অভ্যাস আমাদের জীবনে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে বলা হয়, মানুষ অভ্যাসের দাস। ভালো অভ্যাস যেমন সফলতার চাবিকাঠি, ঠিক তেমনই খারাপ অভ্যাস সফলতা থেকে অনেকটা দূরে ঠেলে নিয়ে যায়। এমনই সাত অভ্যাস (পড়ুন বদভ্যাস) সম্পর্কে জানিয়েছে ভারতীয় অনলাইন ম্যাগাজিন ‘ইনভেস্টিং ফিউশনস’। আপনারাও জেনে নিন।
১. আলস্যে সময় কাটানো
বলা হয়, আলস্য পরম শত্রু। আলস্যে সময় কাটানো বা সময় অপচয় করা মানে হলো জীবনেরই অপচয়। তাই নিরর্থক কাজে সময়ের অপচয় বন্ধ করুন। প্রয়োজনে মোবাইলের টাইমার চালু করে কাজ শুরু করুন। কাজের গতি ঠিক রাখুন। সাধারণত কাজের শুরুর স্পিডটাই আপনাকে প্রেরণা জোগাবে। আর কাজটি দীর্ঘ সময় ধরে করতে সাহায্য করবে।
২. তুলনা করা
বিশ্বাস করুন, পৃথিবীতে কারও সঙ্গে কারও কোনো তুলনা হয় না। প্রত্যেক মানুষ, তাঁদের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা, চিন্তার জগৎ ভিন্ন। তুলনা জিনিসটা আপনাকে হতাশা ছাড়া আর কিছুই দেবে না। অন্যের সঙ্গে তুলনা আপনার জীবনকে বিফলে নিতে পারে। অনেক মানুষই আপনার চেয়ে এগিয়ে কিংবা আপনার চেয়ে ভালো পরিস্থিতিতে থাকবে। তুলনা করে নিজেকে ছোট করবেন না। মনে রাখবেন, আপনি কোনো বস্তু নন, মানুষ।
৩. কাজের চেয়ে ভাবনা বেশি
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আমাদের ভেতরের ইতিবাচকতাকে খেয়ে ফেলে। স্পিরিট নষ্ট করে। আমাকে এই কাজটি করতেই হবে, কাজটি করার বদলে আপনি কি ভাবেন বেশি? যদি কিছু করতেই হয়, তবে আজই শুরু করুন। কিংবা আপনার ‘টু ডু’ তালিকায় সেই কাজটি এখনই যোগ করুন। মানসিক শক্তি অপচয় করা বন্ধ করুন। মন ফুরফুরে রাখুন। আত্মবিশ্বাস রাখুন।
৪. নিখুঁত হতে চাওয়া
নিখুঁত বলে কিছুই নেই। ‘পারফেক্ট’–এর ধারণা আপনার মনের ভেতর বিদ্যমান। বাইরে নেই। ‘পারফেক্ট’ কিংবা নিখুঁত হতে চাওয়া সময় আর শক্তির অপচয়মাত্র।
৫. দায়িত্ব নেওয়ার বদলে দোষারোপ
বলা হয়, ‘ম্যান ইজ দ্য আর্কিটেক্ট অব হিজ ওউন সাকসেস অ্যান্ড মিজারি’ অর্থাৎ মানুষের জীবনের সফলতার কৃতিত্বও যেমন তাঁর, দুর্দশার দায়ভারও তাঁর। নিজের পরিস্থিতির জন্য অন্যকে দোষারোপ করা বন্ধ করুন। আপনি হাল ছেড়ে না দিয়ে এগিয়ে যান। দায়িত্ব পালন করা মানে আপনার নিজের সক্ষমতা নিজের কাছে ফিরে পাওয়া।
৬. ‘আটকে গেছি’ ভাবা
হ্যাঁ, কখনো কখনো আমরা রাস্তায় চলার পথে বাধার সম্মুখীন হই। আর প্রতিটি সমস্যার একাধিক সমাধান আছে। এটা আমাদের মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। সব সময়ই বাধা উতরে যাওয়ার উপায় হিসেবে অন্য রাস্তা থাকেই। যখন জীবনে চলার পথে আপনি আপনার সামনে পথ দেখতে পাবেন না, তখন আপনি মনকে স্থির করুন। ভিন্নভাবে ভাবুন। জীবনযুদ্ধে এগোতে গিয়ে বিভিন্ন পরিস্থিতির শিকার হবেন। এ সময় বুঝেশুনে ঝুঁকি নিন, কাজে সক্ষমতা অর্জন করুন।
৭. অন্যরা কী বলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ
যদি অন্য মানুষ কী ভাববে, এটি মাথায় নিয়ে কাজ স্থগিত রাখেন, তবে আপনি কাজে সক্ষমতা হারালেন। আর অন্যরা কী ভাববে—এ ব্যাপারে যদি পরোয়া না করেন, তবেই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে সফলতার সুখবর। মনে রাখবেন, আপনি কোনো দিন সবাইকে সুখী রাখতে পারবেন না। তাই সেই ভাবনাকে সবার আগে বিদায় দিন।