বেড়ানো

হাই সাংহাই!

.

সাংহাই বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি ছুটছে মূল শহরের দিকে। বড় সড়কের পাশে উঁচু উঁচু পিলারের ওপর রেললাইন। হঠাৎ পাশে তাকিয়ে দেখি সাঁই সাঁই করে ছুটে চলেছে এক ট্রেন। দুরন্ত তার গতি। চালক জানালেন, এটাই ম্যাগলোভ ট্রেন। এই রেলগাড়ির কথা আগেই জানি। এটা আক্ষরিক অর্থে ভেসে চলে। রেললাইনের বৈদ্যুতিক চুম্বকের শক্তি ভাসিয়ে নিয়ে যায় ট্রেনটাকে। পৃথিবীতে চীনের সাংহাই শহরেই এই একমাত্র ম্যাগলোভ ট্রেন চলছে নিয়মিত। দুরন্ত গতি দেখেই শুরু হলো চীন-দর্শন।
ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি আপ্ত বাক্য, ‘জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদূর চীন দেশ পর্যন্ত যাও।’ সশরীরে কয়েক বছরের ব্যবধানে দুই দফা চীন ঘুরে সে কথার যুক্তিও খুঁজে পেয়েছি। প্রকৃতি, প্রযুক্তি, দালানকোঠা, রাস্তাঘাট—সবকিছুতেই চীন যেন অনন্য। গ্রেট ওয়াল যেমন আছে, তেমনি রয়েছে গ্রেট ক্যানেলও। বিশাল চীনের একটা অংশজুড়ে এঁকেবেঁকে গেছে এই খাল।

চীনের সবচেয়ে বড় শহর সাংহাই শহরকে দুই ভাগে ভাগ করেছে হুয়াংপু নদী। সেই নদীর এপার-ওপার যোগাযোগ সেতু দিয়ে নয়। সুড়ঙ্গপথে চলাচল শহরের দুই অংশে। রাতের সাংহাইয়ে বড় যে বিষয়টা চোখে পড়ে তা হচ্ছে আলো আর আলো। হুয়াংপু নদীতে ভেসে চলে নানারঙের আলোয় আলোকিত প্রমোদতরী। ভাসমান রেস্তোরাঁও কম নয়। এই নদী তো বটেই পুরো সাংহাই শহর ভালো করে দেখতে হলে ওরিয়েন্টাল পার্ল টিভি টাওয়ারের বিকল্প নেই। এই টাওয়ারের উচ্চতা ১ হাজার ৫৫৩ ফুট। এর ওপরে পর্যটকেরা উঠতে পারেন টিকিট কেটে। কাচেঘেরা গোলাকার (যেটা বাইরে থেকে দেখতে মুক্তার মতো) ঘরটা থেকে পুরো সাংহাই শহরই চোখে পড়ে। এই টাওয়ারের আশপাশের এলাকায় দারুণ সব বহুতল অট্টালিকা। বেশির ভাগই কাচ আর ইস্পাতে মোড়া। রাতে সেগুলো সেজে ওঠে বর্ণিল আলোর ছটায়।
একদিন রাতের এক আয়োজনে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো গ্লাস মিউজিয়ামে। কাচের এক জাদুঘরই বটে। জাদুঘরে ঢুকতেই ময়ূর-পেখম তোলা চীনা সুন্দরী স্বাগত জানান তাঁদের ঐতিহ্যবাহী ধারায়। সেখানে কাচের জাদুকরি সব কায়কারবার দেখা হলো। এখানে কাচে তৈরি নানা পণ্য কিনতেও পাওয়া যায়।

রাতে আলোকিত সাংহাইয়ের উঁচু ইমারত,ওরিয়েন্টাল পার্ল টাওয়ার। ছবি: লেখক

চীনের মহাপ্রাচীর দেখা হয়নি। একবার সাংহাই যাত্রায় কুনমিং, বেইজিং হয়ে যেতে হয়েছিল। কিন্তু সে তো শুধু বিমানবন্দর পর্যন্ত। বেইজিং শহর না দেখা, মহাপ্রাচীরে হাঁটাহাঁটি না করার দুঃখ ভুলল আরেকটা দারুণ জিনিস দেখে। সাংহাইকে বাই বলে প্লেনে উঠেছি। প্লেন উড়তে শুরু করেছে। জানালার পাশে বসেছি। নিচে তাকিয়ে দেখি সাগরের বুক চিরে সরু এক রেখা—যেন অনেক দূর গিয়ে দিগন্তে মিশে গেছে। এটা ডংহাই সেতু। পূর্ব চীনা সাগরে সাড়ে ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সেতু। কীভাবে বানিয়েছে চীনারা? সে এক বিস্ময়। তাই তো চীন দেশ দর্শন আসলেই এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা।