বাংলাদেশের মানুষকে খুব সহজেই তিনটি দলে ভাগ করে ফেলা যায়। এক দল আর্জেন্টিনার সমর্থক, এক দল ব্রাজিলের সমর্থক, আর তৃতীয় দল এই দুই দেশের একটিকেও সমর্থন করে না।
ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে আর্জেন্টিনা-বিদ্বেষ আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে ব্রাজিল-বিদ্বেষ দেখা যায় হামেশাই। এই যেমন শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার করা গোলটি উদ্যাপন করেছিলেন কিছু ব্রাজিল–সমর্থক। আবার কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের বিদায়ের পর হেমন্তের হিম হিম রাতে উত্তপ্ত মিছিল নিয়ে বেরিয়েছিলেন কিছু অতি–উৎসাহী আর্জেন্টিনা–সমর্থক।
ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে উন্মাদনার শেষ নেই। এই লেখা যখন আপনার হাতে, তখন বিশ্বকাপের বিশাল মঞ্চে টিকে আছে দুটি মাত্র দল। দুই দলই শিরোপার দাবিদার। এই দুই দলের একটি আবার আর্জেন্টিনা, বিভক্তির মূল যেখানে। ফাইনাল ম্যাচের আগে হঠাৎই এ দেশে ফ্রান্সের সমর্থক বেড়ে গেছে। প্রিয় দলের জয় উদ্যাপনে সবাই মিলে খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ার মতো ‘সুস্বাদু’ উদ্যাপনের সংবাদে অবশ্য ভালোই লাগে।
চাই পরিমিতি বোধ
শেষ বাঁশিতে আজ রাতে বিশ্বকাপের মঞ্চটাকে বিদায় জানানো হবে। সুখ-দুঃখের আবেগে ভাসবেন খেলোয়াড়-সমর্থকেরা। খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই, থাকবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দ্বৈরথও। তবে এ দ্বৈরথ যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়, দেশের মানুষের মধ্যে যেন সত্যিকারের বিভেদ তৈরি হয়ে না যায়। মিছিল, পাল্টা মিছিলের সংস্কৃতি কখনোই খুব একটা সুস্থ মানসিকতার পরিচয় দেয় না। তা ছাড়া উদ্যাপনের ক্ষেত্রে পরিমিতি বোধ বজায় রাখাটাও প্রত্যেকেরই সামাজিক দায়িত্ব।
রাতে বিকট আওয়াজে উদ্যাপন না করাই ভালো। ভুভুজেলা বা আতশবাজির মতো সরঞ্জাম এড়িয়ে চলাই সমর্থকের দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক।
কারও প্রতি বিদ্বেষমূলক শব্দ প্রয়োগ করবেন না। হোক তা সামনাসামনি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশেষ করে কারও পরিবারের মা-বাবা কিংবা নারী সদস্যদের প্রতি ইঙ্গিতমূলক শব্দচয়ন থেকে বিরত থাকুন।
জয় হোক ফুটবলের
খেলাধুলা বা স্পোর্টস কেবল আনন্দ-বিনোদনের উৎসই নয়, এখান থেকে শেখার আছে স্পোর্টসম্যানশিপও। মাঠে চোট পাওয়া খেলোয়াড়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন খেলোয়াড়েরা, খেলা শেষে সান্ত্বনার হাতটাও রাখেন পরাজিত সৈনিকের কাঁধে। খেলোয়াড়দের এমন ইতিবাচক আচরণ আমাদের জীবনে প্রতিফলিত হলে তবেই না সমর্থক হিসেবে আমাদের সার্থকতা।