দুই শতাধিক দোকান নিয়ে গড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়ার সমবায় নিউমার্কেটে সুলভ মূল্যে পাবেন শিশুদের পোশাক।
শিশুদের পোশাক কেনার নির্ভরযোগ্য এক গন্তব্য নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়ার সমবায় নিউমার্কেট। দুই শতাধিক দোকান নিয়ে গড়ে ওঠা এই বাজারের একটা বড় অংশই দখল করে আছে শিশুদের পোশাকের দোকান।
চাষাঢ়ার মার্কেটগুলোতে রয়েছে শিশুদের পোশাকের চোখধাঁধানো সংগ্রহ। গরমের কারণে সুতি কাপড়ের পোশাকের চাহিদাই এখন বেশি। ছেলেশিশুদের জন্য রয়েছে হরেক রকমের কার্টুনের প্রিন্টের সুতি গেঞ্জি, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, ব্লেজার, প্রিন্স কোট, গ্যাবার্ডিন, জিনস প্যান্ট, হাফ প্যান্ট ও ট্রাউজার। আছে আরামদায়ক রাম্পার, যেখানে এক সেটেই থাকছে মাথার ক্যাপ, গায়ের জামা ও পরনের প্যান্ট।
মেয়েশিশুদের জন্য থাকছে সুতি ও লিনেনের তৈরি নানা নকশার ফ্রক, টপ, থ্রি–পিস, লেগিংস, প্লাজো এবং স্কার্ট। উৎসব-পার্বণের জন্য জমকালো জর্জেট বা নেটের পার্টি গাউন, লেহেঙ্গা ও ফ্যান্সি ড্রেসও চোখে পড়ে। এই মার্কেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্য নবজাতকদের জন্য নিটেড কটন বা গেঞ্জি কাপড়ের সেট, ইনারওয়্যার এবং সুতি প্যান্ট।
চাষাঢ়া মোড়ের সমবায় নিউমার্কেট থেকে শুরু করে থানা পুকুরপাড় কিংবা সান্ত্বনা মার্কেট—যেদিকেই চোখ যায়, শিশুদের হরেক রকমের পোশাকে রঙিন হয়ে আছে চারপাশ। এখানকার মূল চালিকা শক্তি হলো স্থানীয় উৎপাদন বা লোকাল ম্যানুফ্যাকচারিং। সমবায় নিউমার্কেটে ৩০ বছর ধরে শিশুদের পোশাকের ব্যবসা করছেন পানামা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী রাজু চৌধুরী।
তিনি জানান, ‘চাষাঢ়ায় কারখানা ও পাইকারি মার্কেট কাছাকাছি হওয়ায় আমাদের পরিবহন খরচও কম পড়ে। তাই খুব কম দামে পোশাক বিক্রি করতে পারি। বিপরীতে, ঢাকা বা দূরের মফস্সল থেকে খুচরা বিক্রেতারা পোশাকের খোঁজে এলে তাঁদের পরিবহন খরচ বেশি পড়ে যায়। ফলে দামটাও তাঁদের এলাকায় সমানুপাতিক হারে বাড়ে।’
রাজু চৌধুরী জানান, ‘শুধু চাষাঢ়ার মানুষই নয়, এখানে পোশাক কিনতে সাইনবোর্ড, চিটাগাং রোড থেকে শুরু করে গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর এমনকি মতলব থেকেও আসেন ক্রেতারা। দেশের বাইরে থেকেও ক্রেতারা পোশাক কিনে নিয়ে যান। টাকার পাশাপাশি ডলারেও পোশাক বিক্রি হয় তখন।’
মিথী গ্যালারির স্বত্বাধিকারী জুবায়ের সরকার বলেন, শাড়ি ছাড়া শিশুদের সব রকমের পোশাকই এখানে মিলবে। ন্যায্যমূল্যে কেনাকাটার সুযোগ মিলে বলে সমাজের সব স্তরের মানুষই এখানে আসেন।
বাজার ঘুরে দেখা গেল শিশুদের বয়স ও কাপড়ের মানের ওপর পোশাকের দাম নির্ভর করে। সুতি কাপড়ের মধ্যে বয়সভেদে শূন্য থেকে শুরু নবজাতক শিশুদের পোশাক মিলছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকায়। ১ থেকে ২ বছর বয়সী শিশুদের পোশাকের দাম ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের পোশাক ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, মেয়েশিশুদের থ্রি পিস মিলছে ১ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। সুতি ফ্রক ও স্কার্ট ৪০০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা।
শর্ট টপ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, লং টপ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। একটু জমকালো পার্টি গাউন বা ফ্যান্সি ড্রেসের দাম ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। ছেলেদের সুতি কাপড়ের টি-শার্টের দাম ১৫০ টাকা থেকে শুরু। শার্ট ও ফতুয়া ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। কটিসহ শার্ট ১৫০০ টাকা। জিনস বা গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা। গেঞ্জি ও প্যান্টের সেট ৬৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকার প্রধান মার্কেটগুলো সাধারণত শুক্রবার বন্ধ থাকে। তবে ঈদ, পূজা বা বড় কোনো উৎসবের আগে এই নিয়ম খাটে না; তখন সপ্তাহের সাত দিনই বাজার খোলা থাকে, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
ঢাকার গুলিস্তানের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ পাশ থেকে উৎসব, বন্ধন অথবা বিআরটিসি বাসে চেপে সরাসরি যেতে পারবেন নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায়। জনপ্রতি ভাড়া নন-এসিতে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা আর এসিতে ৭০ টাকা। অন্যদিকে আসাদগেট-ধানমন্ডি-কলাবাগান-নিউমার্কেট হয়ে আসতে চাইলে চড়তে পারেন মৌমিতা বাসে। এখানেও ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
যেতে পারেন ট্রেনে চড়েও। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়াগামী ‘নারায়ণগঞ্জ কমিউটার’ ট্রেনের টিকিটের মূল্য মাত্র ২০ টাকা। এই রুটের ট্রেনগুলোতে নির্দিষ্ট কোনো আসন সংরক্ষিত থাকে না। টিকিট কাউন্টার থেকেই কাটতে হয়, অনলাইনে এই রুটের টিকিট মেলে না। ট্রেনে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া পৌঁছাতে সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগে।