টেস্ট অব ইংলিশ অ্যাজ আ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ, সংক্ষেপে টোয়েফল। ইংরেজি ভাষা দক্ষতার এই পরীক্ষায় ১২০–এর মধ্যে ১১০ স্কোর করেছেন সোহাইব ইবনে মনজু। তিনি জার্মানির আরডব্লিউটিএইচ আখেন ইউনিভার্সিটির ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়ছেন। পড়ুন তাঁর অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকেই টোয়েফল পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। আমার নিজের টোয়েফল দেওয়ার অভিজ্ঞতা প্রায় দুই বছর আগের। তখনকার ফরম্যাটে আমার স্কোর ছিল ১১০। লিসেনিংয়ে পেয়েছিলাম ৩০, রিডিংয়ে ৩০, স্পিকিংয়ে ২৩, আর রাইটিংয়ে ২৭। প্রস্তুতির সময় আমি মূলত টেস্টগ্লাইডারের (একটি এআইনির্ভর পরীক্ষা প্ল্যাটফর্ম) সাবস্ক্রিপশন নিয়ে বিভিন্ন অনুশীলন করেছি, নিয়মিত মক টেস্ট দিয়েছি। তবে টোয়েফলে আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, এটি শুধু ইংরেজি জানার পরীক্ষা নয়; বরং সময়মতো নিজের ভাষাগত দক্ষতা ব্যবহার করার সক্ষমতা, দ্রুত তথ্য বোঝা এবং সঠিকভাবে নিজের ভাবনা প্রকাশ করার দক্ষতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আমার অভিজ্ঞতা পুরোনো ফরম্যাটের হলেও প্রস্তুতির কিছু মূলনীতি এখনো প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে নিজের দুর্বলতা বোঝা, নিয়মিত অনুশীলন করা, ভুল বিশ্লেষণ করা এবং পরীক্ষার কাঠামো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা।
আমার কাছে টোয়েফল প্রস্তুতির প্রথম ধাপ ছিল পরীক্ষাটিকে ভালোভাবে বোঝা। অনেক সময় আমরা শুধু ইংরেজির দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিই। কিন্তু একটি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য পরীক্ষার ধরন, প্রশ্নের কাঠামো এবং সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও ধারণা থাকা প্রয়োজন। আমার মনে হয়, প্রস্তুতির শুরুতেই একটি পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দেওয়া খুব কার্যকর। এতে নিজের বর্তমান অবস্থান বোঝা যায়। কোন অংশে সমস্যা হচ্ছে, কোথায় বেশি সময় লাগছে, কোন ধরনের প্রশ্নে ভুল হচ্ছে, এসব পরিষ্কার হয়ে যায়। টোয়েফলে ভালো করতে হলে শুধু শব্দের অর্থ জানা বা গ্রামার জানা যথেষ্ট নয়। আপনাকে একই সঙ্গে শুনে বুঝতে হবে, পড়ে তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে, দ্রুত নিজের চিন্তা সাজাতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তর দিতে হবে। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আমি চেষ্টা করেছি প্রতিটি অংশকে আলাদাভাবে বুঝতে। কারণ লিসেনিং, রিডিং, স্পিকিং ও রাইটিংয়ের দক্ষতা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও প্রতিটির জন্য আলাদা ধরনের অনুশীলন প্রয়োজন। আমার কাছে প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নিয়মিত অনুশীলন। একদিনে অনেক পড়ার চেয়ে প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে অনুশীলন করা বেশি কার্যকর।
লিসেনিংয়ের ক্ষেত্রে আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল শুধু শব্দ শোনা নয়; বরং মূল বক্তব্য বোঝা। কোনো আলোচনায় বক্তা কী বলতে চাইছেন, তাঁর উদ্দেশ্য কী, কোন তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ, এসব ধরার অভ্যাস তৈরি করা জরুরি। লিসেনিংয়ের সময় প্রতিটি শব্দ মনে রাখার চেষ্টা করলে অনেক সময় মূল বিষয় থেকে মনোযোগ সরে যেতে পারে। বরং বক্তার বক্তব্যের কাঠামো বোঝা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মনে রাখার অভ্যাস বেশি কাজে দেয়। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অডিও শোনার অভ্যাস তৈরি করা যায়। শুরুতে কিছু অংশ কঠিন মনে হলেও নিয়মিত শুনলে কান ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যায়।
রিডিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু দ্রুত পড়তে পারাই যথেষ্ট নয়। একটি লেখার মূল বক্তব্য, লেখকের উদ্দেশ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বুঝতে পারা প্রয়োজন। রিডিংয়ে ভালো করার জন্য আমি চেষ্টা করেছি শুধু উত্তর খোঁজার পরিবর্তে পুরো লেখাটির কাঠামো বুঝতে। কোন তথ্য কোথায় আছে, লেখক কীভাবে যুক্তি সাজিয়েছেন, এসব বিষয় লক্ষ করেছি। প্রস্তুতির সময় আনুষ্ঠানিক উপকরণকে খুব গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ, পরীক্ষার প্রশ্নের ভাষা, ধরন ও কাঠামো বোঝার জন্য মূল উৎসের উপকরণ সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। ভুল হলে শুধু সঠিক উত্তর দেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত নয়। কেন ভুল হয়েছে, সেটি বোঝা জরুরি। শব্দ না বোঝার কারণে ভুল হয়েছে, নাকি তথ্য বিশ্লেষণে সমস্যা হয়েছে, নাকি তাড়াহুড়া করার কারণে ভুল হয়েছে, কারণটি চিহ্নিত করলে উন্নতি করা সহজ হয়।
স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলা। অনেকেই ইংরেজি বুঝতে পারেন, কিন্তু কথা বলার সময় আত্মবিশ্বাসের অভাব বোধ করেন। শুধু পরীক্ষার জন্য উত্তর মুখস্থ না করে নিজের চিন্তা প্রকাশ করার অনুশীলন করতে হবে। স্পিকিংয়ে অনেক সময় দ্রুত চিন্তা করে উত্তর দিতে হয়। তাই পুরো বাক্য মুখস্থ করার চেয়ে ছোট ছোট অংশে ভাবনা সাজানোর অভ্যাস বেশি কার্যকর। কোনো কথা বলার সময় সবকিছু নিখুঁত করার চেষ্টা করতে গিয়ে থেমে গেলে সমস্যা হতে পারে; বরং পরিষ্কারভাবে নিজের বক্তব্য এগিয়ে নেওয়া এবং স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের কথা রেকর্ড করে পরে শুনলে অনেক বিষয় ধরা পড়ে। কোথায় বেশি বিরতি হচ্ছে, কোন শব্দ বারবার ব্যবহার করছি, উচ্চারণে কোনো সমস্যা আছে কি না, এসব সহজে বোঝা যায়। আমার মনে হয়, ভালো স্পিকিংয়ের জন্য শুধু ইংরেজি শেখা নয়; বরং নিয়মিত ইংরেজি শোনা, পড়া এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল পরিষ্কারভাবে নিজের ভাবনা প্রকাশ করা। ভালো লেখা মানেই কঠিন শব্দ ব্যবহার করা নয়; বরং সঠিক গ্রামার, পরিষ্কার বাক্য এবং যুক্তিসংগত উপস্থাপন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাইটিংয়ে ভালো করতে হলে নিয়মিত লেখার অভ্যাস করতে হবে। কোনো বিষয় নিয়ে নিজের মতামত লেখা, বিভিন্ন ধরনের লেখা পড়া এবং নিজের ভুলগুলো খুঁজে বের করা প্রয়োজন। ভালো রাইটিংয়ের জন্য বাক্যের গঠন, গ্রামার এবং শব্দ ব্যবহারের দিকে মনোযোগ দিতে হয়। একটি বাক্য যেন পরিষ্কার হয় এবং পাঠক সহজে বুঝতে পারেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতির শেষ দিকে মক টেস্ট আমার জন্য খুব কার্যকর ছিল। তবে মক টেস্ট শুধু স্কোর দেখার জন্য নয়। প্রতিটি পরীক্ষার পর বিশ্লেষণ করা জরুরি। কোন জায়গায় ভুল হলো, কেন হলো, কোথায় সময় বেশি লাগল, কোন দক্ষতা আরও উন্নত করা দরকার, এসব বিশ্লেষণ করলে প্রস্তুতি আরও কার্যকর হয়। আমার মনে হয়, শেষ সময়ে নতুন নতুন রিসোর্স খোঁজার চেয়ে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো ঠিক করার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
শেষ পর্যন্ত টোয়েফল প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, অন্য কারও প্রস্তুতির পদ্ধতি হুবহু অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। নিজের অবস্থান বুঝে নিজের জন্য কার্যকর একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। নিয়মিত অনুশীলন, ভুল থেকে শেখা এবং ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর মধ্য দিয়েই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।