরে শুরু।
তারপর ৮৪ কাউন্টের জামদানি, যার দাম সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার ওপরে, অনেক ক্ষেত্রে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার শাড়িগুলোও এই শ্রেণিতে পড়ে।
কাউন্ট বলতে মূলত সুতার সূক্ষ্মতা বোঝায়। সুতা যত মিহি, কাউন্ট তত বেশি। যদিও এ নিয়ে কিছু মতভেদ আছে, তবুও হাতে বোনা জামদানির দাম সব সময়ই তুলনামূলক বেশি।
ক্রেতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এখন অনেক অনলাইন শপ কিস্তিতে শাড়ি কেনার সুযোগ দিচ্ছে। প্রবাসী বাঙালি এবং ওপার বাংলার ঢাকাইপ্রেমী ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় একটি প্ল্যাটফর্ম ‘জামদানী রাজ্য’। স্বত্বাধিকারী দিলারা আকতার জানান, দেশের বাইরে থেকে ঈদের অর্ডার আসতে শুরু হয়েছে।
এই প্ল্যাটফর্মের বিশেষ সুবিধা হলো—এখানে কিস্তিতে জামদানি কেনা যায়। ১০ হাজার টাকার ওপরে সব শাড়িতেই আছে দুই থেকে ছয় মাসের কিস্তি পরিশোধের সুযোগ।
দিলারার ভাষায়, ‘আমাদের জামদানির রাজ্যে সবার জন্যই ইনস্টলমেন্ট সুবিধা আছে। সবচেয়ে বেশি সাড়া পাই চাকরিজীবী আপুদের কাছ থেকে, তবে শিক্ষার্থীরাও আছেন।’
ঈদ উপলক্ষে অফার প্রসঙ্গে দিলারা বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহেই নতুন কোনো না কোনো অফার থাকছে, পাশাপাশি সারা দেশে ফ্রি হোম ডেলিভারি আছে।’
আরও অনেক অনলাইন শপেই এখন কিস্তিতে জামদানি পাওয়া যায়। তবে কেউ কেউ শুধু নিয়মিত গ্রাহকদের ক্ষেত্রেই এই সুবিধা দেন। আবার কিছু অনলাইন শপ কিস্তির সম্পূর্ণ টাকা শোধ হওয়ার পরেই শাড়ি ডেলিভারি দেয়।
প্রথমে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিয়ে বুকিং করে তিন থেকে ছয় মাসের কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করতে হয়; জানান, ‘পালং খ্যিয়ং’ এবং ‘জুয়েল জামদানি’র স্বত্বাধিকারী।
এভাবেই কিস্তি সুবিধায় ঐতিহ্যের জামদানি ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে মধ্যবিত্তের আলমারিতেও।